এক কোটির বেশি মানুষের কাছে পৌঁছল ‘দুয়ারে সরকার’

১৫ দিনেই মিলেছে ব্যাপক সাড়া

ব্যাপক সাড়া মিলল ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পে। ১৫ দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে সরকারের এই কর্মসূচি পৌঁছল এক কোটির বেশি মানুষের কাছে। 

আম-জনতার কাছে সরাসরি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে রাজ্যের ২৩টি জেলায় কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। গ্রামীণ ও পুরসভা এলাকায় প্রশাসনিক শিবিরের আয়োজন করছেন সরকারি আধিকারিকরা। খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, ঐক্যশ্রী, জাতিগত শংসাপত্র, তফসিলি বন্ধু, জয় জোহার, কৃষকবন্ধু, ১০০ দিনের কাজ – এই প্রকল্পগুলির সুবিধা মিলবে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির শিবির থেকে। সরকারি পরিষেবার বিষয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে তা জানানো যাবে।

সাধারণ মানুষের আগ্রহ তাক লাগানোর মতো

দু’মাস ধরে মোট চার দফায় চলছে প্রকল্পের কাজ। ১ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর অবধি প্রথম দফায় আবেদনপত্র জমা দেন ৬৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলছে দ্বিতীয় দফা। যার প্রথম দিনেই সরকারি শিবিরে যান প্রায় ৮ লক্ষ রাজ্যবাসী। এই দফার প্রথম চার দিনের মধ্যে ১০ শতাংশের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে প্রশাসন। তৃতীয় দফায় শিবির বসবে আগামী বছর ২ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৮ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি অবধি শেষ দফা। দ্বিতীয় দফা থেকে শুরু হয়েছে মানবিক প্রকল্প। যার মাধ্যমে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের হাতে পেনশন হিসেবে ১০০০ টাকা করে তুলে দেওয়া হবে। 

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সাধারণ মানুষ বিনা খরচে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ পাবেন। কার্ড দেওয়া হবে গৃহকর্ত্রীর নামে, যার আওতায় থাকবেন পরিবারের বাকি সদস্যরা। মিলবে পরিবার পিছু  ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিত্সার সুযোগ। দুয়ারে সরকার শিবিরে এই প্রকল্পের জন্যই সবথেকে বেশি নাম নথিভুক্ত হচ্ছে।

দু’মাস ধরে মোট চার দফায় চলছে দুয়ারে সরকার প্রকল্প 

উত্তর কলকাতার বাসিন্দা অরুণ পাল (৬৪) বললেন, “স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কোনো তুলনা নেই। সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া যাবে। দুয়ারে সরকারের প্রথম দফাতেই আমি এবং আমার স্ত্রী এই প্রকল্পের জন্য নাম লিখিয়েছি।”

সরকার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রশাসনিক শিবিরে শুক্রবার পর্যন্ত সবথেকে বেশি নাম নথিভুক্ত হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় – ১০,৬৬,২৭০ জন। দ্বিতীয় স্থানে মুর্শিদাবাদ – ১০,১১,৭৭৩ জন। সবথেকে বেশি শিবির হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়, ৬৯৫-এর মধ্যে ৮১টি। ১৮ ডিসেম্বর তারিখে গোটা রাজ্যে নাম লিখেছেন ৬৫৪,৭১৪ জন। সব মিলিয়ে এতদিনে যা পৌঁছেছে ১,০০,৭২,৮০২-তে। এক সরকারি আধিকারিক জানান, “দিন যত এগোবে, তত বাড়বে শিবিরের সংখ্যা”। 

Developed by DXDasia