ভোটের আগে চন্দ্রবাবুর মাস্টারস্ট্রোক। সমর্থন মমতার..
অন্ধ্রপ্রদেশে সিবিআইয়ের কাজকর্মের উপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হল, রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া সিবিআই ঢুকতেই পারবে না অন্ধ্রপ্রদেশে। এর ফলে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হবে সন্দেহ নেই। কিন্তু, এনডিএ ছেড়ে দেওয়ার ফলে, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির রাজনীতিক চন্দ্রবাবু নায়ডু বা তাঁর কোনও আত্নীয় স্বজনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকা সিবিআই যদি কোনও তদন্ত বা তল্লাসি করতে চায়, সেক্ষেত্রে আগাম অনুমতি নিতে হবে চন্দ্রবাবুর থেকেই। সেদিক থেকে এই সিদ্ধান্তকে চন্দ্রবাবুর মাস্টার্ স্ট্রোকই বলা যেতে পারে।
আসলে সিবিআইয়ের খড় বেরিয়ে পড়া চেহারাটাই আরও একটু এলো-মেলো করে দিতে চাইছেন চন্দ্রবাবু নায়ডু। সাম্প্রতিক এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মামলায় তদন্ত, তল্লাসি, গ্রেফতারের জন্য সিবিআইকে যে আগাম অনুমতি অন্ধ্রপ্রদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া ছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। তার মানে দাঁড়াল, সিবিআই অফিসাররা এখন যতবার অন্ধ্রে আসবেন তদন্ত করতে, ততবারই তাদের সরকারের অনুমতি নিতে হবে। চন্দ্রবাবুর এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চন্দ্রবাবু এনডিএ-তে ছিলেন, বেরিয়ে এসেছেন চলতি বছরের শুরুর দিকে, মোদী সরকারে কাজে অখুশি বলে। আরও স্পষ্ট করে বললে, অন্ধ্র থেকে তেলেঙ্গানা নতুন রাজ্য হিসেবে বেরিয়ে যাওয়ার পর মোদী সরকার যে সব আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অন্ধ্রের জন্য, তা পূরণ না করার অভিযোগই এনডিএ-এর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ চন্দ্রবাবুর।
চন্দ্রবাবু বিজ্ঞপ্তি জারি করে যে ভাবে সিবিআইয়ের এক্তিয়ারে বেড়ি পরালেন, সেটা নজিরবিহীন ঘটনা। অতীতে এমন কখনও ঘটেনি। অন্ধ্র সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অতীতে সিবিআইয়ের শীর্ষকর্তাদের যে সব কেলেঙ্কারির কথা সামনে এসেছে, আলোচনা হচ্ছে, তাতে রাজ্যের মানুষের আস্থা নেই এই সংস্থার উপর। ফলে যে সব মামলা সিবিআই দেখছে, সেগুলির যথাযথ নিষ্পত্তি যে সিবিআই করতে পারবে, তা বিশ্বাস করাই কঠিন। সিবিআইকে কার্যত ‘নিষিদ্ধ’ করে, রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখার ক্ষমতাও বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাড়িয়ে দিয়েছেন চন্দ্রবাবু। এর ফলে রাজ্যের এই অ্যান্টি করাপশন ব্যুরোর অফিসাররা প্রয়োজনে রাজ্যের ভিতরে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন অফিসেও তল্লাসি অভিযান চালাতে পারবেন।
সিবিআই বা কেন্দ্র এই ঘটনা সহজে মেনে নেবে না বলাই বাহুল্য। সিবিআই ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার। তবে আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের ব্যাপার, ফলে অনুমতি সাপেক্ষে সিবিআইয়ের রাজ্যে প্রবেশে নিয়ে আদালত কি বলে তা ভবিষ্যতই বলতে পারে। তবে চন্দ্রবাবুর এই সিদ্ধান্ত এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যের তা সমর্থন বিজেপি বিরোধী জোটের একটি বড় পদক্ষেপ, সন্দেহ নেই। অবিজেপি রাজনৈতিক দল শাসিত অন্য রাজ্যগুলিও চন্দ্রবাবুর পথা হাঁটে কি না, সেটার দিকে চোখ থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। রাজ্য-কেন্দ্রের এক্তিয়ার এবং সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে চর্চা শুরু হতে পারে।