আত্মহত্যা প্রতিরোধে নির্ভরযোগ্য হাতের খোঁজ

নিজেকে শেষ করে দেবার আগে একটিবার ভেসে উঠুক কোনো এক উজ্জ্বল হাত বা চোখ…

সব থেকে একা হয়ে যাওয়া কোনও মানুষের চোখের সামনে কি কখনও ভেসে উঠতে পারে  কোনও অপরিচিত, কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য হাত? কথাটা মনে এল আত্মহত্যা প্রসঙ্গে। ১৫ নভেম্বরের খবরের কাগজের খবর, ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায়, উত্তর কলকাতায় বড়তলা স্ট্রিটে একটি পাঁচ তলা বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যান এক বৃদ্ধা (৬২), তাঁর মেয়ে (৩০) এবং তাঁর শিশু নাতনি (২.৫)। বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। কন্যা গুরুতর অসুস্থ, নাতনিকে তার মা বুকে জড়িয়ে রেখেছিলেন, আঘাত লাগেনি তার। কিন্তু তার চোখ বাঁধা ছিল। কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি, তাই পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটাকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছে, তবে কারণ জানার চেষ্টা চলছে। শিশুটির চোখ কেন বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এই ঘটনা যে আত্মহত্যা নয়, তা এখনই জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। বছর ছয়েক আগে দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি আবাসনে একটি ৩৪ তলা বাড়ির ছাদ থেকে মা এবং দুই মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। পরে জানা গিয়েছিল, তাঁরা অবসাদে ভুগছিলেন।

ভারতে বছরে এক লক্ষ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন। রাজ্য হিসেবে এ ব্যাপারে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুর ‘এগিয়ে’ থাকলেও, আমাদের রাজ্য খুব ‘পিছিয়ে’ নেই। আর এই যাঁরা আত্মহত্যা করছেন, এঁদের একটা বড় অংশ ছাত্র-ছাত্রী।http://archive.indiaspend.com/special-reports/a-student-commits-suicide-every-hour-in-india-3-85917

আত্মহত্যা প্রতিরোধে কিছু কিছু হেল্পলাইন আছে দিল্লি, মুম্বাইতে। কিন্তু সেগুলো কতটা সক্রিয়, খোঁজ খবর না করে বলা কঠিন। আমাদের রাজ্যে, একক প্রচেষ্টায় একসময় এরকম হেল্পলাইন তৈরি করেছিলেন কিছু মানুষ। তাঁরা মূলত মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলতেন, ‘তুমি একা নও, কোনও খারাপ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, একবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করো’। তাঁদের এবং আরও অনেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, পরীক্ষা ঘিরে এই ধরনের মর্মান্তিক খবরের স্রোত অনেকটাই ঠেকানো গিয়েছে। এই সাফল্য যাঁদের জন্য তাঁদের কুর্নিশ। কিন্তু আজ সকালের খবরের কাগজ পড়ে মনে হল, একটা সাধারণ হেল্পলাইনের বোধহয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এই কাজে প্রশাসন, পুলিশের সহায়তা নিশ্চয় পাওয়া যাবে, কিন্তু মূল কাজটি করার জন্য দরদি এনজিও চাই। একদিনে হয়তো হবে না, কিন্তু ভাবনাটা শুরু হোক। আত্মহত্যার সঙ্গে একাকিত্ব এবং বেদনার সম্পর্ক আছে। নিজেকে শেষ করে দেওয়ার আগে, যদি চোখের সামনে এরকম কোনও হাতের ছবি ভেসে ওঠে, হয়তো তাঁদের সেই একাকিত্বের মরুভূমিতে কিছু মেঘ নামিয়ে আনা সম্ভব, বৃষ্টিপাতও অসম্ভব নয়। অন্তত ভাবনাটা শুরু হোক।
 

Developed by DXDasia