July 22, 2017 | 12:00 PM

ভাওয়াইয়া গানে সচেতনতার প্রচার শিলিগুড়িতে

উপভোক্তা সচেতনতার জন্য ভাওয়াইয়া গান লিখে তাতে সুর দিয়েছেন উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের শিল্পী সন্তোষ কুমার বর্মণ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়ির শিল্পী জগদীশচন্দ্র রায়। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে রাজ্য সরকারের উপভোক্তা দপ্তরের হয়ে ক্রেতা সচেতনতার প্রচার করছেন তাঁরা। পাশাপাশি, ট্যাবলো নিয়েও শিলিগুড়ির বিভিন্ন হাটেবাজারে ঘুরছেন তাঁরা।

উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হওয়ায় প্রতিদিন বাইরে থেকে প্রচুর লোক আসেন শিলিগুড়িতে। আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যাবসা-বাণিজ্য। বাড়ছে মানুষকে ঠকানোর প্রবণতাও। বহু মানুষ ক্রেতা সুরক্ষা নিয়ে সচেতন নন। ফলে নার্সিংহোমে চিকিৎসা থেকে শুরু করে বেসরকারি ব্যাঙ্ক, শপিং মল সহ বিভিন্ন জায়গায় চলছে অব্যবস্থা। এই অবস্থায় রাজ্যের উপভোক্তা দপ্তরের অধীনে উপভোক্তা বিষয়ক ন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন বিভাগ শিলিগুড়ি শহর থেকে গ্রামে বিভিন্ন ভাবে ব্যাপক প্রচারে নেমেছে। শিলিগুড়িতে দপ্তরের ডেপুটি সহকারি অধিকর্তা রঞ্জুশ্রী স্যাংদেন জানান, ভাওয়াইয়া শিল্পীদের দিয়ে লোকগানের মাধ্যমে তাঁরা উপভোক্তা সচেতনতার প্রচার করছেন। চলছে ‘টকিং ডল শো’-ও। আগামী ৪ আগস্ট ৩০টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে তৈরি হওয়া কনজিউমার ক্লাবের মাধ্যমে শিলিগুড়িতে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা এবং ক্যুইজের আয়োজন করা হয়েছে। রয়েছে নাটক লেখা ও নাটক প্রতিযোগিতাও। ওয়েস্টবেঙ্গল রাইট টু পাবলিক সার্ভিসেস আইন নিয়েও তাঁরা প্রচার করছেন বলে জানান রঞ্জুশ্রী স্যাংদেন। আরও বলেন, সব হাটবাজারে গিয়ে গানের মাধ্যমে লোক জড়ো করা হচ্ছে। তারপর সেখানে শিবির করে নানা অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। অভিযোগের নিষ্পত্তিও করা হচ্ছে যথাসাধ্য। প্রতি মাসে আশি থেকে নব্বই শতাংশ অভিযোগের মামলা ওই দপ্তর থেকে আলোচনার মাধ্যমে মিমাংসা করা হচ্ছে। কয়েকটি স্কুলের ছেলেমেয়েরা উপভোক্তা সচেতনতার কথা বলছে। তারা বলছে, কিছু কেনার সময় বিক্রেতার কাছ থেকে রসিদ নেওয়া, ওজনে ঠকানো হলে তার প্রতিবাদ করে উপভোক্তা দপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন যে-কেউ। এমআরপি-র থেকে দাম বেশি নেওয়া, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করার বিষয় দেখলেও কেউ অভিযোগ জানাতে পারেন।