
পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে জোর কদমে চলছে কোভিড -১৯ প্রতিষেধক প্রদান কর্মসূচী। আজ অর্থাৎ সোমবার কোভিশিল্ড প্রদান প্রক্রিয়া ভালো ভাবেই সম্পন্ন করতে চলেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর, তা-ই আজই রাজ্যে প্রতিষেধক কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে চাইছে না তারা। পরিবর্তে, প্রতিটি প্রতিষেধক কেন্দ্রেই ১০০ শতাংশ গ্রাহকই যাতে প্রতিষেধক নেন, সেদিকেই জোর দিচ্ছে দফতর।
শনিবার প্রথম দিনে ১৫ হাজার ৭০৭ জন (৭৫.৯ শতাংশ) জন প্রতিষেধক নিয়েছিলেন। কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও নগর (আরবান) প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ২০টি কেন্দ্রে ৯২ শতাংশ গ্রাহক প্রতিষেধক নিয়েছিলেন। সেখানে আজ প্রতিটি জায়গাতেই ১০০ জন গ্রাহকের সকলেই যাতে ভ্যাকসিন পান, তাতেই জোর দিচ্ছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২০৭টি কেন্দ্রে চলবে প্রতিষেধক প্রদান। প্রথম দিন দার্জিলিং জেলার পাঁচটি কেন্দ্রে ৫০০ জনের মধ্যে ৪৯৮ জন টিকা নিয়েছেন। সাফল্য ধরে রাখতে তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের আলাদা করে ফোন করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের ৪টি কেন্দ্রেই প্রথম দিনে ১০০ জনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। এই জেলা এ বার তাই কেন্দ্র পিছু ১২০ জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, যাঁরা কেন্দ্রে আসতে দোনোমোনো করছিলেন, তাঁদের গাড়ি পাঠিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। তা ছাড়া, দ্বিতীয় তালিকাও তৈরি ছিল। ফলে, কোথাও একজন টিকা না-নিলেও তক্ষুণি সেই শূন্যস্থান পূরণ করা গিয়েছে।
‘ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে’ ২০১৯-২০(এনএফএইচ-৫)-এর সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাজ্যের গণ-প্রতিষেধক কর্মসূচির সাফল্যই কোভিড -১৯ প্রতিষেধক প্রদানকে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, রবিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬৫ জন। এই নিয়ে রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৭২। শনিবার ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬০৯। এই মুহূর্তে রাজ্যে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৮৩। সব মিলিয়ে রাজ্যে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ এখনও নিম্নমুখীই রয়েছে।
