July 12, 2017 | 12:00 PM

ভালোবাসার সঙ্গী কুকুর

শিলিগুড়ির ইস্টার্ন বাইপাসের ধারে পথের কুকুরদের নিয়ে আশ্রম খুলেছেন পশুপ্রেমী শ্যামা চৌধুরী। পুরসভার দেওয়া এক চিলতে জমিতেই কয়েক মাস আগে টিনের শেড দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সেই আশ্রম। ‘হাউস অফ আনিম্যাল লিঙ্ক অরগানাইজেশন’ বা ‘হ্যালো’র তরফেই এই প্রয়াস। এখন সেখানে ২৮টি পথ কুকুর রয়েছে। কুকুরগুলোর অনেকগুলিই বৃদ্ধ। কেউ আবার অসুস্থ। কাউকে তার মনিব হঠাৎ বাড়ির ছাদ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ায়, অসুস্থ। কাউকে আবার দুষ্কৃতীরা কুপিয়েছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে। এদের সকলকে সারিয়ে তুলতেই এই আশ্রম। সকালে শ্যামাবাবু রোজ ওদের জন্য মাংস ভাতের ব্যবস্থা করেন। মাঝখানে বিস্কুট, রুটি। প্রতিমাসে টিকা দেওয়া, এআরভি দেওয়া, ভিটামিনের বন্দোবস্ত করে দেওয়া। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয় পশু চিকিৎসক এনেও।

কিন্তু, এই দেশি কুকুরদের মেনে চলতে হচ্ছে কিছু নিয়মও। নিয়ম ভাঙা বলতে, খাবারের সময় মারামারি করলে প্রথমে হলুদ কার্ড, তারপর লাল কার্ড দেখানো হয়। শ্যামাবাবুর কথায়, লাল কার্ড মানে কেউ বারবার খাবার সময় অন্য কুকুরদের আক্রমণ করলে তাকে আশ্রমের বাইরে দুই মাসের জন্য বের করে দেওয়া হয়। দুই মাস পর ওদের আবার আশ্রমে ফিরিয়ে আনা হয়, দেখা হয় ওদের মধ্যে কোনও পরিবর্তন এসেছে কিনা। অনেকের বদলেও যায়। গুগলি, কনুরা কিছুদিন আগে আশ্রমের অন্য কুকুরদের সঙ্গে খাবারের সময় মারামারি করে বিতাড়িত হয়েছিল। তখন ওরা বাইরে দাঁড়িয়ে ভিতরে থাকা কুকুরদের দেখত আর সব অনুসরণ করত। তারপর ওদের আবার ফেনসিং-এ ফিরিয়ে এনে দেখা হয় যে ওদের মধ্যে মারামারি করার পুরনো অভ্যেস নেই। শ্যামাবাবু বলেন, তাঁদের কাছে আছে ‘মাদার ইন্ডিয়া’। নিজের ছয় সন্তানকে দুধ খাইয়ে বড় করার পর মাদার ইন্ডিয়া আবার রাস্তার অন্য দশটি শিশু কুকুরকে পরম স্নেহে দুধ খাইয়ে বড় করেছে।

এদের নিয়ে দিনরাত কেন পরে থাকেন শ্যামা চৌধুরী? তিনি জানান, ওদের কাছ থেকে নির্ভেজাল ভালবাসা পাওয়া যায়। এখানে এলেই ওরা ছুটে আসে, ঘিরে ধরে। শুধু শ্যামাবাবুই নন, শিলিগুড়ির প্রিয়া চক্রবর্তী, শেফালি মজুমদার, অবন্তিকা পাল, জয়ন্তী চক্রবর্তীর মতো গৃহবধূরাও এই আশ্রম খুলতে শ্যামাবাবুর পাশে দাঁড়িয়েছেন।