
বিধানসভায় পাশ হওয়া পশ্চিমবঙ্গের নাম এখনই ‘বাংলা’ করতে রাজি হল না কেন্দ্রীয় সরকার। পরিবর্তে জানিয়ে দিল আপাতত এই রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গই রাখতে হবে। ২০১৬ সালে প্রস্তাবিত বিল পাশ হয় বিধানসভায়। সেইসময় রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে বাংলায় ‘বাংলা’, হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’ এবং ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় তা পাশ হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো হয়। বছরখানেক সেই বিল পড়ে থাকার পর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আপত্তি জানিয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়। জানানো হয় সব ভাষাতেই একই নাম রাখতে হবে। তারপর সেই ভাবনা থেকে সরে এসে সমস্ত ভাষাতেই ‘বাংলা’ নামকরণ করা হয় পশ্চিমবঙ্গের। আবার ২০১৮ সালে সেই বিল পাশ হয় বিধানসভা থেকে।
রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিষয় কতদূর এগিয়েছে, সে বিষয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে সংসদে জানতে চান রাজ্যসভার এক সাংসদ। লিখিত ভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছেন, বিষয়টি নাকি উত্থাপনই হয়নি। তাঁর বক্তব্য, নাম পরিবর্তনের জন্য সংসদে বিল পেশ করে সংবিধান সংশোধনী আনতে হয়। কিন্তু সেটা যেহেতু করা হয়নি, তাই নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সেই বিল পেশের উপরেই নির্ভর করছে। এদিকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এই প্রস্তাবিত পাশ হওয়া বিল দেখে জানিয়েছিলেন, তিনি বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন। এই আশ্বাসের পর নতুন সরকারের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ তা খারিজ করে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হল। অধুনা বাংলাদেশ এই পূর্ববঙ্গ নামটি আর ব্যবহার করে না। সেইদিক দিয়ে বিচার করলে এতদিন পরেও পশ্চিমবঙ্গ এখনও কেন ‘পশ্চিমবঙ্গ’ই থাকবে! এই যুক্তিতে রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ হওয়া অনেক উৎকৃষ্টমানের। শেষ সমীক্ষা অনুযায়ী এ রাজ্যের ৮৫.২৭% মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। সুতরাং একটা বাংলা ভাষাভাষী রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ হওয়ার প্রস্তাব অপ্রাসঙ্গিক নয়। তাছাড়া পাকিস্তানেও পাঞ্জাব রাজ্য আছে, আবার ভারতেও পাঞ্জাব রাজ্য আছে। সেক্ষেত্রে এই দুই দেশের আলাদা দুই রাজ্যকে কি পূর্ব পাঞ্জাব এবং পশ্চিম পাঞ্জাব বলা হয়? এখানেই প্রশ্ন উঠছে এ রাজ্যের বিশিষ্টমহলে।
অথচ, এখানে যুক্তি দেখিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন ছিল। তা না হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আর এখন তা সম্ভব নয়। তার জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য খারিজ করে দেওয়া হল ‘বাংলা’ নামটি।
ভাষা মানুষের নিজের পরিচয়। যা অহংকার, যা আমাদের প্রত্যেকদিনের যাপনে মিশে আছে। পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক কি চাইবেন না, যে ভাষায় তাঁর প্রতিদিনের বড়ো হওয়া সেই ভাষাকেন্দ্রিক হোক রাজ্যের নাম? বিভিন্ন বিল পাশ হওয়ার ক্ষেত্রে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ নামের জন্য যে জটিলতায় পড়তে হয় রাজ্যকে, ‘বাংলা’ নামকরণ হলে অনেকাংশে তা মিটে যাবে। সময় কথা বলুক। আগামীদিনে মানুষের প্রতিক্রিয়া কতটা জোরালো হয় এখন শুধু তা দেখার অপেক্ষা।