
বিপুল শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। ৪ মে মধ্যরাতে বা ভোরে তা আছড়ে পড়বে বাংলার উপকূলে। তার আগে কাল রাত থেকেই শুরু হয়ে যাবে তুমুল বৃষ্টি। দুই মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা ছাড়াও এই সুপার সাইক্লোনের কবলে পড়বে কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলিও। ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিমিরও বেশি গতিবেগ নিয়ে আছড়ে পড়ার কথা ‘ফণী’-র। স্থলভাগে ঢুকে খানিক শক্তিক্ষয় করলেও তীব্রতা ভালোই থাকবে। কলকাতা ও তার আশপাশে ঝড়ের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিমির মতো। সঙ্গে বিপুল থেকে অতি বিপুল বৃষ্টিপাতেরও পূর্বাভাস থাকছে শনিবার জুড়ে।
উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে রাজ্য সরকার। ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়কে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কলকাতা পৌরসভা ও কলকাতা পুলিশও। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
এমন দুর্যোগ ঘনিয়ে আসার আগে কয়েকটি ব্যাপারে সতর্ক হতেই হবে। কী কী করণীয়, তার একটি তালিকা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। মাথায় রাখবেন, প্রস্তুতির সময় বলতে কালকের সারাটা দিন।
১। কাঁচা বা অপোক্ত বাড়ি হলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সমেত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিন দ্রুত।
২। ঝড়-বৃষ্টিতে সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে বিদ্যুৎ পরিষেবা। সেইমতো প্রস্তুত থাকুন।
৩। পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করে রাখলে ভালো।
৪। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ফার্স্ট এডের ব্যবস্থাও রাখুন।
৫। পর্যাপ্ত খাবার, নাহলে অন্তত শুকনো খাবারের ব্যবস্থা রাখুন। পরিস্থিতি অতিরিক্ত খারাপ হলে যাতে ২-৩ দিন কোনোমতে চালিয়ে নেওয়া যায়।
৬। সম্ভব হলে ত্রিপল, শুকনো কাপড়ের যথাসম্ভব ব্যবস্থা রাখুন।
৭। বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা কোনো গাছের ধারেকাছে থাকবেন না। ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকছেই।
৮। লোকালয়ের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলে সমন্বয় তৈরি করুন। বিপদের সময় একসঙ্গে থাকলে ভয় কম।
৯। গবাদি পশু ও পোষ্য থাকলে তাদের কথা আগেভাগেই ভেবে রাখুন। বিপদে যেন তারা আটকা না পড়ে খেয়াল রাখবেন।
১০। কাজ শেষ করে কাল সন্ধের মধ্যেই বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরুন।
কলকাতার মানুষরা জরুরি অবস্থায় ফোন করুন কলকাতা পৌরসভার ০৩৩-২২৮৬-১৪১৪ নম্বরে। ফোন করতে পারেন কলকাতা পুলিশের কন্ট্রোল রুমেও। ০৩৩-২২১৪৩০২৪/ ২২১৪-৩২৩০/২২১৪-১৩১০ নম্বরে। বিশেষ হেল্পলাইন থাকছে একটি, ৯৪৩২৬১০৪৪৪, যে নম্বরটিতে ফোন করা ছাড়াও হোয়াটস্যাপ করতে পারবেন।
দক্ষিণবঙ্গের জেলার মানুষরা যোগাযোগ করতে পারেন রাজ্য পুলিশের- ০৩৩-২৪৭৯-৪০৩৫/ ৪০৩৬/৪০৫৬ নম্বরে।
অযথা আতঙ্কিত হবেন না। সতর্ক থাকুন, সজাগ থাকুন।