
১৯৪৯ সালের তেইশে জুন ঢাকার টিকাটুলিতে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে যে দলটি আত্মপ্রকাশ করেছিল সেই দলটিই আজকের আওয়ামী লীগ।
তখন বাংলাদেশ ছিল পাকিস্তানে। এই দলটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল। দীর্ঘ উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে এই আওয়ামী লীগ। গত আট বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ক্ষমতায় রয়েছে এই দল।
আত্মপ্রকাশের ছয় বছরের মাথায় আওয়ামী মুসলিম লীগ দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল দলে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা।
১৯৬৬ সালে আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে যে সব দাবি তুলে ধরা হয় আওয়ামী লীগের তরফ থেকে সেটাকেই মনে করা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম পদক্ষেপ। এরপর ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যূত্থানে আওয়ামী লীগের ভূমিকার ফলে শেখ মুজিবর রহমান পরিণত হন দলের অবিসংবাদিত নেতায়। এর সঙ্গে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা যুক্ত হওয়ায় শেখ মুজিব আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং বলা হয় সেই জনপ্রিয়তাই সত্তর সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিপুল বিজয় এনে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিল। জন্ম নিল স্বাধীন বাংলাদেশ।
স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা পেল আওয়ামী লীগ। সরকার প্রধান হলেন শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি ১৯৭৫ সালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করে দিয়ে চালু করলেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল নামের একদলীয় শাসন ব্যবস্থা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বাকশাল গঠন আওয়ামী লীগকে তাদের ঘোষিত আদর্শ থেকে দূরে ঠেলে দেয়। তাঁদের মতে সেটা ছিল একটি বড় ভুল।
এর পরই সপরিবারে খুন হন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতা ও স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার প্রধান শেখ মুজিবর রহমান। দীর্ঘদিনের জন্য সামরিক সরকারের শাসনে চলে যায় বাংলাদেশ। এটা ছিল দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষে এক বিরাট ধাক্কা।
১৯৮১ সালে শেখ মুজিবর রহমানের বেঁচে যাওয়া দুই মেয়ের বড়জন শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করার পর আওয়ামী লীগে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হয়। ।এরপর ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে যে স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, তার অন্যতম শরিক হয় আওয়ামী লীগ। ওই আন্দোলনে স্বৈরশাসকের পতন হয়। ১৯৯০ সালে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিলেও পরাজিত হয়ে বিরোধী দলে পরিণত হয়। টানা একুশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর আওয়ামী লীগ আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে ১৯৯৬ সালে।
এরপর ফের ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে হয় আওয়ামী লীগকে। ২০০৯ সালে আবার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালে ফের ভোট। বড় বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণহীন সেই নির্বাচন নিয়ে দেশে বিদেশে সমালোচিত হয় আওয়ামী লীগ।
বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞদের মতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে আওয়ামি লীগকেই। ছোট ছোট সব দলকে নিয়ে চলতে শিখতে হবে আওয়ামী লীগকে। এমনকী বিএনপির দিকেও হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
তা যদি সম্ভব হয়, তাহলেই ২০১৯ বা ২০১৮ সালের নির্বাচন একটি সামগ্রিক রূপ পাবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই সেই ভোটকে হতে হবে অংশগ্রহণমূলক।