November 27, 2019 | 12:00 PM

৩ বছর বয়সে তবলা বাজানো শুরু করেন ডিস্কো কিং

তাঁর পরিবার জুড়ে ছিল সংগীত। বাবা অপরেশ লাহিড়ী তখনকার এক বরেণ্য গায়ক। মা বাঁশরী লাহিড়ী শাস্ত্রীয় সংগীতের চর্চা করতেন, শ্যামাসঙ্গীতেও পারদর্শিতা ছিল তাঁর। মামা ছিলেন কিশোর কুমার। এরকম পরিবেশে বেড়ে উঠলে খুব অল্প বয়স থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ জন্মাবে, তা খুব স্বাভাবিক।

মাত্র ৩ বছর বয়সে তবলা বাজানো শুরু করেন বাপ্পি লাহিড়ী। জন্মাবার পর অবশ্য তাঁর নাম অলোকেশ লাহিড়ী রাখা হয়েছিল। খুব অল্প বয়সেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন, বড়ো হয়ে বিশ্বখ্যাত হবেন। সেই লক্ষ্য নিয়েই সংগীতের দুনিয়ায় আসেন তিনি। বাবা-মার কাছেই শুরু হয়েছিল প্রশিক্ষণ। চলচ্চিত্রের জগতে পা রাখেন ‘দাদু’ সিনেমার মধ্য দিয়ে। সেই ছবিতে তাঁর সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। তখন বাপ্পি মাত্র ১৯ বছর বয়সী তরুণ। বলিউডের ‘জখমি’ ছবিতে কাজ করার পর তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। ছবিতে তিনি গেয়েছেন, গানে সুরও দিয়েছেন। 

‘চলতে চলতে’ ছবির সব ক’টা গান বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। যার ফলে, ১৯৭৬ সাল নাগাদ সংগীত পরিচালক হিসেবে তাঁর খ্যাতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ৭০ দশকের শেষে, গোটা ৮০-র দশক এবং ৯০-এর শুরুতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ডিস্কো সংগীতের আইকন। সারা দেশের মানুষ এখনও তাঁকে ‘ডিস্কো কিং’ নামে চেনে। ‘নয়া কদম’, ‘আঙ্গন কি কলি’, ‘ওয়ারদাত’, ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘হথকড়ি’, ‘নমক হালাল’, ‘মাস্টারজি’, ‘ডান্স ডান্স’, ‘হিম্মতওয়ালা’, ‘জাস্টিস চৌধুরি’, ‘তোহফা’, ‘কমান্ডো’-র মতো ছবিগুলোয় তাঁর কাজ কেই বা ভুলতে পারবে? তিনি সুর গিয়েছেন, নিজের সুর দেওয়া কোনো কোনো গানে কণ্ঠও দিয়েছেন। তাঁর গাওয়া “রাহি হু ম্যায়”, “বোম্বাই সে আয়া মেরা দোস্ত”, “সুপার ডান্সার” “বোম্বাই নগরিয়া”-র মতো গানগুলো মন জয় করে নিয়েছে আম-ভারতীয়র। এছাড়া তিনি গজল রচনাতেও কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

বাপ্পিদার সংগীত তো বটেই, তাঁর জীবনচর্যাও থাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁর সাজপোশাক, গয়না, কালো চশমা – সবকিছু মিলে তিনি এক রহস্যময় ব্যক্তিত্ব – তিনি সাধারণ মানুষের খুব কাছের, পছন্দের শিল্পী, আবার যেন কোন দূরতর কুহেলিকায় তাঁর অবস্থান – সব রকম ধরাছোঁয়ার বাইরে।

Developed by DXDasia