August 31, 2017 | 12:00 PM

পানাগড়িয়ার রিপোর্টে মোদীর প্রচারে ধস

সত্যি কথা বলে মোদী সরকারকে বেশ চাপেই ফেলে দিলেন নীতি আয়োগের বিদায়ী উপাধ্যক্ষ অরবিন্দ পানাগড়িয়া। দেশের ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে সমীক্ষা চালিয়ে যে রিপোর্ট তিনি দিয়েছেন তাতে মোদী সরকারের বহু দাবিই ম্লান হয়ে যাবে। রিপোর্টে বলা হয়েছে,এই সরকারেরর তিন বছর পার হলেও লগ্নি বা ব্যবসায় লাল ফিতের ফাঁস বিশেষ আলগা হয়নি। এ দেশে নতুন ব্যবসা চালু করতে এখনও কম করে ১১৮ দিন লাগে। ব্যাঙ্ক থেকে পুঁজি মেলে না। ছোট সংস্থা বড় হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নিজে নীতি আয়োগের শীর্ষকর্তাদের কাছে এই রিপোর্ট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন— এতে ভুল বার্তা যাবে তাঁর সরকার সম্পর্কে।
ঘটনাচক্রে, নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষের পদে বৃহস্পতিবারই পানাগড়িয়ার শেষ দিন। স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে বিদেশে অধ্যাপনার কাজে ফিরে যাচ্ছেন তিনি।  গত সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে মোদী তাঁর কাজের প্রশংসাও করেছেন। ফলে পানাগড়িয়ার কাজ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলাও সম্ভব হচ্ছে না।অস্বস্তি তাই বাড়ছে।

বিরোধীরা ক্রমাগত অভিযোগ করে চলেছেন, মোদী সরকার একনায়কের মতো করে সরকার চালাতে চাইছে। ভারতীয় গণতন্ত্রের এমন একটা নিজস্ব শক্তি আছে যে কেউই চাইলেও এখানে এক নায়ক হয়ে উঠতে পারে না। পারে না বলেই, রাজ্য সভায় আহমেদ প্যাটেলের ভোট নিয়ে যে বিতর্ক হল, তা নিয়ে যথেষ্ট চাপ থাকা সত্ত্বেও, নির্বাচন কমিশনারের রায় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে যায়নি। ব্যক্তি স্বাধীনতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ও সরকার যা চেয়েছিল তার ধারে পাশে নয়। আবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মাথায় জখন গুজরাট থেকে মোদীর ‘পছন্দের’ এক জনকে বসানো হল, তখন কত সমালোচনাই না হয়েছিল। কিন্তু সেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যখন রিপোর্ট দিয়ে জানিয়ে দিল, নোট বাতিল করে কালো টাকা ধরা যায়নি, তখন বোঝা যায়, ভারতের বিভিন্ন সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি কতটা শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে। অরবিন্দ পানাগড়িয়াকে বিদেশ থেকে এনে নীতি আয়োগের মাথায় বসিয়েছিলেন মোদী নিজে। সেই ব্যক্তিটি কিন্তু সত্যের কাছেই মাথা নুইয়েছেন, সরকারের প্রচারের কাছে নয়।