December 19, 2019 | 12:00 PM

তিনবারের ফরাসি ‘নাইটহুড’ চিন্ময় গুহ-র হাত ধরে ফের ‘সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার’ আসছে বাংলায়

ছকভাঙা চৌষট্টিটি গদ্যের সংকলন। তারই সূত্র ধরে ফের সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার আসছে বাংলায়। সিগনেট প্রেস থেকে প্রকাশিত ‘ঘুমের দরজা ঠেলে’ বইয়ের জন্য এই পুরস্কার পাচ্ছেন চিন্ময় গুহ। কবি অরুণ মিত্রের অনুপ্রেরণায় ছকভাঙা এই গদ্য-সংকলন আসলে বিশ্বসাহিত্যের একটুকরো উঠোন যেন-বা। শেক্‌স্পিয়ার থেকে রবীন্দ্রনাথ, খ্রিস্টোফার মার্লো, ভিক্তর য়্যুগো, তলস্তয়, রম্যাঁ রলাঁ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র—সবাই হাজির বইয়ের বিষয়-বিষয়ান্তরে। আর, প্রায় প্রতিটি লেখার শুরুতেই জড়িয়ে রাত্রির আবহ। হয়তো এই কারণেই বইয়ের নাম ‘ঘুমের দরজা ঠেলে’। গতকাল দিল্লিতে এই বছরের সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারপ্রাপকদের সঙ্গে ঘোষণা করা হয় চিন্ময় গুহ-রও নাম।

‘ঘুমের দরজা ঠেলে’-তে গদ্য-আলোচনার মধ্যেই ঢুকে গেছে পদ্যের মোহর। অন্নদাশঙ্কর আর জ্যোতিভূষণ চাকীর কিছু ছড়া ছাড়াও বইতে ঠাঁই পেয়েছে বেশকিছু বিদেশি কবিতার অনুবাদও। সেইসব অনুবাদের অনেকগুলোই চিন্ময় গুহ-র নিজের করা। এক ভাষার সাহিত্য থেকে অন্য ভাষার সাহিত্য-পৃথিবী, এক সাহিত্যিক থেকে অন্য সাহিত্যিক—শব্দ-পরম্পরায় নৌকো বেয়েছেন চিন্ময়। সাহিত্যের আবার মানচিত্র আছে নাকি কোনো? চিন্ময় সুতোয় সুতোয় বুনতে থাকেন অলীক গদ্য।

পেশায় ইংরেজির অধ্যাপক। অথচ বড়ো সাবলীল দক্ষতা ফরাসি ভাষা-সাহিত্যপাঠেও। তিন-তিনবার পেয়েছেন ফরাসি নাইটহুড পুরস্কার। প্রথমে ২০১০ সালে ফরাসি শিল্পমন্ত্রক থেকে, তারপরে ফরাসি সংস্কৃতিমন্ত্রক থেকে এবং এই বছরেই ফরাসি রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে। এই বিরল কৃতিত্ব আর কোনো বাঙালির নেই। তাঁর পাণ্ডিত্যকে অবশ্য নিছক ইংরেজি ও ফরাসি সাহিত্যের মাপকাঠিতে রেখে বোঝা যাবে না। বিশ্বসাহিত্য বলতে যা বোঝায়, তার হৃৎস্পন্দনের অনেকখানিই চেনেন চিন্ময়। চেনাতেও জানেন। সেইসব শব্দঘোরই তো বোনা ‘ঘুমের দরজা ঠেলে’ বইতে। এমন বই যে যোগ্য সম্মান পেয়েছে, সন্দেহ নেই। আর, সেইসূত্রে ফের একবার গর্বিত হলাম আমরা।