March 23, 2019 | 12:00 PM

ভোটের টক্করে ভরে উঠুক সব দেওয়াল, চাইছেন শিল্পী, রং-বিক্রেতারা

ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আঁচ কম হলেই আশঙ্কার ভাঁজ পড়ে ওঁদের কপালে। বিরোধীদের গা ছাড়া মনোভাব দেখলেই মনে মনে শিউড়ে ওঠেন সবাই। পঞ্চায়েত ভোটের মতো বিরোধীরা প্রার্থী না দিলে তো সর্বনাশ। ভোট হলে বেশ কোমর ঠুকে ময়দানে নেমে পড়বে শাসক-বিরোধী সব্বাই। প্রচারে একচুলও খামতি রাখবে না কেউ। দেওয়ালের পর দেওয়াল জুড়ে লেখা হবে প্রার্থীর নাম, দলের প্রতীক। তবেই না লাভ। এবং ষোলোকলা পূর্ণ হয় ভোট চতুর্মুখী হলে।

কথা হচ্ছে অঙ্কনশিল্পী আর রং-তুলির ব্যবসায়ীদের। ভোট এলেই দেওয়াল লিখতে, প্রতীক আঁকতে ডাক পড়ে শিল্পীদের। আর একইসঙ্গে বিক্রি একলাফে বেশ কয়েক গুণ বেড়ে যায় রং-তুলির দোকানেও। ‘রাজনৈতিক’ খদ্দেররা যাতে বিরূপ না হন, তাই ভোটের আগে থেকেই দোকানে রঙের জোগান রাখতে হয় পর্যাপ্ত। চাহিদা কম হলেই তাই লোকসানের ভ্রূকুটি দেখা দেয়। আর লোকসানের ভয় তখনই থাকে, যখন ভোট নিয়ে তেমন তাপ-উত্তাপ থাকে না এলাকায়। প্রচারে ঢিলে দেয় সব পক্ষই। বিশেষ করে পরাজয় নিশ্চিত জেনে যখন বিরোধীরা নামমাত্র প্রচারেই হাল ছেড়ে দেয়। ভোটে জয় নিশ্চিত বুঝে শাসকদলও বেশি গা লাগায় না দেওয়াল লেখায়। এলাকার অসংখ্য দেওয়াল তখন না-লেখাই থেকে যায় ভোটের মরসুমে। এমন অবস্থার কথা ভেবেই শিউড়ে ওঠেন রঙের ব্যবসায়ীরা।

একই কথা খাটে অঙ্কন শিল্পীদের ক্ষেত্রেও। ভোট এলেই দেওয়াল লেখা, প্রতীক আঁকা, কার্টুন আঁকার জন্য পেশাদার শিল্পীদের কদর বাড়ে। ভোটের মরসুম তাই স্থানীয় শিল্পীদের কাছে রোজগারের একটা বড়ো সুযোগ। যদি শিল্পীর কাজ ভালো লাগে দলের তাহলে অন্য জায়গা থেকেও ডাক আসে তাঁর। যত ডাক, তত কাজ, তত লাভ। গত পঞ্চায়েত ভোটে অধিকাংশ জায়গাতেই প্রার্থী দেয়নি বিরোধীরা। ফলে, ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি। অতএব, প্রয়োজন পড়েনি দেওয়াল লেখারও। এবারের লোকসভা ভোটে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ারই আশায় শিল্পীরা। ভোটে যত প্রার্থী, তত কাজের সুযোগ বেশি। এক দলের হয়ে দেওয়াল লেখা শিল্পীকে অনেকসময় অন্য দল ডাকে না। প্রার্থী বেশি হলে পাটিগণিতের নিয়মেই তাই শিল্পীদের ডাকও পড়ে বেশি সংখ্যায়।

রাজনৈতিক পছন্দ এখানে গৌণ। প্রত্যেকেই হয়তো চান তাঁর পছন্দের দল জিতুক। সেক্ষেত্রে কড়া টক্করে প্রিয় দলের হারের সম্ভাবনাও বাড়ে। কিন্তু, সবার উপরে মানুষের জীবিকা সত্য। অতএব ফলাফল যাই হোক না কেন, আসন্ন লোকসভা ভোটে কড়া টক্করই চাইছেন বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগণা, কুচবিহার, আলিপুরদুয়ার-সহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের শিল্পী আর রং ব্যবসায়ীরা। চাইছেন এলাকার সব দেওয়াল ভরে উঠুক ভোটের প্রচারে। দেদার রং বিকোক, ডাক পড়ুক শিল্পীদের। জবরদস্ত হাওয়া উঠুক ভোটের। শাসক-বিরোধী লড়াই জব্বর হোক। তবে হ্যাঁ, লড়াই থাক দেওয়াল-লিখনেই। লড়াই দেওয়াল ছেড়ে রাস্তায় নেমে এলে আবার অন্য সমস্যা। তাতেও ব্যবসা মার খাওয়ার সম্ভাবনা ষোলো আনা। 

সাধে কী বলে ভোট গণতন্ত্রের উৎসব।