
বাবা সামান্য মুদিখানার দোকান চালান। তবু অদম্য জেদ নিয়েই পড়াশুনা চালিয়ে গেছে সে। অর্পিতা বক্সী। শিলিগুড়ি রবীন্দ্রনগর গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী অর্পিতা মাধ্যমিকে ৬৩০ পেয়ে নজর কেড়েছে স্থানীয় সকলের। স্কুলটির প্রায় সব মেয়েই আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের। অষ্টম শ্রেণীতে উঠতে-না-উঠতেই বাবা-মায়েরা বিয়ে দিয়ে দিতেন মেয়েদের। প্রধান শিক্ষিকা দূর্বা ব্রহ্ম স্কুলে যোগ দিয়েই কন্যাশ্রী প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে মাঠে নামেন। মেয়েদের বিয়ে আটকে দেওয়া ছাড়াও, বাড়ি থেকে তাদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার কাজও চালিয়ে যান দূর্বাদেবীরা। এরই স্বীকৃতি হিসেবে, কদিন আগেই রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পান তিনি। এরই মধ্যে, অর্পিতার মাধ্যমিকে ৬৩০ নম্বর প্রাপ্তি উদ্বুদ্ধ করেছে সবাইকেই। অর্পিতা নিজে ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়।
পাশাপাশি, ৬৫৯ নম্বর পেয়ে প্রশংসার দাবিদার জয়ন্তকুমার রায়ও। শিলিগুড়ি ইস্টার্ন বাইপাস লাগোয়া কৃষ্ণনগর কলোনির জয়ন্ত-র বাবা রাজমিস্ত্রিদের সঙ্গে যোগালির কাজ করেন। বাড়ির আশেপাশে শিক্ষার চর্চা নেই তেমন। অসুখ-বিসুখে লোকজন এখনও ওঝার কাছে যায়। জয়ন্ত-র স্বপ্ন তাই ডাক্তার হয়ে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে পড়ার কিছু খরচ তুলতে কাঠমিস্ত্রিদের সঙ্গে একমাস সাটারিং-এর কাজ করেছিল জয়ন্ত। জয়ন্ত-র স্কুল বরদাকান্ত বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ বসু-সহ অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, ভবিষ্যতেও জয়ন্ত-র শিক্ষার ক্ষেত্রে সবরকম সাহায্যে তাঁরা প্রস্তুত। কেউ সহযোগিতা করলে সাদরে গৃহীত হবে তা।