
মিথলজি থেকে শুরু করে সমকালের নারীদের কিছু অবস্থান যে আজও পালটায়নি সৃজনের ছবিতে তার পরিচয় পাওয়া যায়
এই শিল্পী একজন প্রথিতযশা ডাক্তার। নাম ডাক্তার সৃজন মুখোপাধ্যায়। তাঁর বিষয় ভাবনায় ‘নারী’ নানাবিধ সূত্র থেকে উঠে এসেছে। সেই সূত্রগুলি হল ইতিহাস, মিথলজি, সমসাময়িক ঘটনা ইত্যাদি। সমসাময়িক নির্ভয়া, বাইবেলের ইভ গ্রেকও, রোমান মিথলজির লিডা, ইতিহাসের জয়া এরাই শিল্পীর ছবির বিষয়। সমকালীন সময়ের গন্ডিতে দাঁড়িয়ে এই চরিত্রগুলি আবার যেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল শিল্পীর চিত্র ভাবনায়।
ডাক্তার সৃজন মুখোপাধ্যায় ভালোবাসেন ছবি আঁকতে। নিছক অবসরের সময় কাটানো নয় ছবি আঁকতে ভালোবাসা থেকেই তাঁর সমস্ত রচনা। সম্প্রতি তাঁর ছবির একটি চমৎকার প্রদর্শনী হয়ে গেল অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে। প্রদর্শনীর শিরোনাম ছিল ‘দাই নেম ইজ ওম্যান’ ছবির সামগ্রিক বিষয় এমন সব নারী যারা যুগ যুগ ধরে কালের সীমানায় দাঁড়িয়ে বারে বারেই সমাজের অহেতুক বাঁধা নিষেধ অত্যাচার লাঞ্ছনা ও অবিচারের যন্ত্রণা সহ্য করে এসেছে। সৃজন খুব চমৎকার ভাবে দলিত কন্যার বস্ত্র হরণের সাথে মহাভারতের দ্রৌপদির তুলনা করতে পারেন। ছবিতে ঈভ কে টেনে আনেন সামাজিক অবিচারের চূড়ান্ত রূপক হিসেবে। ছবিতে বিষয় হিসেবে উঠে আসে নির্ভয়াও। এভাবেই একজন প্রথিতযশা চিকিৎসকের তুলিতে বিষয় হিসেবে‘নারী’ এক অন্য মাত্রা নিয়ে হাজির হয়। সৃজনের ছবির নারীদের দুটি অবস্থান স্পষ্ট। সেই সম্পর্কে শিল্পীর বক্তব্য ‘Challenge was to bridle the socio-historic patriarchal urges of objectifying or glorifying’.
মিথলজি থেকে শুরু করে সমকালের বাস্তব পর্যন্ত সব জায়গায়তেই নারীদের কিছু অবস্থান যে আজও পালটায়নি সৃজনের ছবিতে তার পরিচয় পাওয়া যায়। ছবির নারীদের চোখের তারা নেই। আসলে তাঁদের অভিব্যাক্তি প্রকাশে চোখের ওপর নির্ভর না করে শিল্পী চরিত্রদের ভঙ্গির ওপর নির্ভর করেছেন। যে কারণে তাঁর ছবির নারীদের তেজ, যন্ত্রণা সবই অনুভব করতে অসুবিধা হয় না তাঁদের ভঙ্গির সুত্রগুলি ধরে। নন্দলাল বসু বলেছিলেন, ভঙ্গি হল আবেগ ও রসের বিভিন্ন অভিব্যাক্তি প্রকাশের সহায়ক। একথাই যেন বারে বারে প্রতিফলিত হয়েছে সৃজনের ছবিতে। ছবির দাপুটে রঙ, কৌণিক ছন্দময় রেখা ও তরঙ্গায়িত রেখার বিন্যাস সাথে ছবির রচন দৃশ্যের নান্দনিক চেহারা দান করেছে। সমকালের সামাজিক বার্তা প্রদর্শনীটিকে মনে রাখার মতো একটা স্থান করে দিয়েছে।
