
১০ মার্চ নন্দীগ্রামে আহত হওয়ার পর, এই প্রথম জেলা সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
১০ মার্চ নন্দীগ্রামে আহত হওয়ার পর, এই প্রথম জেলা সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুইল চেয়ারে বসেই রবিবার কলকাতার মেয়ো রোড থেকে হাজরা পর্যন্ত পদযাত্রা করেন তৃণমূল নেত্রী। সেখান থেকেই তিনি রওনা দেন পুরুলিয়ার উদ্দেশে। সোমবার দুপুরেই ঝালদা এবং বলরামপুর, দুই জনসভার ভাষণে বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
হুইল চেয়ারে বসেই ঝালদার মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “বাংলায় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে থাকেন। অধিবাসীদের জমির অধিকারে আমরা আইন করেছি। পুরুলিয়ায় ঘরে ঘরে জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। বিজেপি গ্যাস-পেট্রোলের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থা বিক্রি করে টাকা কামাচ্ছে। সেই টাকা ওরা নির্বাচনে খরচ করছে।টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে বিজেপি। এত টাকা কোথায় পেল বিজেপি? নোটবন্দি করে টাকা কামিয়েছে বিজেপি। কংগ্রেস-সিপিএম এখানে বিজেপি-র দালালি করে। আপনাদের ভোট লুঠ করতে দেবেন না। আমি যদি ভাঙা পায়ে লড়তে পারি, তা হলে তোমরা কেন লড়তে পারবে না? অভিমান করে ঘরে বসে থাকবেন না, বিজেপি-র বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করুন। বাংলা থেকে আমরা বিজেপি হঠাওয়ের ডাক দিয়েছি। বিজেপি সারা দেশে স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছে, মানুষের কণ্ঠরোধ করছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে ভাড়া দেয়নি কেন্দ্র। আমরা পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে থেকেছি। বিজেপি-র কান্নায় ভুলবেন না। এখানকার সাংসদ কিছু করেছেন এলাকার জন্য? কংগ্রেসকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিন। সব কাজ যদি মমতা দিদি করে, তা হলে খাল কেটে কুমির এনে কী লাভ?”
ঝালদা থেকে বলরামপুরের জনসভায় গিয়ে বলেন, “আমার বিশেষ চেয়ার নেই, জনগণের চেয়ারই আমার চেয়ার। আমি স্ট্রিট-ফাইটার। বিজেপির নেতারা বাংলার উপর হামলা চালাচ্ছে দিল্লিতে বসেই। আমার পা ঠিকই থাকবে, কিন্তু ওঁদের নেতাদের বাংলায় পা পড়বে তো? এখানে বিপুল টাকা বিনিয়োগ হবে, কারও বাইরে কাজে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি সকলকে ফিরিয়ে আনব। মা, বোনেরা এগিয়ে থেকে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিন।”
