
মিছিলে তাঁর সঙ্গে পা মেলান তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
থেমে থাকায় বিশ্বাসী নন তিনি। মনের জোরও অদম্য। সে প্রমাণ তিনি বার বার দিয়েছেন। তাই এবার, ডাক্তারদের বারণ থাকা সত্ত্বেও ১৪ মার্চ, পায়ে চোট নিয়ে হুইল চেয়ারে 'মিছিলের মুখ' হয়ে উঠলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে ফেরার পর রবিবার প্রথমবার প্রচারের ময়দানে নামেন তৃণমূল নেত্রী। মিছিলে তাঁর সঙ্গে পা মেলান তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস-সহ দলের সামনের সারির নেতানেত্রীরা। উপস্থিত ছিলেন কলকাতার বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীরাও। মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন দলীয় কর্মী সমর্থকরাও।
মিছিল শেষে, হাজরার জনসভা থেকে দলনেত্রী বলেন, “শারীরিক যন্ত্রণার থেকে হৃদয়ের যন্ত্রণা অনেক বেশি। গণতন্ত্রের যন্ত্রণা বড়। আমাকে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। নিহত বাঘের থেকে আহত বাঘ আরও বেশি ভয়ঙ্কর। অনেক বাধার মধ্যে দিয়ে পেরিয়ে এসেছি। কিন্তু কখনও মাথা নত করিনি। আমাকে ডাক্তাররা ১৫ দিন রেস্ট নিতে বলেছেন। আমাকে বেরোতেই হবে। আজ নন্দীগ্রাম দিবস। কৃষক দিবস। আজ দুর্গাপুর যেতে হবে, কাল পুরুলিয়ায় সভা। হাজরা আমার কাছে ঐতিহাসিক জায়গা, এখানে অনেকবার প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। ভাঙা পায়ে সারা বাংলা ঘুরে বেড়াব, খেলা হবে।”
নন্দীগ্রামে আহত হওয়ায় ভোট প্রচারে সাময়িক ছেদ পড়েছিল। রবিবার মেয়ো রোডে গাঁধী মূর্তির পাদদেশ থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিল করে তৃণমূল। মেয়ো রোডের সভায় মিছিলের সূচনা করেন দলনেত্রী। পৌনে দু’টো নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে মেয়ো রোডে পৌঁছন মমতা। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে নীল-সাদা রঙের বিশেষ ভাবে তৈরি হুইল চেয়ারে বসেই রওনা দেন গাঁধী মূর্তির উদ্দেশে। তাঁর পায়ে ছিল বিশেষ জুতো। এর কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় জোড়াফুল শিবিরের মিছিল। সভা শেষে এরপর কপ্টারে দুর্গাপুর রওনা হন মমতা। আগামীকাল পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় জোড়া সভা করার কথা তাঁর।
