
এখনও ১০টি আসন বাদ রাখা হয়েছে বিজেপির প্রার্থীতালিকা থেকে
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে, বিগত একমাস যাবৎ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যে জায়গা রাজনীতির ইতিহাসে এই বাংলা তথা আপামর বিশ্বের মানুষ আগে দেখেনি। এরকমভাবে ‘দলে থেকে কাজ’ করতে না পারার হিড়িক আগে কখনও কেউ দেখেনি, টিকিট না পাওয়ার দুঃখে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ‘কাজ করার জন্য’ নতুন দলের পতাকা হাতে নিয়ে, সাংবাদিক সম্মেলন করে, তাবড় তাবড় নেতাদের ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কান্না আগে কেউ কখনও দেখেনি। এত কিছু করে যাঁরা পদ্মফুল ফোটাতে গেলেন, তাঁরা কি ‘টিকিট’ পেলেন?
না। তৃণমূল এবং অন্যান্য দল থেকে যাঁরা পদ্ম শিবিরে গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই বৃহস্পতিবার বিজেপি ঘোষিত শেষ চার দফার প্রার্থিতালিকায় ব্রাত্য থেকে গিয়েছেন। তাঁরা কারা?
তপন বাচ্চু, হাঁসদা (রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী), বসিরহাট দক্ষিণের দীপেন্দু বিশ্বাস (প্রাক্তন ফুটবলার) বা তমলুকের সিপিআই বিধায়ক অশোক ডিন্ডা, এঁরা দলের কাছে টিকিট না পেয়ে বিজেপি-তে গিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই মনোনয়ন পাননি। শিকে ছেঁড়েনি সোনালি গুহেরও (পুরোনো দলে টিকিট না পেয়ে তাঁর কান্নার ভিডিও এখন ভাইরাল)। বৃহস্পতিবার বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রার্থিতালিকা ঘোষণার পর দেখা গেল, টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপি-তেও ‘ব্রাত্য’ হয়ে রইলেন তাঁরা। যেমন ব্রাত্য হয়ে রইলেন অমিত শাহের সভায় শুভেন্দুর সঙ্গে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া সুকরা মুণ্ডা। নাগরাকাটায় তাঁকে প্রার্থী না করে পুনা ভেঙরাকে প্রার্থী করা হয়েছে। প্রার্থী করা হয়নি তৃণমূল থেকে বিজেপিৃতে যোগ দেওয়া মালদহের সরলা মুর্মুকেও। সরলাকে মালদহের হবিবপুর কেন্দ্রের প্রার্থী করেছিল জোড়াফুল শিবির। কিন্তু তার পর বিজেপি-তে যোগ দেন সরলা।
প্রসঙ্গত, প্রথম চার দফার প্রার্থিতালিকা নিয়ে এর আগে জেলায় জেলায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল বিজেপি-কে। এ দিনও সেই ছবি দেখা গিয়েছে একাধিক জায়গায়। তবে বৃহস্পতিবারের ঘোষণার পর এ পর্যন্ত বিজেপি-র নির্বাচনী কার্যলয় হেস্টিংসে তেমন কোনও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি। এখনও ১০টি আসন বাদ রাখা হয়েছে বিজেপির প্রার্থীতালিকা থেকে। শোনা যাচ্ছে, এখনও অনেকেই নাকি যোগ দিতে পারে বিজেপিতে। নন্দীগ্রামের হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বাবা, শিশির অধিকারীও নাম লিখিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে।
