দিল্লি থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে দিল্লি, ‘গৃহদাহ’ সামাল দিতে নাজেহাল বিজেপি

দলীয় কর্মীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভে অস্বস্তিতে পড়েছেন রাজ্য নেতারাও

ছিল রুমাল হয়ে গেল বেড়াল! পর পর ২ দিন প্রার্থী নিয়ে যেভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা, তাতে এই প্রবাদের কথাই মনে পড়ছে। বিজেপির স্বঘোষিত ‘অহংকার’ কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ চলছে বিজেপির হেস্টিংসের নির্বাচনী কার্যালয়ে। এই ‘গৃহদাহ’ সামাল দিতে দিল্লি থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে দিল্লি করে বেড়াচ্ছেন বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। দলীয় কর্মীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভে অস্বস্তিতে পড়েছেন রাজ্য নেতারাও।

প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর সে ভাবে বিক্ষোভ সামনে আসেনি। তবে, রবিবার দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর পরই তৈরি হয় বিতর্ক। বিতর্ক তৈরি হতে পারে এমন ১২টি আসন বাদ রেখেই দিল্লি থেকে তালিকা ঘোষণা করেন পদ্ম শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভ আটকানো যায়নি। চুঁচুড়া কেন্দ্রে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করায় জেলার হতাশ নেতা সুবীর নাগ ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাস’ ঘোষণা করেন। হুগলিরই উত্তরপাড়া ও সিঙ্গুরে তৃণমূলত্যাগী দুই বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল ও রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয় কর্মীদের মধ্যে। তা প্রকাশ্যে এসে গেলেও খুব একটা অস্বস্তিতে পড়তে হয়নি দলকে। বেহালা পূর্বে প্রার্থী হতে না পারা শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ছেড়ে দেওয়াতেও দলকে অতটা অস্বস্তি পড়তে হয়নি, অস্বস্তিতে পড়তে হয় সোমবার।

সোমবার হাওড়ার পাঁচলা ও উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কয়েকশো বিজেপি কর্মী-সমর্থক কলকাতার হেস্টিংসে রাজ্য বিজেপির প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, দল যাঁদের প্রার্থী করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পাঁচলা থেকে বিজেপি-র প্রার্থী হয়েছেন মোহিত ঘাঁটি। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মধুচক্র ও বেআইনি কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলেন বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি উদয়নারায়ণপুরের প্রার্থী সুমিতরঞ্জন করারকে বহিরাগত বলেও দাবি করেন বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা। ওই দু’জনের প্রার্থিপদ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান তাঁরা। ওই দাবিতে হেস্টিংসে দফায় দফায় বিক্ষোভও দেখানো হয়। বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপি-র একাধিক শীর্ষ স্থানীয় নেতা। তার মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশও। শুধু কলকাতা নয়, হুগলিতে দলীয় দফতরে ভাঙচুর চলে। এক ‘নবাগত‍’কে আদিসপ্তগ্রামে প্রার্থী করা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় এক কর্মী রেললাইনে শুয়ে আত্মহত্যার হুমকিও দেন।

মুকুল রায় টাকা খেয়ে প্রার্থী পছন্দ করেছেন বলে অভিযোগ করেন বিজেপি কর্মীরা। অন্যদিকে বুধবারও সকাল থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি, ক্যানিংয়ের বিজেপি কর্মী সমর্থকরা প্রার্থী বদলের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান দিনভর। হেস্টিংসের বিক্ষোভ সামাল দিতে সোমবারই সফর কাটছাঁট করে কলকাতায় ছুটে আসেন অমিত শাহ। রাতেই বঙ্গ বিজেপির নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। মূলত এই অসন্তোষ নিয়েই আলোচনা হয়েছে। কীভাবে এই অসন্তোষ সামাল দেওয়া যায় এই নিয়েই রণকৌশল নির্ধারণে তৎপর হয়েছেন বিজেপির চাণক্য। কোন পথে মিলবে সমাধান সূত্র এই নিয়ে তৎপর শাহ, নাড্ডারা। সোমবার রাতেই শহরে আসেন জেপি নাড্ডাও। তিনিই সামিল হয়েছিলেন বৈঠকে। ছিলেন মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা।

আজ দিল্লিতে পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে বিজেপির কোর কমিটির সদস্যরা। রাতেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষরা। বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিজেপির কোর কমিটি বৈঠক চলছে। সেখানে প্রার্থী অসন্তোষ নিয়ে কথা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রার্থী তালিকা নিয়েও আলোচনা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। দলীয়কর্মীদের অসন্তোষের কথা মাথায় রেখে এবার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবে বিজেপি এমনই মনে করা হচ্ছে।

 

Developed by DXDasia