ট্রাম সাজাচ্ছে তিলোত্তমা

২ অক্টোবর, ১৮৭৯। কলকাতার বুকে চালু হল যাত্রীবাহী ট্রাম…

কলকাতায় ব্যবসা তখন জাঁকিয়ে বসেছে রীতিমতো। গঙ্গার তীর ধরে চিৎপুর, শোভাবাজার, আহিরীটোলায় সর্বদাই ব্যস্ততা। বড় বড় মালপত্তরে ঠাসা স্টেশন ও গুদামগুলি। আর এই সব গুদামে থাকা মালপত্র সঠিক জায়গায় নিয়ে যাওয়াই ছিল নগরকর্তাদের প্রধান সমস্যা। সরকারের পরামর্শ – মালবাহনের জন্য বসানো হোক ট্রাম। প্ল্যান মঞ্জুর হল। প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ। বসল একটা মাত্র মিটারগেজ লাইন যা শিয়ালদহ থেকে বৌবাজার-ডালহৌসি স্কোয়ার, কাস্টমস হাউসের ভিতর দিয়ে স্ট্র্যান্ড রোড ধরে পৌঁছে যেতে আর্মেনিয়ান ঘাট পর্যন্ত। কিন্তু প্রথম মালবাহী ট্রামের যাত্রা থমকে গেল অল্প দিনেই। ১৮৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। ট্রামের মালিকানা বিক্রি হয়ে গেল বিলেতের মেসার্স প্যারিস অ্যান্ড সাউদার কোম্পানির কাছে। আর তাদের হাত ধরেই কলকাতার রাস্তায় প্রথম যাত্রীবাহী ট্রামের শুরু। দিনটা ছিল ১৮৭৯ সালে ২ অক্টোবর।

 

এতদিনে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছে ট্রাম। বিভিন্ন যুগের সাক্ষী এই ট্রাম আজ ধীরে ধীরে জায়গা নিচ্ছে ইতিহাসের পাতায়। ব্যস্ততার যুগের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে একে একে কলকাতার বুক থেকে উঠে যাচ্ছে ট্রামের সরু লোহাবাঁধাই ট্র্যাক। তবে শহরবাসীর মনে আজও কিন্তু ট্রামকে নিয়ে উন্মাদনা, ভালোবাসা অটুট। অনেক সিনেমার প্রেক্ষাপটে ফুটে ওঠে ট্রামের ছবি। অথবা বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে অনেক ছেলে-মেয়েরাও সঙ্গী করে ট্রামকে। এক কথায়, ট্রামের সঙ্গে ওতপ্রতভাবে জড়িয়ে আছে শহর কলকাতার নস্টালজিয়া।

শহরবাসীর ট্রামের প্রতি ভালোবাসা কথা মাথায় রেখে শুরু করা হয়েছে কিছু অভিনব প্রচেষ্টা। কাঠের পুরনো ট্রামে চড়ে হাতে তুলে নিন চায়ের ভাঁড়। সঙ্গে চলুক আড্ডা। শুধু তাই নয়। ট্রামের মধ্যেই তৈরি করা হয়েছে মিউজিয়াম। যেখানে থেকে জানা যাবে ট্রামের সঙ্গে জড়িত নানা ঐতিহাসিক ঘটনা। এর নাম রাখা হয়েছে ‘স্মরণিকা’। কাঠের তৈরি এই ভিন্টেজ ট্রামটি ১৯৩৮ সালে নোনাপুকুর ওয়ার্কশপে তৈরি করা হয়েছিল। রয়েছে চা-কফি ও স্ন্যাক্সের ব্যবস্থাও। আর আছে পুরনো দিনের নানা ছবি, টিকিট, কয়েন ইত্যাদি। ব্যস্ত শহরে মানুষ যখন স্থির হওয়ার সময় পায় না একটুও, সেই সময় পুরনো দিনকে সঙ্গে করে ট্রামে চড়ে আড্ডা দেওয়া যে অন্য মাত্রা যোগ করে দৈনন্দিনতায়, তাতে কোনো সন্দেহই নেই। এই অভিনব ট্রাম ভ্রমণের ছবি বঙ্গদর্শনের ফটোগ্যালারিতে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Post Tags
Developed by DXDasia