
আলপনার মধ্যে দিয়ে নাগরিক ও প্রান্তিক সমাজের মেলবন্ধন
ক’দিন আগে, সরস্বতী পুজো উপলক্ষে আমাদের স্কুল অর্থাৎ বড়া শ্রী গৌরাঙ্গ বিদ্যালয়ের (নানুর, বীরভূম) ছাত্রছাত্রীরা খুব আনন্দ করে খড়ি রং দিয়ে প্রাণশক্তির দম থাকা ইস্তক আলিম্পন বা আলপনা দিয়েছিল সারা স্কুলবাড়ির বিভিন্ন চত্বর। সুতরাং এখনই সে প্রসঙ্গ অবান্তর। বরং বসন্ত-আবাহন এবার অবশ্য খানিক আগেভাগেই এই মাঝ- ফাল্গুনে সেরে নেবার কথা চলছিল। নয়ত প্রতিবার বাঙালির দোল ও বাকি ভারতের হোলি পেরিয়ে সেটা সেই চৈত্র-সংক্রান্তির আগের দিনে এসে ঠেকে নানান কার্যকারনে।
মাস দু-তিন আগে শিল্পী অধ্যাপক সুধীরঞ্জনদা (সুধীরঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন অধ্যাপক, বিশ্বভারতী) ইচ্ছেপ্রকাশ করে লিখেছিলেন-
“খুব ইচ্ছে যে গ্রামের নিকোনো আঙিনায় আঙুলে সবাই মিলে আলপনা দিই। সেখানে গ্রামীণ আলপনা জানা মহিলারা থাকবেন। তাঁদের কাছে দেখে নেব, শিখব – আর আমরা তাঁদের সেই আলপনাকে আমাদের সাধ্যমতো সাজিয়ে তুলব। পারবে, এমন একটা আয়োজন করতে? খুব সিরিয়াসলি বলছি। পারলে তুমিই পারবে।”

সুধীরঞ্জনদা প্রস্তাব পড়ে যুগপৎ দু’টি প্রতিক্রিয়া হয়। সেই যে রবীন্দ্রনাথের ‘বিচিত্র সাধ’ কবিতাটি, যার শেষ পরিচ্ছেদ- ‘ইচ্ছে করে পাহারওলা হয়ে/ গলির ধারে আপন মনে জাগি’ সে কবিতার চতুর্থ অনুচ্ছেদে যেন সুধীরঞ্জনদার এই ‘ইচ্ছে’টা দিব্যি জায়গা করে নিতে পারে। বললে অত্যুক্তি হবে না, এই দেশ-বিদেশ খ্যাত প্রথিতযশা শিল্পী ও অধ্যাপক মানুষটির ভেতরে যে শিশুমনটি, ভাবুক মনটি এই বয়সেও এমন জাগরুক, এমন আগ্রহী, সাবেক আলপনার মোটিফ, গতি, বিষয়বৈচিত্র্য- সর্বোপরি, এই হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই পথ চলে সেই গুহামানবের দেওয়াল-চিত্র থেকে জাদুবিশ্বাসের লোকাচারের পথ বেয়ে আজও গ্রামীণ শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গণে, ব্রত-উপাচার, পুজো-পার্বণে নিকোনো উঠোনের ধানের মড়াইটির সামনে খড়িমাটির লক্ষ্মীর পা- গাঁ ঘরের এই আলপনার পাকাপোক্ত আসন দখল করে থাকার গল্পটির প্রতি যাঁর এত মুগ্ধতা ও গভীর শ্রদ্ধা – সেই তাঁর এমন একটা ইচ্ছা প্রকাশ নিছকই শিল্পীর বেখেয়াল বা তাৎক্ষণিক আবেগ বলে ভুলে যেতে পারিনি।
এই প্রথম ছেলেমেয়েরা দেখলো স্কুলে তার মা অথবা কোনও নিকটাত্মিয়া গেলেন এক আনন্দ যজ্ঞের অংশগ্রহণকারী হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে। এ সম্মান ওঁদের প্রাপ্য। ফলে বারবার সুযোগ তৈরি করে তা পৌঁছে দেবার দায় প্রতিষ্ঠানের।
বস্তুত তারপর থেকে মাথার মধ্যে দিনরাত সেই ‘বিসর্জন’-এর নক্ষত্র রায়ের মতো দশা- দুই কানে যেন দুই টিয়াপাখি খালি বলে গেছে, ‘কবে হবে সেই মেলবন্ধনের প্রচেষ্টা? পারবে না এমন একজন শিক্ষকের এই অভিলাষ, স্বপ্নপূরণ করতে? এতখানি বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে?’
স্কুলে এ দু-তিন মাস প্রেয়ারের পর, এ ক্লাস থেকে ও ক্লাসে যাবার সময়, ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে কেবলই স্কুলের উঠোনটার চারিদিক দেখে বেড়াতাম। কোথায় আছে সেই পরিসর যাকে সত্যিই বাংলার গ্রামীণ বাড়ির আদলে একটি নিকানো দাওয়ার রূপ দেওয়া যেতে পারে। সিমেন্টের বেঞ্চ দিয়ে বাঁধানো কদমগাছ দুটি আমাকে মৃদু হেসে একদিন ডেকে দেখালো- তাদের মাঝখানে আছে সেই পরিসর। জমি তো পাওয়া গেল। এবার? মাটি যদি বা স্কুলের বাউন্ডারির এ পাশে রয়েছে, তবু সেটা কেটে, কদমতলায় ফেলবে কে? অনেক মাটি যে!

সব সমস্যার সমাধান করতে হাত-পা ঝেড়ে এগিয়ে এলো দশম শ্রেণীর তস্য দুষ্টু বদমাইস ছেলেগুলো। ছবিতে দেখুন হাতে হাতে ওরা মাটি কেটে, বালতি বালতি মাটি ফেলে, জল দিয়ে পলিয়ে, চারপাশে ইঁটের টেম্পোরারি বাঁধ দিয়ে গেঁথে ফেলল দাওয়া। কোদাল, শাবল থাকলেও দুরমুশ স্কুলে নেই। কর্মশিক্ষার ঘরে একটা ভাঙা বেঞ্চ ছিল। সেটাই মহানন্দে চারিয়ে পেরেক খুলে পাটা বের করে নব্য ভীমেরা গদা কাঁধে নেমে এসে কদমতলার দাওয়া পেটানো শুরু করল। বলাবাহুল্য পাটা দুটি অচিরেই ভেঙে দুটুকরো হওয়ায় আরও দু’জন হাত লাগালো। ওদের পালা করে রেখে বাকি ভীমেদের তাড়িয়ে ক্লাসে পাঠানো হয়েছে এ ক’দিন।
অভিজ্ঞ সহকর্মীদের পরামর্শে ও আমাদের স্কুল-সংসারের সহায়িকা আহ্লাদীদির তদারকিতে দাওয়ার চেহারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছিল ক্রমশ। এরপরের ধাপ হল- লেপন। ছেলেরা অদূরেই গ্রামের গঙ্গাদার বাড়ি থেকে গোবর নিয়ে এল। আহ্লাদীদির কথামতো তার সঙ্গেই স্কুল ছুটির সময় বালতিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখা মাটি ‘পাইল’ করে নিকোনো শুরু হল। শত বারণ সত্ত্বেও কেটে যাওয়া আঙুল নিয়ে আহ্লাদীদি ছেলেমেয়েদের সঙ্গেই নিকানোর বালতিতে হাত চোবালো। ছোটোদের (এবং আমাদেরও) এক দাবড়ানিতে সরিয়ে দিয়ে ফার্স্ট কোটিংটা ওই দিল। যে কাজ ওর রক্তে, ওর প্রতিদিনের যাপনে, ওর আত্মবিশ্বাসী হাতের চেটো ও আঙুলের অর্ধবৃত্তাকার পোঁচ সে কথাই লিখে চলেছিল… ধুলির পরে কী আবেশে…!

ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আমরাও ওই কদমতলার ক্লাসরুমে হাঁ করে দেখছি- তাই তো, এও এক অসাধারণ পাঠ, এক সফল শিখন-শিক্ষণ প্রণালী!
শুধু দশম না, দাওয়া নিরেট ও যতদূর সম্ভব মসৃণ করতে লাগাতার গোবর ও পলি লেপন চালিয়ে গেছে সপ্তম/অষ্টম এর ছেলেমেয়েরাও। ও হ্যাঁ, কর্মশিক্ষার মূল যে কথা- হাতেকলমে কাজের মাধ্যমে শেখা বা কাজ করতে করতে শেখা, তা সেই শেখাটা সম্পূর্ণ হল যেদিন দেখি, বারবার লেপেও দাওয়ার মেঝে মোটেই আলপনার আঙুল চালানোর মতন মসৃণ হচ্ছে না দেখে সেই দুষ্টু ছেলেগুলো কোত্থেকে একখান নীল মশারির ফালা এনে তাতেই শুকনো মাটি চেলে চেলে মিহি মাটি জমা করছে বালতিতে। এমন করে ‘trial and error’ পার হয়েই তো পৃথিবীর তাঁহা তাঁহা বিজ্ঞানীদের পথ চলা! শাবাশ!

ইতিমধ্যেই মিড-ডে-মিলের দিদিদের সঙ্গেও প্রায় রোজ মিটিং। এ যজ্ঞের কাণ্ডারী সুধীরঞ্জনদার যে ওনারাই অন্যতম সঙ্গত! তৃষ্ণাদির কাছে ভরসা পেলাম ওনারা যজ্ঞের দিনে ভাগ হয়ে কেউ কেউ রান্নাঘরে ঢুকবেন ছোটোদের তো বটেই, অভ্যাগত অতিথিদের মায় আমাদের সবার জলযোগের ব্যবস্থা করতে; আর বাকিরা সেদিন কদমতলায় শিল্পীর সঙ্গে আলপনা দেবেন। কিন্তু আরও মায়েরা বাদ থেকে গেলেন যে! আমাদের এলাকার চারপাশের গ্রামগুলির যে সমস্ত শিশুকিশোরদের আমরা পড়াই, তাদের মা, কাকিমা, ঠাকুমা, দাদি নানীদের সঙ্গে স্কুলের সংযোগ ঘটানোর সুযোগ তো বারবার আসেনা!
বিএড পড়ার সময় পড়েছিলাম- A school is meant to bridge the entire community. আজ প্রায় দু’দশক কাল ধরে এই গ্রামের স্কুলে পড়াই। গ্রামজীবন যেহেতু এখনও শহুরে নাগরিক জীবনের মতো বিচ্ছিন্নতা-বিলাসী হয়ে ওঠেনি, তাই স্কুলের বাইরে শিশুকিশোরদের বস্তুত আর একটি স্কুল আছে- তার নাম সমাজ। একটি বিদ্যালয়ের তাই অন্যতম লক্ষ্য- এই সমাজ বা কমিউনিটির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগ। নয়তো বিদ্যালয়ের অস্তিত্বটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে আর তাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছেলেমেয়েরা, যারা ওই কমিউনিটির মানব-সম্পদ। এই ভাবনাও এলো- গার্জেন মিটিং-এ যখন অভিভাবকরা আসেন, তখন সভাটির অভিমুখ শিশুকেন্দ্রিক। এই প্রথম ছেলেমেয়েরা দেখবে স্কুলে তার মা অথবা কোনও নিকটাত্মিয়া গেলেন এক আনন্দ যজ্ঞের অংশগ্রহণকারী হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে। এ সম্মান ওঁদের প্রাপ্য। ফলে বারবার সুযোগ তৈরি করে তা পৌঁছে দেবার দায় প্রতিষ্ঠানের। অক্ষরের অধিকার যারা অর্জন করেছি, আগামী দিনে এই অধিকার অর্জনের পথে যাদের এগিয়ে দেবার কাজে যুক্ত আছি, তারা জানি এর ফল সুদূরপ্রসারী।

প্রায় সব ক’টি গ্রামের সমস্ত বিভাগ থেকে শিশুদের অভিভাবিকাদের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করার চেষ্টায় উল্লিখিত বিশেষ অতিথিদের সকলকে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করা হয়, কেন না এ অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শিল্পীর সঙ্গে ওঁদের এক অঙ্গণে মেলবন্ধন ঘটানো। আর আগেই বলেছি এই মেলবন্ধনের জন্য অধীর অপেক্ষা ছিল স্বয়ং শিল্পীর!
তাঁদের লজ্জা, কুন্ঠা ভাঙতে সময় লেগেছে। বিশ্বাস করতে পারছিলেন না কেউ কেউ। তারপরেও বিশ্বাস রেখে এলেন তাঁরা। রঙের বাটি ও ছেঁড়া কানি নিয়ে এগিয়ে গেলেন কদমতলায় নবনির্মিত দাওয়ায়। ততক্ষণে মূল মঞ্চ থেকে সুধীরঞ্জনদাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। শুরু হল ওঁদের একযোগে আলিম্পন।
এবারের বসন্ত-আবাহন অনুষ্ঠানটি এই আলিম্পনকে সামনে রেখে দু’টি পর্বে ভাঙা হয়েছিল। স্কুলের প্রায় সমস্ত ছেলেমেয়েদের ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’ নৃত্যযাত্রার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অতঃপর প্রথম পর্ব ছিল সুধীরঞ্জনদার ও গ্রামের মায়েদের কদমতলার দাওয়ায় একসঙ্গে আলিম্পন। তার সঙ্গেই একে একে চলছিল ছাত্রছাত্রীদের প্রতিটি ক্লাসের সমবেত গান ও দুটি সমবেত নৃত্য। এ ছাড়াও এই পর্বে দুটি একক নৃত্য পরিবেশন করেন কম্পিউটার শিক্ষিকা চৌধুরী জাকিয়া নাজনীন।

দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হলো, সুধীরঞ্জনদা বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে কদমতলার আলপনা সাঙ্গ করে মঞ্চে আসার পর। ততক্ষণে ওনার আঙুল মনে হয় ক্ষতবিক্ষত। ওই দাওয়া মসৃণ হতে এখনও অনেক সময় লাগবে।
এবার উনি এসে রঙ ও তুলি নিয়ে একটি জলচৌকির উপর রাখা Hard Mount board-এ তাঁর চিরাচরিত মগ্নতায় ডুবে যান অচিরেই। আর তখন আবহ? সে রচনার ভার নিয়েছিলেন শিল্পীর সুযোগ্যা স্ত্রী, আমাদের সুপর্ণাদি (সুপর্না মুখোপাধ্যায়, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা, বাহিরী স্কুল, বীরভূম)। তার আগে প্রথম পর্বেও সবাই দেখেছিলাম ছেলেমেয়েদের সঙ্গে একটার পর একটা বসন্তের গানে সুপর্ণাদির গলা মেলানো। বাহিরী স্কুল থেকে সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত এক ছাত্র-দরদী ইতিহাসের শিক্ষিকা, যিনি নিজেও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেও এমন করেই নানান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাঁধা পড়েছিলেন, আন্দাজ করতে পারছিলাম তাঁর মনের আন্দোলন।
প্রথম পর্বেই আর যে দু’জন অতিথি তাঁদের স্বাক্ষর রাখেন, তাঁরা হলেন এস্রাজ বাদক প্রীতম চক্রবর্তী ও খোলবাদক অবিনাশ দাস। সাদা hard board-এ কমলা, হলুদ, খয়েরি, গাঢ় সবুজের পোঁচ পড়ছিল বেশ দ্রুত, বসন্তের যে রূপটি ছিল বিমূর্ত, তা ক্রমশই মূর্ত হয়ে উঠলো চোখের সামনে। শুধু রঙ-তুলিতেই নয়, একই আবেশ তৈরি হচ্ছিল দ্বিতীয় পর্বের আলেখ্য, যা গাঁথা ছিল সুপর্নাদির গানে, স্কুলের শিক্ষকদের নির্বাচিত রবীন্দ্র কাব্যের ও গদ্যের অংশবিশেষ পাঠে, বাঁশির সুরে, খোলের বোলে ও এস্রাজের মূর্চ্ছনায়। আলেখ্যটির শেষ পর্যায়ে প্রীতম যখন এস্রাজ বাজিয়ে গান ধরল, ‘বাসন্তী হে ভুবনমোহিনী…’ আর সুধীরঞ্জনদার তুলিও তখন ধরাতলে, খোদ বড়া স্কুলের স্টেজে বসে সেই বিমূর্ত অধরা মাধুরীকে রেখার ছন্দবন্ধনে প্রায় বন্দী করে ফেলেছে। সমস্ত চরাচরে যেন সেই গান ধ্বনিত হচ্ছিল- যে গান কানে যায় না শোনা…! মাঠে বসে থাকা ছেলেমেয়েদের মনে, গতকাল বড়া স্কুলের উঠোনের সমস্ত গাছেদের শরীরে, আকাশে বাতাসে, সর্বত্র যেন এই সুর অনুরণন ছড়িয়ে দিচ্ছিল… frequency বা কম্পাঙ্ক মিলে গেলে resonance বা অনুনাদ তৈরি হয়- হলো তা এই দিনে। একটি অনির্বচনীয় মুহূর্ত-রচনার সাক্ষী থাকলাম আমরা। এখনও অবিশ্বাস্য লাগছে। কি আশ্চর্য না! জীবন সত্যিই আমাদের অভাবনীয় কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়ে যায়। এই পরম লগনকে চিনে নিতে হয়।

আমাদের চিরচেনা বড়া স্কুলের সারা প্রাঙ্গণ জূড়ে একটি রূপকথার জন্ম হয়েছিল এই দিন।
সুপর্নাদির গানের সঙ্গে সুধীরঞ্জনদার আলপনা-কাব্য রচনা- এই যুগলবন্দী প্রথম দেখার সৌভাগ্য হয় লকডাউনের সময় আমাদের পশ্চিমপল্লীর ‘লুকোচুরি’ বাড়িতে। তারপর সামাজিক মাধ্যমে আরও কয়েকবার, বা অন্যান্য প্রিয় গানের শিল্পীর সঙ্গেও এমন যৌথ নির্মাণ করতে দেখেছি সুধীরঞ্জনদাকে।
কিন্তু বড়া স্কুলের মতো নিতান্ত একটি গ্রামের সাদামাটা স্কুলের পরিবেশে সুপর্নাদি ও সুধীরঞ্জনদার নিজ নিজ ক্ষেত্রে এমন সহজ, সাবলীল বিচরণ ও মনের আনন্দে এই আনন্দযজ্ঞে অবগাহন- আমাদের তো বটেই, আমাদের ছেলেমেয়েদের কাছে শিক্ষনীয় হয়ে রইল। সত্যিই ওঁরা দুজনেই যথার্থ শিক্ষক। আমাদের বড়া স্কুলের সৌভাগ্যের শেষ নেই। আমরা ধন্য। আমরা আপ্লুত। আমরা আনন্দ সাগরে ভাসছি।
জানি না কিভাবে বড়া স্কুল- পরিবারের সকলকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করব! ‘আলিম্পনে বসন্ত-আবাহন’, ১২ মার্চ, ২০২৪ একটা দুঃসাহসী স্বপ্ন ছিল। সক্কলের ঐকান্তিক ও অকুণ্ঠ সহযোগিতা ছিল আমাদের পুঁজি ও বল। এ কি কম বড়ো কথা!! বড়া স্কুলের এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা একটি অমূল্য সম্পদ হয়ে থেকে যাবে।
__________
ছবিসূত্র- লেখক
