
সারাবছর জুড়ে পাঠ করা যাবে দৃশ্যদের। শুধু দেখবেনই না, হাতে তুলে নেবেন, পারলে কিনে নেবেন
ধরুন আপনি একটি পত্রিকা সম্পাদনা করছেন। তাতে রাখলেন ক্রোড়পত্র; পাতা ওল্টালেই নজরে আসবে ক্রোড়পত্রের পর হরেকরকমের লেখা। ছবি, সাক্ষাৎকার, কবিতার অনবদ্য সমাহার। প্রত্যেকেই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে নিজস্ব ছন্দে চলাফেরা করছে। এইভাবে পাঠকের পড়া শেষ হবে। আপনি আবার পরের সংখ্যার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দেবেন। এবার এই পত্রিকা যদি ভিস্যুয়ালি দেখতে চান? মানে ধরুন আপনি পড়ার বদলে দেখছেন। পাতা ওল্টানোর কোনো সিন সেখানে নেই ঠিকই, তবে অনুভব করার বা পাঠ করার সমস্ত রকম দরজা খোলা রয়েছে। এক্ষেত্রে পত্রিকা বলব না, কারণ তা মুদ্রিত। তাহলে এর পোশাকি নাম কী দেওয়া যায়? দেবভাষা-র দুই কর্ণধার সৌরভ দে এবং দেবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় এক্ষেত্রে সম্পাদকের ভূমিকা গ্রহণ করলেন। নাম দিলেন দৃশ্যপট। যার ভাবনায় বাস করবে সারা বছরের আর্ট মেলা। দৃশ্যপট আপনি চাক্ষুষ করতে পারবেন প্রতি মাসে। একটি পত্রিকার মতোই সে তার নিজস্ব স্বভাবে সাজ পরিবর্তন করবে, ভাবনায় আনবে চমক, বিষয়ে থাকবে বৈচিত্র্য, ক্রোড়পত্র প্রতিমাসে পাল্টাতে থাকবে।
এমনই এক অসাধারণ ভাবনা থেকে সেপ্টেম্বর মাসে যাত্রা শুরু হল দৃশ্যপটের, দেবভাষার পুরনো আবাসে। সেখানে সারাবছর জুড়ে পাঠ করা যাবে দৃশ্যদের। শুধু দেখবেনই না, হাতে তুলে নেবেন, আপনার যেটা পছন্দ সেটার দাম দিয়ে কিনে ব্যাগে ভরে নেবেন।

মুখচ্ছদ-
প্রথম সংখ্যার দৃশ্যকাব্যে পাবেন দুর্গা কেন্দ্রিক অনবদ্য কিছু পেন্টিং। সেইসব ফ্রেমের মাঝে বসে আছেন মহীরুহ কবি মণীন্দ্র গুপ্ত। তাঁর দুর্গাকেন্দ্রিক একটি কবিতা সেখানে শোভা পাচ্ছে। “আমি সুর করে গাই, যে আমাকে দুবেলা খেতে দিচ্ছে, সে আমার দুর্গা।”- তাঁর কবিতা জুড়ে আছে এমনই কতগুলো লাইন। দেবী আসছেন এবার ছবিতে ভাস্কর্যে টেরাকোটায় প্রিন্টে। আর্ট ফেয়ার এখন থেকে কেবল পরিযায়ী পাখির মতো শীতের অতিথি নয়, উৎসব চলবে সারাবছর।

ধারাবাহিক শিল্পকাজ-
বাংলা সাহিত্যের কত কত কিংবদন্তিপ্রতিম লেখা ধারাবাহিক উপন্যাস, স্মৃতিকথা ইত্যাদি আলো করেছে পত্রিকার পাতা। এবার ধারাবাহিক শিল্পকাজ। সুশোভন অধিকারীর শিল্পরসিক কলমের সঙ্গে বঙ্গজনের আদরের সম্পর্ক। তাঁর একটি ছবি দিয়েই শুরু হল দৃশ্যপটের ধারাবাহিক শিল্পকাজ।

ধারাবাহিক অক্ষরচিত্র-
দৃশ্যপটের অন্যতম সম্পদ শিল্পী কৃষ্ণেন্দু চাকীর ধারাবাহিক অক্ষরচিত্র। তাঁর ছবি বা অলঙ্করণ কিংবা অসামান্য সব প্রচ্ছদচিত্র লেটারিং বাংলার গ্রন্থজগতকে গর্বিত করেছে। দৃশ্যপটের জন্য প্রতি মাসে তুলি ধরবেন এই শিল্পী। এই ধারাবাহিক অক্ষরচিত্রের প্রতি মাসে শিল্পী স্বাক্ষরিত কেবল মাত্র ১০টি সংস্করণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ কৃষ্ণেন্দু চাকীর এই অক্ষরচিত্র সারা পৃথিবীতে কেবলমাত্র ১০ জনই সংগ্রহ করতে পারবেন। এই সেরিগ্রাফের মূল্য ৫০০ টাকা।

অন্যান্য শিল্প-
সারা জীবন নীরবে শিল্পসাধনা করে গেছেন অনিতা রায়চৌধুরী। ছবি আঁকাই ছিল তাঁর একমাত্র আনন্দকাজ। গত বছর খুব নীরবে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কিন্তু মৃত্যু কোনো শিল্পীকেই আমাদের থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারে না। শিল্পকাজের মধ্যে দিয়েই স্রষ্টার সঙ্গে বারবার দেখা হয়ে যায় আমাদের। কে.জি সুব্রমহ্মণ্যন কক্ষে অনিতা রায়চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হবে শিল্পরসিকদের। প্রসঙ্গত, প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন অনিতাদেবীর সহপাঠী চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী। এ মাসের ‘টেরাকোটা’ বিভাগ সেজে উঠেছে সৌমিক নন্দী মজুমদার চিত্রিত মাটির কলমদানী নিয়ে। ভাস্কর্যে সুতনু চট্টোপাধ্যায়। পত্রিকায় যেমন বিশেষ রচনা, দৃশ্যপটে তেমনি ‘বিশেষ শিল্পকাজ’ মজিলপুরের দক্ষিণ রায় ও বনবিবি। পত্রিকার ফোটোফিচারের মতো দৃশ্যপটে থাকছে একটি বিভাগ, যার নাম রাখা হয়েছে ‘চিরনতুন’। এই বিভাগটি শুরু হয়েছে দেবভাষা প্রকাশিত শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর ড্রয়িং-এর অ্যালবাম নিয়ে। থাকছে ‘এ মাসের অলংকার’। এবারে শিল্পী কে.জি সুব্রমহ্মণ্যনের স্বাক্ষরিত প্রিন্ট নিয়ে সেই বিভাগটি রাখা হয়েছে।
প্রদর্শনীটি চলছে দেবভাষার আদি আবাসে (৬বি, যতীন দাস রোড, লেকমার্কেট, কলকাতা- ২৯)। প্রতি মাসে বিভিন্নরকম বিষয়কে মাথায় রেখে সারাবছর চলবে এমন আর্ট মেলা।
