
নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাখিদের নিশ্চিন্ত ঠিকানা
বিদেশি পাখির বিচরণ বাড়ল ফুলবাড়িতে। শিলিগুড়ি শহরের গায়ে ফুলবাড়ি এলাকার মধ্যে পড়ে মহানন্দা ব্যারেজ। সেখানকার জলাশয়ে প্রতি বছর নভেম্বর থেকে বিদেশি পাখিদের আনাগোনা শুরু হয়। এপ্রিল পর্যন্ত তারা থাকে। আবার চলে যায় অজানা গন্তব্যে। এবারেও তারা অনেকে এসেছে।
প্রায় ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফুলবাড়ি এলাকায় বহু পাখি আসছে। মহানন্দা ব্যারেজ থেকে জল যায় বাংলাদেশে। তার আগে ব্যারেজের পাশেই নদীর গায়েই আছে জলাশয়। প্রায় দশ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জলাশয়। সেখানেই বিভিন্ন রকম পাখি। চখাচখি, বালিহাঁস, সোলসি, চেরচেরা, পানকৌড়ি, সারস, বক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাখি। প্রায় ৪০ প্রজাতির পাখি আসে। নিউজিল্যান্ড, আমেরিকা, মানস সরোবর এবং ইউরোপের নানান দেশ থেকে আসে নানা রঙের, নানা ধরনের এই পাখির দল। সেই হিসাবে উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ কুলিক পক্ষী নিবাস থেকে শুরু করে গাজোলডোবার পাখি আড্ডার থেকে কোনও অংশে কম নয় এই ফুলবাড়ি। হাজার হাজার পাখি আসে সেখানে।
আরও পড়ুন
পাখির খোঁজে মংলাজোড়ি
কিন্তু গত চার-পাঁচ বছর ধরে সেখানে পাখি কমে আসছে নানান কারণে। একদল জেলে মাছ ধরতে গিয়ে সেখানে বিপত্তি ঘটায়। রয়েছে চোরাশিকারির তাণ্ডব। এছাড়াও রয়েছে পিকনিকে শব্দের হুল্লোড়। মাইকে অনবরত শব্দের দাপট পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়ে বিপত্তি ঘটাচ্ছিল। এবারে অপ্টোপিক নামে একটি সংস্থা শীতের পিকনিক মরশুম শুরু হতেই পিকনিকের শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে প্রচার চালায়। প্রশাসন সেখানে কিছু বিধি নিষেধ চালু করে। আর এসবের জেরে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ন্যাফ সেখানে সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষার জেরে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পাখির সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে সেখানে। গত বছরের তুলনায় যা কিনা ১৬৩৩টি বেশি। অপ্টোপিকের কনভেনর দীপজ্যোতি চক্রবর্তী জানালেন, বাঁধের দিকে পিকনিক বন্ধ হওয়া এবং মাইক বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বেড়েছে। তাঁরা ধারাবাহিকভাবে এই প্রচার চালিয়ে যাবেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন সেখানে পরিযায়ী পাখি ও ব্যারেজের পরিবেশ নিয়ে পর্যটন পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।
