
প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা সোমেন মিত্র
ছোড়দা অর্থাৎ সোমেন মিত্র। পুরো নাম সোমেন্দ্রনাথ মিত্র। কংগ্রেস এবং বঙ্গ রাজনীতির মঞ্চে সকলের প্রিয় ছোড়দা নামেই সবচেয়ে জনপ্রিয়। সেই ষাটের দশকে যোগ দেওয়া দলীয় রাজনীতিতে। প্রথমবার শিয়ালদহ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হলেন ১৯৭২ সালে। মাঝে একবার ওই কেন্দ্রে কংগ্রেস না জিতলেও ২০০৬ পর্যন্ত শিয়ালদহের মানুষ তাঁকে খালি হাতে ফেরাননি।
এরপর ২০১১-য় ঘটল রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদল। ৩৪ বছর রাজত্ব করে সিপিএমকে সরিয়ে ক্ষমতায় এল তৃণমূল। যদিও এর মাঝে এবং এর পর অনেককিছুর সাক্ষী থেকেছেন তিনি। তবে ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের তৃণমূলের সবচেয়ে বড়ো চমক ছিল সোমেন মিত্র। ডায়মন্ডহারবার থেকে জিতলেন ছোড়দা। ২০১৪ সালে ফের কংগ্রেসে যোগ দিলেন। ২০ বছর পর ২০১৮-র ২২ সেপ্টেম্বর ফের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হন তিনি। আমৃত্যু সেই পদেই ছিলেন।
এই সুদীর্ঘ জীবনে রাজনীতির বহু পালাবদল দেখেছেন তিনি। তবু তিনি যেন খানিকটা অন্যরকম। মন্ত্রিত্ব বা প্রশাসনিক ক্ষমতা নয়, তাঁর প্রথম ভালোবাসা ছিল সংগঠন।
অবশেষে বুধবার মধ্যরাতে প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান নেতা সোমেন মিত্র। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাত ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে গত বেশ কয়েকদিন ভর্তি ছিলেন শহরের বেসরকারি হাসপাতালে। তবে দুদিন আগেই তাঁর ছেলে সাংবাদিকদের জানান, তাঁর বাবা চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। আচমকাই, বুধবার রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। ছোড়দার মৃত্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ট্যুইটার এবং ফেসবুক পোস্টে জানান, “বর্ষীয়ান নেতা, প্রাক্তন সাংসদ এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রের প্রয়াণে আমি শোকস্তব্ধ। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল”।
