
বিকল্প শক্তির সন্ধানে গবেষণায় নিতান্ত কম নয় এই বঙ্গসন্তানের ভূমিকা
পৃথিবী থেকে একদিন শেষ হয়ে যাবে ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার। ফলে পরমাণু শক্তির ভাণ্ডার নিয়েও একদিন প্রশ্ন উঠবে। তাই বিজ্ঞানীরা বিকল্প শক্তি নিয়ে ভেবে চলেছেন। বিভিন্ন ভাবে বিকল্প শক্তির সন্ধানে কাজ শুরু হয়েছে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স সহ পৃথিবীর উন্নত দেশের বিজ্ঞানীরা তাদের কাজ করছেন। আর সেই কাজে নিজেকে যুক্ত করে নিয়েছেন আমেরিকা নিবাসী ভারতীয় বিজ্ঞানী ডঃ সুদীপ সেন। পশ্চিমবঙ্গেরই শিলিগুড়িতে তাঁর বাড়ি। বছর শেষে এই বিজ্ঞানী ঘুরে গেলেন তার নিজের বাড়িতে।
শিলিগুড়ি হাকিমপাড়ায় বাড়ি বিজ্ঞানী সুদীপ সেনের। তিনি এখন আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ এরো স্পেসের অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী। তাছাড়া আমেরিকার উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি ইউনিভার্সিটির বিশেষ অধ্যাপক। তিনি মূলত পদার্থবিজ্ঞানী। ডঃ সেনের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ এরো স্পেসের সঙ্গে ভার্জিনিয়া টেক, নাসার গোদারড স্পেস সেন্টার, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, বোনিক স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় মিলে বিকল্প শক্তির সন্ধানে প্লাজমা ফ্লো নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। নেওয়া হয়েছে গবেষণার বিশেষ প্রকল্প। ডঃ সেন বলছিলেন, টিউবের মধ্যে আছে আয়োনাইজড গ্যাস। তার একটা গতি আছে। আর তার ওপর চলছে গবেষণা। সেই গতি থেকে বিকল্প শক্তির সন্ধান চলছে। একইভাবে সূর্যের গ্যাসের গতির ওপর তাঁদের প্লাজমা বিজ্ঞান কাজ করছে। সেখান থেকেও শক্তি ধরার গবেষণা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সে একটি কৃত্রিম সূর্য তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সেই কৃত্রিম সূর্য বা রিয়াক্টর তৈরির জন্য ফ্রান্স ছাড়া রাশিয়া, চিন, ইউরোপের ১৪টি দেশ একযোগে কাজে নেমেছে। নিউক্লিয়ার ফিশানের মাধ্যমে হাইড্রোজেন ভেঙ্গে তৈরি হবে বিকল্প শক্তি। সেই রিয়াক্টর তৈরির স্কেচ তৈরি করতে বিজ্ঞানীদের লেগে গিয়েছে পাঁচ বছর। এবার সেই রিয়াক্টর তৈরির কাজ শুরু হবে। আর সেক্ষেত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের থিওরির মধ্যে ডঃ সেনের থিওরিও রয়েছে।
আরও পড়ুন
ধ্রুপদে সুরের সাজে উত্তরের চা-বাগান
ডঃ সেন জানালেন, বিকল্প শক্তির সন্ধানে তাঁদের গবেষণা পুরোদমে চলছে। আর সেই কৃত্রিম সূর্য তৈরি হলে তা থেকে বর্জ্য বা দূষণের সম্ভাবনা নেই। হাইড্রোজেনও পর্যাপ্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন পরমাণু শক্তি থেকে অনেক বর্জ্য বের হয়। তা থেকে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। নতুন বছর শুরু হওয়ার আগেই শিলিগুড়ি ঘুরে গেলেন এই প্রতিভাবান বিজ্ঞানী। শিলিগুড়ি বাণীমন্দির স্কুল থেকে ১৯৮১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জেলাতে প্রথম হয়েছিলেন তিনি। তিনি জানালেন, আমেরিকায় যেসব অধ্যাপক কাজ করেন বা যেসব ছাত্রছাত্রী আছেন তাদের মৌলিক গবেষণার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনায় রাজনীতিকে কোনোভাবেই প্রাধান্য দেওয়া হয় না। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি তাঁরা সাইবার সিকুরিটি নিয়ে পড়াশোনার কোর্স চালু করেছেন। এনার্জি প্রযুক্তি নিয়েও বিশেষ প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত ডঃ সেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের আমন্ত্রিত ও অতিথি অধ্যাপক ছিলেন। তারপর সময়ের অভাবে আর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে আসতে পারেন না।
