
তিনি হয়ে উঠেছেন সারা ভারতের মহিলাদের রোল মডেল
এখন ভারতে যতগুলো জলবন্দর চালু আছে, তারমধ্যে কলকাতা বন্দর সবথেকে পুরোনো। ১৮৭০ সালে এই নদীবন্দরটি তৈরি করেছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ১৯ শতকে এটিই ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রধান বন্দর। এখন সারা ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মালবাহী বন্দর এটিই। কলকাতা বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ভারত সরকারের জাহাজ মন্ত্রকের অধীন সংস্থা কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট। সেই কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের প্রথম মহিলা কমান্ডার হয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাঙালি মেরিন অফিসার শর্বরী দাস।
গত শতাব্দীর শেষ দশকে ১৯৯২ সালে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের মেরিন বিভাগে তিনি যোগ দিয়েছিলেন লেডি ট্রেনি অফিসার হিসেবে। সেই প্রথম ঐ পদে কোনো মহিলাকে নিয়োগ করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ, যা ছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। শর্বরীর সঙ্গে আরও একজন মহিলা সেই পদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সেই ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে টিকে ছিলেন শর্বরী। যার ফলে তৈরি হল নতুন ইতিহাস। অন্যদিকে, আরেকজন মহিলা অফিসার হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন মাঝপথেই। এর ২০ বছর পর ২০১১ সালের এপ্রিলে তিনি যোগ দিলেন পাইলট সার্ভিসে।
কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভিস গোটা এশিয়ার মধ্যেই প্রাচীনতম। শর্বরী প্রথমবার পরীক্ষাতে বসেই সফলতা লাভ করেন, এবং যোগ দেন হাইড্রোগ্রাফারের পদে। ১৯৯৮ সালে সিনিয়ার হাইড্রোগ্রাফার হিসেবে পদোন্নতি হয় তাঁর। এর আগের বছর, ১৯৯৭ সালে বিবাহিত জীবন শুরু করেছিলেন শর্বরী। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের প্রথম মহিলা কমান্ডার হয়েও পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে কোনো সমস্যা হয়নি তাঁর। বরং যখনই তিনি কোনো অসুবিধের মধ্যে পড়েছেন, তখনই সহকর্মীরা বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত।
তবে কাজের জগতে তিনি যে কখনও বাধার সম্মুখীন হননি, তা নয়। যে কোনো মানুষের মতোই নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা দাঁড়িয়েছে তাঁর পথ রোধ করে। তিনিও নিজের সাহস ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অতিক্রম করেছেন সেগুলোকে। ২৭ বছরের কর্মজীবনে এভাবেই লড়াই করে তিনি পৌঁছেছেন খ্যাতির শীর্ষে। তাঁর দুই মামা এবং দুই মামাতো দাদা ন্যাশানাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে বেরিয়ে কম্বাইন্ড ডিফেন্স ক্যাডার সার্ভিসে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। এঁরা শর্বরীর কর্মজীবনের প্রেরণা জুগিয়েছেন। আর শর্বরী দাস নিজেই এখন হয়ে উঠেছেন, বাংলা তো বটেই, সারা ভারতের মহিলাদের রোল মডেল।
