পাল্টে ফেলার রং এবং কিছু শহুরে ক্যানভাস

কলকাতায় ‘অন্য সময়ের প্রতিচ্ছবি’

রিফ্লেকশন অফ অ্যানাদার ডে অর্থাৎ অন্য সময়ের প্রতিচ্ছবি। এমন একটি দল যাঁরা সারাবছর নানা কাজে নিজেদের যুক্ত করে ফেলেছেন। সেগুলির মধ্যে অন্যতম চিত্র প্রদর্শনী। তাঁরা বলছেন অ্যানাদার ডে। এর বাংলা যদি অন্য সময় ধরে নিই, তাহলে পুরো বিষয়টা আমাদের কাছে চমৎকৃত হয়ে উঠতে পারে। যে ‘সময়’ নির্দিষ্ট কোনো ‘কালে’ আবদ্ধ থাকে না বা ধরাবাঁধা ছকের বাইরে কথা বলতে চায়। সদস্যদের বার্ষিক এই প্রদর্শনী শুরু হয়েছিল ৭ মে থেকে, শেষ হল গত ১২ মে। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য এবং হেরিটেজ স্কুলের অধ্যক্ষ সীমা সাপরু। উজ্জ্বল উপস্থিতি গণেশ প্রতাপ সিং এবং চিত্রশিল্পী সনাতন দিন্দা।

 

একটা বড়ো ক্যানভাসে তুলি দিয়ে আঁকা হচ্ছে কয়েকটা টানা টানা রেখা। লাল, নীল, কালো সেইসব রেখাদের মাঝে ভিড় করে আসছে কোনও মহিলার মুখ কিংবা মায়ের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটি। সময়টা ধরুন বর্ষাকাল, চারদিকে মাথার মতো ভিড় করা ছাতা। আবার শূন্য একটা সিংহাসনও হতে পারে। ধরুন একটা স্বপ্নে গেলেন, যেখান থেকে আপনি এঁকে চলেছেন সেইসব দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরের ছবি। আপনি সকালে প্রতিদিনের মতো বাজার করতে বেরোলেন। থলি ভর্তি বাজার হাতে বাড়ি ফিরে সদর দরজাটি খুলেই দেখতে পেলেন ঘরের মেঝে হয়ে গেছে সবুজ ঘাসে ভর্তি, আপনার মা ফিরে গেছেন যুবতী বয়সে, কোলে দোল খাওয়াচ্ছেন আপনার শৈশবকে। মাটি থেকে বড়ো বড়ো পোকা, লাল নীল পোকা কিলবিল করে উঠে এসে নিজেদের একটা জগৎ তৈরি করে ফেলেছে। আপনি বেশ কয়েকবছর পিছনে হাঁটতে শুরু করলেন। স্মৃতি সত্তা আর ভবিষ্যতের মাঝে আপনি হয়ে উঠলেন কল্পনা। আপনার চোখ দিয়েই আঁকা হল সেইসব পাহাড় প্রমাণ দৃশ্য। দৃশ্যের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার ভয় চিত্রশিল্পীদের থাকতে নেই। নেই বলেই ক্যানভাসে গড়ে ফেলতে পারেন চেনা-অচেনা গল্প। আমাদেরই গল্প। দৃশ্যকে বাড়ির ভিতর ঢুকিয়ে একেবারে বন্ধুস্থানীয় করে তোলায় বিশ্বাস রাখেন তাঁরা।

 

বিড়লা অ্যাকাডেমির এই প্রদর্শনীতে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাজ নজরে এল। যেমন সুমন কবিরাজের ‘মনসুন সিটিজেন্‌স’, বিশ্ব বসুর ‘আরবান অ্যান্ড কেওটিক’, অসীম পালের দুটি ছবি, পুষ্পেন রায়ের ‘ডেইলি নিউজ’, সৌমেন দাসের পেপার ক্লথ অ্যান্ড মিরর’, তিমির ব্রহ্মের একটি কাজ এবং সনাতন দিন্দার ‘লাভ পোশন’। এছাড়াও গ্যালারিতে প্রদর্শিত ছিল তাপস মজুমদার, চন্দ্র ভট্টাচার্য, স্বপন কুমার দাস প্রমুখের কাজও। কারোর বড়ো ক্যানভাস, কারোর ইন্সটলেশন- একটা অসাধারণ নির্মাণের সাক্ষী থাকল কলকাতা।

 

 

Developed by DXDasia