গত চল্লিশ বছরে রেকর্ড বৃষ্টি কলকাতায়, কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে কলেজস্ট্রিট?

বইপাড়ার হিসেব অনুযায়ী এই ক্ষতির অঙ্ক কয়েক কোটি টাকা

সোমবারের মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কলেজস্ট্রিটে বই, ফর্মা, ম্যাগাজিন, সাদা কাগজ মিলিয়ে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ছাপাখানার ক্ষতি তো আছেই। বড়ো প্রকাশনা সংস্থার পাশাপাশি ছোটো বই বিক্রেতাদেরও বিপুল ক্ষতি। যেহেতু আগাম সতর্কতা জারি করা যায়নি, তার মধ্যে সারারাত বৃষ্টি হয়েছে, তাই এত পরিমাণ যে বইয়ের ক্ষতি হবে আগে বোঝা যায়নি। দুর্গাপুজোর মধ্যে রীতিমতো মাথায় হাত কলেজস্ট্রিটের অগনিত প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার ও বই ব্যবসায়ীদের।

এদিন সমাজমাধ্যমে অনেকেই সহমত পোষণ করে আর্জি জানান, যে সমস্ত বইপত্র ভিজে গিয়েছিল কিছুটা, রোদে শুকিয়ে নিয়ে সবাই একজোট হয়ে টানা তিনদিনের একটা ছোট্ট বইমেলার মতো করা যায় না? পাঠক দেখেই কিনবেন। কিন্তু এত বই তাহলে ফেলা যায় না! বহু পাঠক এমন মতকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ধানসিড়ি প্রকাশনা থেকে এদিন সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, “আমফানের ক্ষত থেকেও সেরে উঠেছিলাম, সময় লেগেছিল। এই ক্ষতের শুশ্রূষাও খুঁজে নিতে হবে, তবে পুজোর আগের এই ধাক্কা… সামলে ওঠা সত্যিই কষ্টের, আমাদের প্রিয়, পাঠকের প্রিয় ধানসিড়ি বইঘর বিপর্যস্ত।”

পত্রভারতীর কর্ণধার ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, তাঁদের প্রকাশনা সংস্থার প্রচুর বই নষ্ট হয়েছে মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে। এমন পরিস্থিতি হবে বুঝতেই পারা যায়নি। তাঁদের প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকার বই নষ্ট হয়েছে। গোটা বইপাড়ার হিসেব ধরলে এই ক্ষতির অঙ্ক কয়েক কোটি টাকা।

কিন্তু এই বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বইপাড়া? এদিন সমাজমাধ্যমে অনেকেই সহমত পোষণ করে আর্জি জানান, যে সমস্ত বইপত্র ভিজে গিয়েছিল কিছুটা, রোদে শুকিয়ে নিয়ে সবাই একজোট হয়ে টানা তিনদিনের একটা ছোট্ট বইমেলার মতো করা যায় না? পাঠক দেখেই কিনবেন। কিন্তু এত বই তাহলে ফেলা যায় না! বহু পাঠক এমন মতকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এমনিতে দুর্গাপুজোর জন্য বইপাড়া বন্ধ থাকবে অনেকদিন। অর্থাৎ বিক্রি হবে না তখন। লক্ষ্মীপুজোর পর কি আর এমন উদ্যোগ সম্ভব হবে? বইপাড়া খানিক দিশেহারা। ধ্যানবিন্দুর পক্ষ থেকে জানা যায়, “ছোটো প্রতিষ্ঠান আমরা, বহু অনিশ্চয়তার সঙ্গে আমাদের নিত্য লড়াই, এক একটা ধাক্কা আসে, দাঁতে দাঁত চেপে আমরা সামলাই। দিনরাত খাটি, পরিশ্রান্ত হই, কিন্তু আমরা হাসিমুখে থাকি। কিন্তু হঠাৎ করে জলে ভিজে নষ্ট নতুন নতুন বই, মনোকষ্ট আর আর্থিক ক্ষতি আমাদের একটু বিচলিত করে দিয়েছে।”

মঙ্গলবার সারাদিন ও বুধবার সকালে এখনও পর্যন্ত আর তেমন বৃষ্টি হয়নি। কোথাও কোথাও রোদের দেখা মিলছে। এ অবস্থায় বইপাড়ার জল নেমেছে ধীরে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে আর বিপদ হবে না। ছোটো-বড়ো অসংখ্য প্রকাশনা সংস্থার দপ্তর ছড়িয়ে রয়েছে সূর্যসেন স্ট্রিট, রমানাথ মজুমদার স্ট্রিট, টেমার লেন, আমহার্স্ট স্ট্রিটে।। পুজোর মুখে এই ধাক্কা সামলানো সত্যিই কঠিন। তবে বহু প্রকাশক মনে করছেন, ঘুরে তাঁরা দাঁড়াবেনই, যদি পাঠক ও প্রশাসন পাশে থাকে।
 

Post Tags
Developed by DXDasia