
আরও একসাথে কিছু কাজ বাকি ছিল — প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়
চলে গেলেন মহীনের ঘোড়াগুলির অন্যতম সদস্য রঞ্জন ঘোষাল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। স্ত্রী সঙ্গীতা ঘোষাল ও দুই পুত্রের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতেই পাকাপাকি বসবাস করতেন তিনি। সেখানে নিজের বাড়িতেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। পরিবার সূত্রে খবর, রঞ্জনের হাইপ্রেসারের সমস্যা ছিল।
শোনা যায়, মহীনের ঘোড়াগুলি যে সাতজন সদস্যের হাত ধরে তৈরি হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে রঞ্জন ছিলেন অন্যতম। আজ সকালে এমন অপ্রত্যাশিত খবরটি আসে মহীনের আরও এক সদস্যবন্ধু প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়ের একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। রঞ্জন ঘোষালের একটি ছবি দিয়ে লেখেন, "আরও একসাথে কিছু কাজ বাকি ছিল। কত কী করার আছে বাকি…"। আরও এক পুরোনো সদস্য তাপস দাস লেখেন, “"অনর্গল কথার আলপনা কেরানীদের সাথে মেসঘরে… পরে হলুদ সাবমেরিনে শুরু প্ররিক্রমা…আকাশ বিহারী বিমানযানে ছিল শুধু গতি… ক্ষতি ছিল না কিছুই বাহুল্য কথা বলার কেননা ট্রাম লরি টেম্পোরা তোমার কারণে থাকতো স্থবির…ছবির মতো ছিল কিশোরীর কাঁধের এলোমেলো চুল… ভুল ছিল না কিছুই তবু ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়, মিলিয়ে যায়, অন্ধকার নামে… নিশ্ছিদ্র শীতল নিশ্চিন্ত অন্ধকার… ভালোবাসা রঞ্জন”।
'সংবিগ্ন পাখিকূল ও কলকাতা বিষয়ক' (১৯৭৭), 'অজানা উড়ন্ত বস্তু' (১৯৭৮) এবং 'দৃশ্যমান মহীনের ঘোড়াগুলি' (১৯৭৯) — এই তিনটি অ্যালবাম ভারতীয় আধুনিক গানের মাইলস্টোন। আশির দশকের গোড়ায় ব্যান্ড ছেড়ে নিজেদের কর্মজগতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সকলে, তবে ১৯৯৫ সালে ফের মুক্তি পায় মহীনের ঘোড়াগুলির ‘আবার বছর কুড়ি পরে’।
ডিজাইনার-উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করার আগে রঞ্জন ঘোষাল ভারত হ্যাবি ইল্যাকট্রিক্যালে কর্মরত ছিলেন। শেষ জীবনে ছিলেন মরিচ অ্যাভারটাইজিং সংস্থার সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সংগীতজগৎ।
