তরাই-ডুয়ার্সে পাচারের শিকার প্রায় ১০০ জন কিশোরীকে মূল স্রোতে ফেরানোর অঙ্গীকার

উত্তরবঙ্গের পাচার হওয়া মেয়েদের সংগঠন ‘নবদিশা’, উদ্যোগে আইনজীবী অমিত সরকার

নারী ও শিশু পাচার এখন অন্য‌তম মুনাফা অর্জনকারী ব্য‌বসায়ে পরিণত হয়েছে, যে কারণে নারী ও শিশু পাচারের সংখ্য‌া বাড়ছে অত্য‌ন্ত দ্রুত হারে। এটি শুধু রাজ্যের সমস্য‌া নয়, বরং গোটা বিশ্বে এই সমস্য‌া ছড়িয়ে পড়েছে। এর কারণ বহুমুখী ও জটিল। ধনী বা গরিব দেশ নির্বিশেষে এই সমস্য‌ার শিকার হচ্ছে। ভারতও এর ব্য‌তিক্রম নয়। যদি পাচার হওয়ার ঘটনাকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় তা হলে বোঝা যায়, পাচার হওয়ার সূত্র এবং পাচার হয়ে যাওয়ার জায়গার মধ্য‌ে একটি অর্থনৈতিক বৈষম্য‌ের ব্য‌াপার রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মধ্য‌ে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), দার্জিলিং (Darjeeling), দুই ২৪ পরগনা (24 Parganas) পাচারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সবচেয়ে বেশি চ্য‌ালেঞ্জের সম্মুখীন। রাজ্য‌ের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলা একক পাচারের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই জেলা থেকে কাজের সন্ধানে নারী ও শিশুকে পাচার করে কলকাতা (Kolkata) ও অন্য‌ান্য‌ মেট্রোপলিটন শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভুটান এবং অসম থেকে নারী পাচার হয়ে আসার ক্ষেত্রে জলপাইগুড়ি পাচারের একটি উল্লেখযোগ্য‌ ক্ষেত্র হিসাবে কাজ করে। জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিঙে বাইরের রাজ্য‌ থেকে এবং সন্নিহিত বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ শিশু আমদানি করা হয়।

পাচারের শিকার হয়েছিল এই মেয়েরাও। পাচারকারীদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে এসে তাঁদের মধ্যেই কেউ কেউ এখন তৈরি করছে রুটি, মোমো, পরোটা বা আচার। হতদরিদ্র এই মেয়েরা বাস করে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) বিভিন্ন চা বাগানের বস্তিতে। এঁদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা অন্যত্র পাচার করে দিয়েছিলো। এখন তাদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে কিশোরীরা এখন নতুন দিশা তৈরি করতে চলেছে।

হতদরিদ্র এই মেয়েরা বাস করে উত্তরবঙ্গের  বিভিন্ন চা বাগানের বস্তিতে। এঁদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা অন্যত্র পাচার করে দিয়েছিলো। এখন তাদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে কিশোরীরা এখন নতুন দিশা তৈরি করতে চলেছে।

দার্জিলিং ডিসট্রিক্ট লিগ্যাল এইড ফোরামের সভাপতি তথা আইনজীবী অমিত সরকারের উদ্যোগ ও পরিচালনায় তরাই (Tarai) ও ডুয়ার্স (Dooars) চা বাগানে পাচারের শিকার প্রায় একশো জন কিশোরীকে মূল স্রোতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সব কিশোরীকে পাচার করে তাঁদের শরীর বিক্রি করার কাজে নামে পাচারকারীরা। কিন্তু পাচারকারীদের খপ্পর থেকে একশোর বেশি কিশোরী পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে তরাইয়ের বন্ধ থাকা পানিঘাটা চা বাগানের কিশোরী ছাড়াও ডুয়ার্সের তিনটি ব্লকের কিশোরী রয়েছে। তরাইয়ের আরও কিছু চা বাগানের কিশোরীও রয়েছে।

তাঁদের স্বনির্ভর করতে একটি বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে দার্জিলিং ডিসট্রিক্ট লিগ্যাল এইড ফোরাম (Darjeeling District Legal Aid Forum)। সংস্থার সভাপতি অমিত সরকার বঙ্গদর্শনকে জানিয়েছেন, “এই কিশোরীদের নিয়ে তৈরি হয়েছে নবদিশা স্বনির্ভর গোষ্ঠী। সেই গোষ্ঠীর মাধ্যমে রুটি, পরোটা, আচার, মোমো তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে মেয়েদের। প্রশিক্ষণ নিয়ে পরে তা বিক্রিও করছে। এছাড়াও শিখছে অন্যান্য হস্তশিল্পের কাজ।”

এসব কাজের মাধ্যমে যা লাভ হবে, তার কিছু অংশ দান করবেন মুখ্যমন্ত্রীর আপৎকালীন তহবিলে। এভাবেই এক নবদিশার পরিবেশ তৈরির প্রয়াস শুরু হয়েছে বলে অমিতবাবু জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, বন্ধ থাকা পানিঘাটা চা বাগান বাগান এবং আরও একটি বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের মেয়েরা রয়েছে ওই স্বনির্ভরতার তালিকায়। রয়েছেন অন্য চা বাগানের কিছু মেয়েও।

পাচারচক্র থেকে বেরিয়ে এসে এঁরা সমাজে এক ঘরে হয়ে গিয়েছিল। অনেকেই বাঁকা চোখে দেখা শুরু করেছিল। তাই তাঁদের নিয়ে অভিনব প্রয়াস নবদিশার।

Developed by DXDasia