
আজ পয়লা বৈশাখ ১৪২৯, বঙ্গদর্শন পোর্টালের তেরোতম জন্মদিন
প্রিয় পাঠক,
আজ পয়লা বৈশাখ ১৪২৯, বঙ্গদর্শন পোর্টালের তেরোতম জন্মদিন। আজ থেকে বারো বছর আগে পথ চলা শুরু করে ‘বঙ্গদর্শন’ তার আক্ষরিক অর্থ অক্ষুণ্ণ রেখেছে শুধু তাই নয়, বাংলার একমাত্র ইতিবাচক ঠিকানা যে এই পোর্টাল, একথা আমরা অর্থাৎ টিম-বঙ্গদর্শন আজ গর্বের সঙ্গে বলতে পারি। আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি এই পাঠ্যাভ্যাসের অবনমনের সময়ে, ভাষা-সন্ত্রাসের দিনেও গুগল অ্যানালেটিক্স অনুযায়ী আমাদের পাঠক-সংখ্যা দশ লক্ষ ছাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আবিশ্বের বাঙালি পাঠকের মননে জায়গা করে নিয়ে, জ্ঞানপিপাসু বাঙালির প্রিয়বন্ধু হয়ে উঠেছে বঙ্গদর্শন। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা না বললেই নয়, আমরা কিন্তু বাংলার কোনও ভেদাভেদ রাখিনি। দিনের শেষে আমরা সবাই বাঙালি, আমাদের আলাদা করে কোনও পূর্ববঙ্গ-পশ্চিমবঙ্গ নেই। রবিঠাকুরের দর্শন আমরা মাথা পেতে নিয়েছি—“বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন– এক হউক, এক হউক, এক হউক…”।
উল্লেখ্য, শুরুর দিন থেকে এখনও পর্যন্ত এই পোর্টাল নিজস্ব আভিজাত্য এবং মেজাজ থেকে এক পা-ও বেরোয়নি। প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে না গিয়ে বঙ্গদর্শন তুলে এনেছে বাংলার ইতিবাচকতার নানান দিক। নেতির পথে পা মেলাতে আমরা অভ্যস্ত নই, আমরা আলোচনা, সমালোচনা করি – সেখানে ইতিবাচক ভাবনার হদিশ থাকে। এই দীর্ঘ সময়কাল ধরে আমাদের পাশে থেকেছেন বাংলার অসংখ্য কৃতি ব্যক্তিত্বরা।
ফ্লিপবুক পুজোসংখ্যার মতো গবেষণাধর্মী কাজ নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গদর্শনে। অনলাইনেও যে পাতা ওলটানো যায়, তার প্রথম চিহ্ন তৈরি করেছিল ‘বঙ্গদর্শন পুজোসংখ্যা’। এছাড়াও ‘শনিবারের কড়চা’-র মতো সাপ্তাহিক পত্রিকা ধারবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে প্রতি শনিবার। খেলা, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, রান্না, সাজ, সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্পকলা, ফটোগ্রাফি, চলচ্চিত্র, থিয়েটার, ওটিটি, কলকাতা, জেলা, বাংলাদেশ, গান, লোকসংস্কৃতি, প্রতিদিনের বাছাই খবর – আমাদের সমস্ত কাজের সাক্ষী থেকেছেন আপনারা।
পাঠক ইতিমধ্যেই জেনে গিয়েছেন, বাংলার ইতিবাচক ঠিকানার হালহকিকত, এমনকি আপনার বাড়িতে পৌঁছে গিয়ে সেই উদ্ভাসিত আলোটি খুঁজে আনার প্রচেষ্টা রাখি আমরা। সোশ্যাল মিডিয়ার হইচই আর একাধিক প্রিন্ট/ডিজিটাল মিডিয়ার ইঁদুর দৌড়ে আমরা চলতে অভ্যস্ত নই৷ বলা ভালো, এটা আমাদের কাজও মনে করি না। আমরা সবসময় বলতে চেয়েছি, এ জীবন উল্লাসের, এ জীবন গুহার এক মৃদু আলো, সর্বোপরি এ জীবন বেঁচে থাকার। তাই করোনা আক্রান্ত পৃথিবীতে মৃত্যু বা আমফান বিধ্বস্ত বাংলার ধ্বংসের আর কান্নার ছবি আমরা দেখাইনি৷ আমরা চেয়েছি ধ্বংসের মধ্যে থেকে নতুন পথ খুঁজে নিক মানুষ। ইতিবাচক বাংলার ছবিই তাই পৌঁছে গেছে পাঠকদের ঘরে ঘরে।
আমাদের আশ্রয় সেইসব মানুষগুলি, যাঁরা অন্ধকারের মধ্যে থেকেও ঘুরে দাঁড়াতে জানেন। কেউ ভাঙা বাড়ি সারিয়ে তোলেন, কেউ সাধ্যমতো শিক্ষার প্রসার ঘটান, আবার বন্ধুর যত্ন নেন আরেক বন্ধু — এটাই তো বাংলা। আর এটাই আমরা তুলে ধরতে চাই।
আমরা পোর্টালবন্দি হয়েও বসে থাকিনি। বিধ্বংসী আমফানের পর পৌঁছে গিয়েছি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় সুন্দরবন লাগোয়া কুলতলি গ্রামে। সেখানে ঝড়ে ভেঙে যাওয়া কাকিমার পাঠশালা পুনর্নিমাণের দায়িত্ব নিয়েছি। বর্তমানে অসীমা ভাণ্ডারী সেই পাঠশালায় জ্ঞানের প্রদীপশিখা জ্বালিয়ে রেখেছেন। ২০১৯ সালে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আমরা মানুষের জনমত শুনতে ঘুরে বেড়িয়েছি রাজ্যের জেলায় জেলায়। ‘জন-গণ-মন’ নামক সেই অনুষ্ঠানে বিপুল সাড়া এবং সমর্থন বুঝিয়ে দিয়েছিল আমাদের কণ্ঠস্বর আসলে আপনাদেরই। অর্থাৎ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অফিসকক্ষের পাশাপাশি গমগমে গ্রাউন্ড জিরো থেকে আমরা তুলে এনেছিলাম সদর্থক কিছু দিক। ভরসা বলতে এটুকুই। আস্থার ঠিকানা তৈরি করে দিয়েছেন আপনারাই।
তাই আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বারোটি বছর ধরে যে কাজে আমরা ব্রতী হয়েছি, আগামীদিনে সেখান থেকে আমরা সরব না। বরং ‘ইতিবাচক’ শব্দকে হাতিয়ার করে নিজেদের পথ আরও প্রশস্ত করব।
ধন্যবাদান্তে
বঙ্গদর্শন
