
প্রতি বছরের মতো ২০২৫ সালেও বিশ্ব পরিবেশ দিবস (World Environment Day) পালিত হচ্ছে ৫ জুনকে কেন্দ্র করে। একদিকে যেমন বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ প্রেমী মানুষ, পরিবেশ-এর উন্নতি কামনা করে এই দিবস পালন করবেন, তেমনই অনেক সরকারি মন্ত্রী-সান্ত্রী, বেসরকারি কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেট লুঠেরা থেকে পাড়ার ক্ষমতাবান কুশীলব – যাদের কাজের জন্য প্রতিনিয়ত পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, তাঁরাও আড়ম্বরের সাথে, ষোড়শপচারে এই পরিবেশ দিবস পালন করবেন।
প্লাস্টিক দূষণ
এবারে নজর প্লাস্টিক দূষণের দিকে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ প্রতি বছর পরিবেশ দিবস পালনের জন্য একটি থিম নির্বাচন করে, যাতে সেই নির্দিষ্ট সমস্যার দিকে সকলের নজর যায়। এবারের বিষয় – প্লাস্টিক দূষণের অবসান। উল্লেখ করা যেতে পারে এই নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ২০১৮, ২০২৩ এবং ২০২৫ পর পর তিন বার প্লাস্টিক দূষণকে থিম হিসাবে চিহ্নিত করল। এ থেকেই বোঝা যায় পরিবেশের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কত। আর সমস্যার অবসান তো দূরের কথা, আমাদের অভিজ্ঞতায় দিনে দিনে প্লাস্টিক দূষণে পুকুর,নদী, নালা, সমুদ্র, মাঠ, ঘাট, রাস্তা – সর্বত্রই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। যাঁরা আজ ষোড়শপচারে পরিবেশ দিবস পালন করবেন, তাঁরা গম্ভীর ভাবে বলবেন জনগণকে সচেতন হতে হবে। প্লাস্টিক ব্যবহার কমাতে হবে, নিষিদ্ধ প্লাস্টিক পণ্য বর্জন করতে হবে। তাঁরা ঠিক কথাই বলেন। পরিবেশ প্রেমীরা আরও বলেন, একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়া হয় এমন সব রকম প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসের ব্যবহার বন্ধ রাখতে। প্লাস্টিক দূষণ কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় বিধি তৈরি হয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রক প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সংশোধিত বিধি, ২০২২-এর বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। নির্দিষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে জানুয়ারি ২০২৩ থেকে সারা দেশে ১২০ মাইক্রনের কম পাতলা প্লাস্টিক ব্যাগ, তৈরি, মজুত, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। এছাড়াও পান গুটখার স্যাচে, প্লাস্টিক ব্যাগ, থার্মোকলের প্লেট, রিসাইক্ল্ করা যায় না এমন প্লাস্টিক মোড়ক – এসব কিছুই নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, এমনকি যাঁদের ব্যবহার করতে বারণ করছি তাঁদেরও প্রশ্ন – সরকারি তরফে কেন এগুলির উৎপাদন বন্ধ করা হচ্ছে না? যাঁদের হাতে ক্ষমতা আছে কারখানা চালু বা বন্ধ রাখার, রাজ্যে রাজ্যে আমদানি-রপ্তানি চালু বা বন্ধ রাখার, তাঁরা কেন সেই ক্ষমতা প্রয়োগ না করে জনগণকে সচেতন হতে বলেন? এ-এক রহস্য।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে পেশ করা রাজ্যের ২০২২-২৩ সালের রিপোর্টে জানানো হয়েছে পুরসভাগুলি প্রায় ৯৭ শতাংশ আবর্জনা সংগ্রহ করছে কিন্তু অথরাইজেশনের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা শূন্য, অথরাইজেশন পেয়েছে, এমন পুরসভার সংখ্যাও শূন্য। পঞ্চায়েতগুলিতে কোথাও কোথাও কিছুটা উদ্যোগ থাকলেও আবর্জনা ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা কোথাও গড়ে ওঠেনি।
আবর্জনা ব্যবস্থাপনা
আরও এক সমস্যা হল যে বিপুল পরিমান আবর্জনা আমরা তৈরি করছি, তার ভিতরে ওজনের হিসাবে মাত্র ৫ শতাংশ হলেও প্লাস্টিক আবর্জনা আজ পৃথিবীর কাছে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অন্যান্য আবর্জনা কোনোভাবে মাটিতে মিশে গেলেও অথবা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করা গেলেও প্লাস্টিক আবর্জনার বেশির ভাগটাই নদী নালায় চলে যায়, সমুদ্রে পৌঁছে যায়। তার ফলে কী হয়, প্রকৃতি ও জীবজগৎ কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তা আজ স্কুল পাঠেও পড়ানো হয়।
সরকারি ভাষ্যে প্লাস্টিক আবর্জনা রিসাইক্ল্ হয়। কিন্তু প্লাস্টিক কখনও যথাযথ রিসাইক্ল্ হয় না। আসলে যা হয় তাকে বলা হয় ডাউনসাইক্ল্, কেন না প্লাস্টিক রিসাইক্ল্ করলেও কখনও তা আগের গুণমানে ফিরে আসে না। এভাবে অতি সামান্য কিছু আবর্জনার ব্যবস্থা হলেও বাকি সব মাঠে ঘাটেই পড়ে থাকে। ফলে কেবলমাত্র প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর কথা বলে হবে না, পুর আবর্জনা-সহ সব ধরনের আবর্জনা ব্যবস্থাপনার উপরে জোর দিতেই হবে। পুর আবর্জনা ব্যবস্থাপনা বিধি ২০০০ সালে এবং নতুন বিধি ২০১৬ সালে চালু হয়। এই বিধি অনুযায়ী ভিজে এবং শুকনো আবর্জনা উৎসেই আলাদা করতে হবে। ভিজে আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণ করে জৈব সার তৈরি করে কাজে লাগাতে হবে। শুকনো আবর্জনা, মূলত প্লাস্টিক রিসাইক্ল্ করার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যবস্থাপনা না থাকলে এই রিসাইক্ল্ করার সুযোগও কমে যায়।
কিন্তু বিধি থাকলেও বাস্তবে সারা ভারতে হাতে গোনা কয়েকটি পুরসভা ছাড়া কোথাও এই বিধি কার্যকরি করার ব্যবস্থা অর্থাৎ যথাযথ আবর্জনা ব্যবস্থাপনা চালু হয়নি। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্ট অনুযায়ী সারা ভারতে প্রায় ৭৫০০টি পুরসভার মধ্যে মাত্র ৫৪০টি পুরসভা এই ব্যবস্থা চালু করে অথরাইজেশনের জন্য আবেদন করেছে এবং ৪৫৬টি অথরাইজেশন পেয়েছে। বাকিরা বিধি অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ আবর্জনা ব্যবস্থাপনা চালু করতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা শোচনীয়। রাজ্যে ১২৮টি পুরসভার মধ্যে ১টি পুরসভাও এখনও পর্যন্ত বিধি অনুযায়ী আবর্জনা ব্যবস্থাপনা পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু করতে পারেনি। রাজ্যদূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কাছে অথরাইজেশনের জন্য কোনো আবেদনও জমা পড়েনি। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে পেশ করা রাজ্যের ২০২২-২৩ সালের রিপোর্টে জানানো হয়েছে পুরসভাগুলি প্রায় ৯৭ শতাংশ আবর্জনা সংগ্রহ করছে কিন্তু অথরাইজেশনের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা শূন্য, অথরাইজেশন পেয়েছে, এমন পুরসভার সংখ্যাও শূন্য। পঞ্চায়েতগুলিতে কোথাও কোথাও কিছুটা উদ্যোগ থাকলেও আবর্জনা ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা কোথাও গড়ে ওঠেনি। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের কোণে কোণে তৈরি হোমস্টে আর সুন্দরবনের নদীর কোলে রিসর্টের বর্জ্য – কারো কোনো দায় নেই তা ব্যবস্থাপনা করার। অথচ যথাযথ ব্যবস্থাপনা চালু না করলে প্লাস্টিক দূষণ থেকেই যাবে।
উৎসে আবর্জনা ভাগ
উৎসে আবর্জনা ভাগ করার ব্যবস্থা চালু না হলে আবর্জনা ব্যবস্থাপনা অসম্ভব হয়ে যায়। প্লাস্টিক, কাগজ ইত্যাদি আবর্জনা, ভিজে আবর্জনার সঙ্গে মিশে গেলে নোংরা হয়ে যায়। প্রচুর পরিমান জল দরকার হয় সেগুলি ধোবার জন্য। রিসাইক্লিং-এর পক্ষে সেগুলি একেবারেই উপযুক্ত থাকে না। ভিজে এবং ময়লায় মিশে সেগুলির দাম কমে যায়। ফলে আবর্জনা কুড়ানিরা আর সেগুলি নিতে চায় না। অথচ এই শুকনো আবর্জনাই আবর্জনা কুড়ানিরা সরাসরি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে তা যেমন পরিষ্কার থাকবে, তেমনই আবর্জনা থেকে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় কুড়ানোর দায় থেকে মুক্ত হবে। এইভাবে শুকনো আবর্জনা সংগ্রহ করতে পারলে তার দামও অনেক বেশি পাওয়া যাবে।
বিশ্ব উষ্ণায়ণের প্রকোপ কমাতে ইদানীং আন্তর্জাতিক স্তরে আবর্জনা রিসাইক্ল্ করা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে স্বীকৃত। যত আমরা রিসাইক্ল্ করব, তত আমরা খনিজ সম্পদ এবং বনজ সম্পদের খরচ কমাতে পারবো, তত বেশি আমরা উষ্ণায়ণ প্রতিরোধে অংশ নিতে পারবো।
শুকনো আবর্জনার প্রক্রিয়াকরণ
আমাদের দেশটা গরিব। আমরা তুলনায় অনেক কম আবর্জনা তৈরি করি। আবার যা তৈরি করি তার বেশ কিছুটা, বিশেষত শুকনো আবর্জনা আবার কাজে লাগাই অথবা বিক্রি করি। আমাদের বিক্রি করার বা কাজে লাগানোর প্রবণতা ধনী দেশগুলির নাগরিকদের তুলনায় অনেক বেশি। আর তারপরেও বাকি শুকনো আবর্জনা, যা ফেলে দেওয়া হয়, তাও জীবিকা উপার্জনের জন্য আবর্জনা কুড়ানিরা সংগ্রহ করে। এই আবর্জনা রিসাইক্ল্ কারখানায় যায়। পৃথিবীর যে সম্পদ ফেলে দিয়ে নষ্ট করা হত সেগুলি যথাসম্ভব কাজে লাগানো হয়। এ বিষয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারি যে আমরা অনেক সম্পদের অপব্যবহার বন্ধ করে এবং পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করে বিশ্ব উষ্ণায়ণ প্রকোপ কমাতে সাহায্য করছি। আমাদের যে সমস্ত ব্যবহার করা জিনিস শুকনো আবর্জনায় পরিণত হয় – তার উপাদানগুলি সাধারণত মাটির নীচের খনি থেকে আহরণ করা হয় অথবা বনজ সম্পদ থেকে পাওয়া যায়। যত বেশি আমরা মাটির নীচের সম্পদ অথবা বনজ সম্পদ ব্যবহার করবো, তত বেশি আমাদের খনন করতে হবে, শক্তি খরচ করতে হবে, অরণ্য ধ্বংস করতে হবে। ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ণের প্রকোপ কমাতে ইদানীং আন্তর্জাতিক স্তরে আবর্জনা রিসাইক্ল্ করা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে স্বীকৃত। যত আমরা রিসাইক্ল্ করব, তত আমরা খনিজ সম্পদ এবং বনজ সম্পদের খরচ কমাতে পারবো, তত বেশি আমরা উষ্ণায়ণ প্রতিরোধে অংশ নিতে পারবো। কিন্তু এই রিসাইক্ল্ নিশ্চিত করার উপায় কী?
আবর্জনা কুড়ানিদের ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ
পুর আবর্জনা ব্যবস্থাপনা বিধি এবং প্লাস্টিক আবর্জনা ব্যবস্থাপনা বিধি – দুই বিধিতেই বলা আছে আবর্জনা কুড়ানিদের আবর্জনা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। আবর্জনা কুড়ানিদের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরে অসংগঠিত ভাবে যেটুকু শুকনো আবর্জনা রিসাইক্ল্ হয়, তার কৃতিত্ব আবর্জনা কুড়ানিদের। তাদের জীবিকা চালানোর জন্যই এই কাজ করেন। কিন্তু এই কাজ করার মাধ্যমে তাঁরা এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পরিষেবা দেন। ২০০০-এর বিধিতে ছিল না, কিন্তু ২০১৬-র বিধিতে স্পষ্ট করে বলা হয় আবর্জনা কুড়ানিদের আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় এই অংশগ্রহণের স্বীকৃতি দিতে হবে। আইনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষর “দায়িত্ব ও কর্তব্য” পরিচ্ছেদে ১৫ (গ) এবং (ঘ) ধারায় লেখা হয়েছে “(ক)আবর্জনা কুড়ানিদের সংগঠন অথবা অসংগঠিত আবর্জনা সংগ্রাহকদের স্বীকৃতি দেবার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এমন ব্যবস্থা চালু করতে হবে যাতে এই স্বীকৃত আবর্জনা সংগ্রাহকরা ও তাদের সংগঠন আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সরাসরি বাড়ি বাড়ি অথবা উৎস ত্থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করতে পারে। (খ) আবর্জনা কুড়ানিদের স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তুলতে সাহায্য করতে হবে, পরিচিতি পত্র দিতে হবে এবং বাড়ি বাড়ি সরাসরি আবর্জনা সংগ্রহের জন্য উৎসাহিত করতে হবে”। দুঃখের বিষয় এখনও পর্যন্ত এরকম ব্যবস্থা আমাদের রাজ্যে গড়ে ওঠেনি।
আবর্জনা পোড়ানো
প্লাস্টিক আবর্জনা কাজে লাগাতে ‘আবর্জনা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ’– এই নামে প্রকল্প চালু করার প্রচেষ্টা হয়। বড়ো চুল্লি বা ইনসিনারেটরে প্লাস্টিক আবর্জনা পুড়িয়ে তাপ তৈরি করা হয়। সেই তাপে বাষ্প তৈরি করে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। কিন্তু এই পদ্ধতি যেখানেই চালু করা হয়েছে, সেখানেই মারাত্মক দূষণ তৈরি হয়েছে। প্লাস্টিক আবর্জনার মধ্যে অনেক আবর্জনাই পিভি সি-র তৈরি জিনিস থেকে আসে। এর ফলে ডায়ক্সিন, ফুরানের মতো মারাত্মক দূষণ তৈরি হয়। ইনসিনারেটরের চারদিকের অঞ্চলে গাছ পালায় এবং পরে জীব জন্তুর শরীরে ঢুকে যায় এই দূষণ। এই দূষণ যৌগ গুলি জলে দ্রবীভূত না হবার ফলে জীবদেহের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী হয়। সামান্য সর্দি কাশির প্রকোপ থেকে ক্যান্সার, হরমোনের অসুখ ব্যপক হারে ছড়িয়ে পড়ে।
সমাধানের পথ
প্লাস্টিক আবর্জনার সম্পূর্ণ সমাধানের পথ হয়তো নেই। সারা পৃথিবী এই সমস্যায় ভুগছে। কিন্তু এই দূষণ অনেক কমানো যেত যদি যেটুকু আইনে আছে তা পালন করা হয়। (১) বিধি অনুযায়ী যে ধরনের প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন বন্ধ করা দরকার, সেগুলি যদি বাজারে না আসে তাহলেই আমরা সমাধানের পথে কিছুটা এগোতে পারি। প্লাস্টিক কারখানা গোপনে চলে না। যে কারখানায় নিষিদ্ধ পণ্য তৈরি হয়, তা বন্ধ করাই জরুরি। (২) পরের ধাপ হল আমাদের অভ্যাস পরিবর্তন। আমাদের সচেতন ভাবে এমন প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করা দরকার যাতে সেগুলি বারবার ব্যবহারের সুযোগ থাকে। একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেবার প্রবণতা বন্ধ করা খুবই জরুরি, তা না হলে আবর্জনায় প্লাস্টিক কমানো অসম্ভব। (৩) যে প্লাস্টিক আবর্জনা তৈরি হচ্ছে, তা শুরুতেই ভাগ করা এবং শুকনো অবস্থায় রাখার ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। আবর্জনা কুড়ানিরদের পরিচিতি এবং সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। শুকনো আবর্জনা তাঁদের সরাসরি উৎস থেকে অর্থাৎ বাড়ি, দোকান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি থেকে সরাসরি সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু করা দরকার। রাস্তা বা আবর্জনার মাঠ থেকে কুড়িয়ে তোলার অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস বন্ধ করে তাঁদের আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় অংশীদার করে তোলা দরকার। (৪) যে প্লাস্টিক আবর্জনা কোনো ভাবে আবার ব্যবহার বা রিসাইক্ল্ করা যায় না, সেগুলি স্যানিটারি ল্যান্ডফিল অর্থাৎ বিশেষ ভাবে তৈরি আবর্জনা ফেলার নিরাপদ জায়গায় পাঠানো দরকার।
________________
মতামত লেখকের নিজস্ব

