
এই মানুষটি দাবি করেছিলেন – কোনও স্বর্গ নেই, পুনর্জন্ম নেই
বিজ্ঞান ও দর্শন যে অতি নিকট আত্মীয় দুই বিষয় তা যখন ভুলতে বসেছিলাম আমরা, ভুলতে বসেছিলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পার্থক্য। তখনই প্রকাশিত হল A BRIEF HISTORY OF TIME; FROM THE BIG BANG TO BLACK HOLES। সালটা ১৯৮৮, লেখক স্টিফেন হকিং। তখনও, হয়তো এখনও, বিশ্বের প্রায় সব মানুষ, শিশু-যুবক-বৃদ্ধ, যারা পরমাণু থেকে গ্রহ-তারার কথা কিছু হলেও জানেন,জানেন না সৃষ্টি রহস্য। বইটির ভূমিকায় কার্ল সাগান শুরুই করেছেন – We go about our daily lives understanding almost nothing of the world.
গ্যালিলিও যেদিন মারা যান তার ৩০০ বছর পর ঐ দিন জন্মগ্রহণ করেন হকিং(৮ জানুয়ারি, ১৯৪২)। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি কেম্ব্রিজের লুকাসিয়ান অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন। এই সেই পদ যা একদা অলংকৃত করেন আইজাক নিউটন, পল ডিরাক।
কেম্ব্রিজে পড়ার সময়, বয়স তখন মাত্র ২২, তিনি একটি দুর্ঘটনার পর আক্রান্ত হন এক দুরারোগ্য অসুখে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলেছিলেন যে বড়জোর আর বছর দুই আয়ু তাঁর। তিনি ছিলেন আমাদের মধ্যে বিশেষজ্ঞ অনুমান মিথ্যে করে দিয়ে যা তাঁর অতুলনীয় মানসিক শক্তির প্রমাণ দেয়। বিজ্ঞানধারণাকে জনপ্রিয় করার কাজে নিবেদিত প্রাণ এই দৃঢ়চিত্ত তাত্ত্বিক বিজ্ঞানী বিজ্ঞানসাধনায় সরকারি ঔদাসিন্যের প্রতিবাদে ফিরিয়ে ছিলেন ‘নাইট’ উপাধি।
আরও পড়ুন
কী পড়ি, কী শিখি
‘সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত’ প্রকাশের পর তার বিক্রি তথা পাঠকের আগ্রহ চমকে দেয় বিশ্বকে। প্রায় পাঁচ বছর বইটি ‘বেস্ট সেলার’-এর মর্যাদা পায়। অতি আকর্ষণীয় হলেও আলোচ্য বিষয় ছিল, অন্তত বিজ্ঞানের নিয়মিত ছাত্র নয় এমন পাঠকের জন্য, অতীব জটিল বা দুরূহ। প্রকাশকের আশঙ্কা ছিল – এক একটি গাণিতিক সমীকরণ বইটির পাঠক কমাতে পারে। হকিং সে কথা ফেলতে পারেননি, আবার ফেলতে পারেননি আইনস্টাইনের বিশ্ব তোলপাড় করা সেই বিখ্যাত সূত্রঃ E = mc2 । প্রায় এক কোটি বই বিক্রি হয়, বইটি অনূদিত হয় প্রায় সব প্রধান ভাষায়। বাংলাতেও।
এই মানুষটি দাবি করেছিলেন, সম্ভবত কোনও স্বর্গ নেই, পুনর্জন্ম নেই। এই একমাত্র জীবনেই মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য অনুধাবনের সুযোগ পেয়েছি – আমি ধন্য।
আমরাও ধন্য, এমন একজন নির্ভীক লড়াকু মানুষ ছিলেন আমাদের মধ্যে। তাঁর তত্ত্ব, তাঁর দর্শন চর্চা আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে।
