
বাংলাদেশ কুষ্টিয়ায় ফটোগ্রাফার শামস নাঈম প্রান্ত, কয়েকবছর ধরে কাজ করছেন নিজের দেশ নিয়ে
বিখ্যাত আমেরিকান ফটোগ্রাফার অ্যানসেল অ্যাডাম্স তাঁর নিজের ছবি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলেন, “যখন আমার লেখার শব্দ অস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন ফটোগ্রাফিতে ফোকাস করব। আর যখন ছবিগুলি অপর্যাপ্ত হয়ে যায়, আমি নীরবতায় সন্তুষ্ট থাকব।” – শিল্প আর শিল্পের চোখ কখন ফুরিয়ে যায়, তা একমাত্র শিল্পীই বোঝেন। তিনিই জানেন মানুষ আর পারিপার্শ্বিক সমাজের ভাষা। পৃথিবীর সফল ফটোগ্রাফাররা ছবির বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন সময়কে। যে সময় ‘অস্তিত্ব’-এর ধারক হয়ে উঠবে যেকোনো সময়।

বাংলাদেশ কুষ্টিয়ায় ফটোগ্রাফার শামস নাঈম প্রান্ত। বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন, যেখানে উঠে আসছে বাংলাদেশের মানুষ, নদী আর জীবজন্তুদের কথা। অবলা প্রাণীদের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব কিংবা নদী-জল-হাওয়ার সঙ্গে মানুষের মানিয়ে নেওয়া – সবটাই চিরাচরিত ভঙ্গিতে ধরা পড়ছে নাঈমের ছবিতে।

তাঁর সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, নাঈমকে প্রথম ক্যামেরা কিনে দেন তাঁর দাদা। ছোটোবেলা থেকেই রং-পেন্সিলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক অনুভব করেছিলেন। তারপর পাল্টে গেছে মাধ্যম। শামস নাঈম বলেন, “ফটোগ্রাফি আমাকে সমাজটাকে অন্যভাবে দেখতে সাহায্য করেছে। আমাকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জীবন সংগ্রাম ভাবায়।” ফটোগ্রাফির মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থাকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করতে চান। তার সঙ্গে ছবি হয়ে ওঠে গল্প বলার মাধ্যম। যুক্ত হয় মানুষের আবেগ আর মানানসই রং। মানুষের কথা বলতে গিয়ে ঢুকে পড়ে জীবজন্তু আর পাখিরা, ঢুকে পড়ে নদীমাতৃক বাংলাদেশ।
এখানে প্রকাশিত ছবিগুলি দেখলেই বোঝা যাবে শামস নাঈম বলতে চাইছেন ‘Co-Existence’-এর কথা। এমন অনেকেই আছেন যারা কুকুর-বেড়াল-ছাগল পছন্দ করেন না বা ভুল ধারণা থেকেই এদের প্রতি বিরূপ আচরণ করেন। নাঈমের কাজ তাই ইতিবাচক দিক থেকে দেখানোর চেষ্টা। সমাজ পরিবর্তন বোধহয় এভাবেই সম্ভব।

শামস নাঈম প্রান্ত আরও বলেন, “যেহেতু ছবির মাধ্যমে একটা স্বচ্ছ পরিবেশ দেখাবার চেষ্টা করি, তাই আমার ছবিতে একটা ইতিবাচক দিক উঠে আসে। অন্তত সেটা রাখার চেষ্টা করি। আর একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমাদের প্রত্যেকের এগিয়ে আসা উচিত।”

শামস প্রান্তের এই ছবিগুলিতে রয়েছে একা একজন মানুষের গল্প এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিস্তীর্ণ সমাজব্যবস্থা। সেই গল্পের সঙ্গে মিশে গেছে সূক্ষ্ম রং। উঠে এসেছে বাংলাদেশের গ্রামীণ চিত্র।

ফটোগ্রাফারঃ শামস নাঈম প্রান্ত (কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ)
