প্রয়াত ‘পাণ্ডব গোয়েন্দা’-র স্রষ্টা ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

বাবলু, ভোম্বল, বিলু, বাচ্চু এবং বিচ্ছু এখনও বাঙালির আবেগ

প্রয়াত হলেন ‘পাণ্ডব গোয়েন্দা’-র স্রষ্টা সাহিত্যিক ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার সকাল ১১টা ১০ মিনিট নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জানা গিয়েছে, স্ট্রোক হয়েছিল তাঁর। হাওড়ার একটি নার্সিং হোমে চিকিৎসারত ছিলেন তিনি। সেখানেই প্রয়াত হন ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়।

দুঃসাহসী পাঁচটি ছেলেমেয়ের রোমাঞ্চকর অভিযান। সঙ্গে একটি কুকুর। বাংলা সাহিত্যকে বহু বহু বছর সমৃদ্ধ করে রেখেছিল ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পাণ্ডব গোয়েন্দা’। বাবলু, ভোম্বল, বিলু, বাচ্চু, বিচ্ছু এবং পঞ্চুকে বাঙালি আপন করে নিয়েছিল। কখনও নিজেরাই ঘটনায় জড়িয়ে যায়, আবার কখনও কারো সাহায্যার্থে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের ভয় নেই। তাদের সাহসী সত্তা একদিন বাঙালি কিশোর কিশোরীদেরও অনুপ্রাণিত করেছিল। বইয়ের পাতা থেকে সে সব কাহিনি টেলিভিশনেও দেখানো হয় বিভিন্ন চ্যানেলে।

দুঃসাহসী পাঁচটি ছেলেমেয়ের রোমাঞ্চকর অভিযান। সঙ্গে একটি কুকুর। বাংলা সাহিত্যকে বহু বহু বছর সমৃদ্ধ করে রেখেছিল ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পাণ্ডব গোয়েন্দা’।

‘পাণ্ডব গোয়েন্দা’ প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭০ সালে মাসিক শুকতারা পত্রিকায়। তারপর আনন্দমেলার পুজো সংখ্যাতেও জায়গা পায় এই উপন্যাস। বাবলু, বাচ্চু, বিলু, ভোম্বল, বিচ্ছু এবং পঞ্চুরা হয়ে ওঠে বাঙালির আবেগ। দুর্গম পাহাড় থেকে শুরু হয় বুদ্ধির দৌড়। পঞ্চ পাণ্ডবের সে দৌড় মাত করেছে গোটা ভারতে। বলাই বাহুল্য, ‘পাণ্ডব গোয়েন্দা’ বহু শিশু-কিশোরদের বইমুখী করেছিল। বইমেলায় একসময় বেস্ট সেলারও ছিল।

 

হাওড়ার খুরুটে জন্মগ্রহণ করেন ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়। ছোটোবেলা থেকেই ছিলেন অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী। গোয়েন্দা গল্প ও উপন্যাসের প্রতি ছিল তাঁর অমোঘ টান। ১৯৬১ সালে যুক্ত হন প্রথম সারির এক সংবাদ পত্রের সঙ্গে। ১৯৭০ সালে ‘পাণ্ডব গোয়েন্দা’ প্রথম প্রকাশিত হলেও তুমুল জনপ্রিয়তা পায় ১৯৮১ সাল থেকে। ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়ের অকস্মাৎ মৃত্যুতে সামাজিক মাধ্যমে স্মৃতিচারণ করেছেন বহু পাঠক। রেবা চৌধুরী লিখেছেন, “ছেলেবেলার এমন গল্প যেখানে ছেলে এবং মেয়েদের সহজ বন্ধুত্ব ছিল। যেটা কিনা আমাদের সময়ে খুব সহজ ছিল না। আমাদের শৈশব কিশোর বয়সকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।” পল্লব রায় লিখেছেন, “কিছুদিন আগেই, কলেজ স্ট্রিটে বর্ণ পরিচয় বিল্ডিংয়ের পিছনে ব্যবসায়ী সমিতি যে বইমেলার আয়োজন করেছিল, সেখানে উনি সম্বর্ধনা নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামছিলেন। দেখা হল।”

বাঙালির অলস দুপুরের সঙ্গী পাণ্ডব গোয়েন্দারা আজ একা। আজ বাঙালির চোখে জল।

Developed by DXDasia