মেরিকামায়া সাতকাহন : প্রফেসরের আদেশ মেনে বাস চালাতেও হয়েছিল

ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমেরিকা-জীবন এবং স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন – পর্ব ৪১

চত্বারিংশ পর্বের পর

ভীষণ একটা সমস্যার মধ্যে আমাকে ফেললেন সান্ডবার্গ। কম্প্রিহেন্সিভ বা প্রিলিমস পরীক্ষায় আমাকে একবারে পাশ করালেন না।

আমাদের ডিপার্টমেন্টে শ্যারন বার্থোলোমিউ ছাড়া আর কোনো পিএইচডি স্টুডেন্টের প্রিলিমস এতো কঠিন হয়নি। পিএইচডি কমিটিতে পাঁচজন প্রফেসর থাকেন, এবং প্রধান রিসার্চ গাইডের সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁরা সর্ববিষয়ে ডক্টরেট ছাত্র বা ছাত্রীর দখল আছে কিনা, তা যাচাই করে নেন। তার জন্যে আমি গত তিন মাস চার মাস ধরে নিজেকে তৈরি করেছি। রাতের পর রাত বাড়ি থেকে চলে এসে আমার অফিসে বসে রাত দুটো তিনটে পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি।

সম্পূর্ণ একা, নিশুতি রাতে কেউ কোত্থাও নেই। আমি নিজের অফিসে পড়ছি বই ঘেঁটে। তখন ইন্টারনেট নেই, গুগল নেই, ইউটিউব নেই, কিচ্ছু নেই। লাইব্রেরি থেকে লোন নিয়ে এসে বইয়ের স্তূপ আমার অফিসে। ডিপার্টমেন্টের গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার ডঃ স্মিডকে বলে আর একটা বড়ো ঘর আমি পেয়েছি, যাতে বইগুলো রাখা যায়, আর একটা কম্পিউটার ব্যবহার করা যায় নোট নেওয়ার জন্যে। আমার নিজের সেই চারশো এক নম্বর ঘর এতোই ছোটো যে সেখানে এই বইয়ের পাহাড় ঢোকানো সম্ভব নয়।

গভীর রাতে জ্যানিটররা আসে আমাদের চারতলার ফ্লোরগুলো কেমিকাল স্প্রে করে মেশিন দিয়ে পরিষ্কার করতে। তার তীব্র গন্ধ – মাথা ঝিমঝিম করে। এই জ্যানিটরদের কাস্টোডিয়ানও বলা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এরাও ছাত্র বা ছাত্রী। আমি যেমন আই এস ইউ’তে ক্যাফেটেরিয়ায় থালা বাসন কাপ ডিশ ধুতাম, এরাও এক্সট্রা কিছু ডলার রোজগার করার জন্যে এই কাজটা করছে। একদিন দেখলাম একটা ব্ল্যাক মেয়ে কাজ করছে, সে আবার আমার একটা ক্লাসে ছাত্রী ছিল।

ডিপার্টমেন্টে বলতে গেলে আর কেউ নেই সেই গভীর রাতে। হয়তো অনেক দূরে একেবারে উল্টোদিকের একটা ঘরে মেধাবী মাস্টার্স ছাত্রী থেরেসা ভিয়েরা তার থিসিস লিখছে ওদের কমন ঘরে বসে। বয়স্কা মাস্টার্স ছাত্রী জ্যানেটও আছে আর এক কোণে। জ্যানেট কার্বনডেলের এক হাসপাতালের পেশাদার নার্স। সে প্রোমোশনের জন্যে বায়োলজিতে একটা মাস্টার্স ডিগ্ৰী করছে।

মুক্তি এর মধ্যে আরো একবার হাসপাতালে ঘুরে এলো কয়েকদিনের জন্যে। জ্যানেট থাকায় খুব সুবিধে হয়েছিল।

আমার গবেষণার বিষয় মাইকোলজি বা ছত্রাক বায়োলজি। সুতরাং, তার ওপর যে অনেক জটিল ও গভীর ক্রিটিকাল-থিংকিং প্রশ্ন থাকবে, তা আমি জানতাম। শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমির ওপর কাজ করছি, সুতরাং তার ওপরে হাজার প্রশ্ন থাকবে, তাও আমি জানতাম। বিবর্তন সম্পর্কে ল্যারি ম্যাটেন প্রশ্ন তৈরি করবেন, তাও জানা কথা। কেটি ক্লার্ক প্ল্যান্ট ফিজিওলজির প্রশ্ন দেবেন, জেনেটিক্সের প্রশ্ন করবেন কমিটির অন্য কেউ – হয়তো বারবারা ক্র্যান্ডাল-স্টটলার, তাও ঠিক আছে। সবকিছুই আমার মোটামুটি আয়ত্তের মধ্যেই।

প্রফেসর জন বাজোলা, যিনি আমাকে ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি শিখিয়েছিলেন

কিন্তু বাইরে থেকে ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপি নিয়ে ডঃ জন বাজোলা আবার জটিল সব সমস্যার সমাধান আমাকে করতে বলবেন কারণ আমি একটা ক্লাস নিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে, আমি ভাবিনি। আমার গবেষণায় ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপির কোনো ব্যবহার নেই। এই বিষয়ে আমার বউ আমার চেয়ে অনেক ভালো জানে। সে আই এস ইউ’তে ডঃ এন’এর কাছে কাজ করেছে, এবং এখানেও ফেরারোর কাছে ইস্ট’এর সার্কাডিয়ান রিদম বা দৈনন্দিন জীবনচক্র নিয়ে কাজ করেছে। আমি করিনি। আমাকে মুশকিলে ফেলে দেওয়া হলো।

ফরেস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট থেকে আরো একজন প্রফেসর আমার কমিটিতে – তিনি সপ্তমজন। ফরেস্ট্রি আমার বিষয় নয়। আমি বনেজঙ্গলে ঘুরে কাজ করেছি স্টুডেন্ট ওয়ার্কার হিসেবে। আমি সারা গায়ে ডিয়ার টিক নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। আমি জঙ্গলের রাস্তায় জীপ থেকে কররর কররর শব্দ করে ঘুরে বেড়ানো অতি বিষাক্ত র‍্যাটল স্নেক দেখে শিহরিত হয়েছি। কিন্তু ফরেস্ট্রি বিষয় সম্পর্কে আমি কী জানি? ওই একটু আধটু অরণ্যবৃক্ষের ছত্রাকঘটিত কিছু রোগ সম্পর্কে জানি।

বনে জঙ্গলে ছত্রাকের শিকার। এই ছবিটি আমাদের এভারগ্রীন টেরেসের পিছনের বনে, দুপুরবেলায়

কিন্তু এমন সব প্রশ্ন আমাকে করা হলো যে সত্তর পার্সেন্ট যে তরিয়ে দিতে পেরেছিলাম, তাই আমার ভাগ্য।

ম্যাটেন জিজ্ঞেস করলেন, “ক্যান ইউ ডু দ্য আদার থার্টি পার্সেন্ট ইন এ মান্থ?”

প্রশ্নটা আলঙ্কারিক। আমাকে এক মাসের মধ্যে বাকি না-উৎরানো তিরিশ শতাংশের পরীক্ষা আবার দিতে হবে। এবারে পাশ না করতে পারলে আমিও সেই মঞ্জুলা আর মোস্তাফিজ। ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন বোল্ড আউট হয়ে।

ড. লরেন্স ম্যাটেন, হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট, যিনি ছিলেন আমার আসল ফ্রেন্ড, ফিলোজফার ও গাইড

যেসব অসুখ আমার আগে কখনো করেনি, সেসব অসুখে আক্রান্ত হলাম। তীব্র হার্টবার্ন শুরু হলো। ডিপার্টমেন্টে রাত একটার সময়ে আমি বুকের ভেতরে অ্যাসিডের যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলাম, আর ফসেট টিপে টিপে জল খেয়ে হলওয়ে অর্থাৎ করিডোর দিয়ে ছুটতে লাগলাম নিশুতি রাতে।

তার ওপর ইউনিভার্সিটির ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন, “ইউভ গট হিস্টোপ্লাসমোসিস।” বললেন, “ম্যান, ইউ আর এ মেস।” এখনো কানে বাজে কথাটা।

বাঃ, কী চমৎকার খবর! এই দক্ষিণ ইলিনয় অঞ্চলে বহু মানুষের ফুসফুসে একধরনের সংক্রমণ হয়। দরিদ্র ও অনাহারে অর্ধাহারে থাকা মানুষদের খুব বেশি হয়। স্ট্রেস খুব বেড়ে গেলেও হয়। আমার এখন হয়েছে।

প্রফেসর সান্ডবার্গ

এর মধ্যে সান্ডবার্গ দুটো কাজ করতে আমাকে বাধ্য করলেন। এক, একটা পেপার দিতে যেতে হবে ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিনে। গেলাম ম্যাডিসন শহরে। তারপর তিনি আমাদের স্কুলে সারা আমেরিকার মাইকোলজি কনফারেন্স বসালেন তিন দিন ধরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিজ্ঞানীরা আসবেন। এলেন তাঁরা উড়ে সেন্ট লুইস বিমানবন্দরে। আমার কাজ হলো ইউনিভার্সিটির বিশাল একটা ভ্যান, সেটাকে ভ্যান না বলে বাস বলাই ভালো, তা চালিয়ে তাঁদের নিয়ে আসা এবং বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা। বলাই বাহুল্য, বাস আমি কখনো চালাইনি। বাস ড্রাইভারদের কলকাতায় দেখেছি ঘটাং ঘটাং করে গিয়ার বদল করতে, আর মাঝে মাঝে অভিধান- ও সংবিধানবিরোধী নানা শব্দ উচ্চারণ করতে।

আমি বাস ড্রাইভারের কাজও করলাম। বিনা পয়সায়। কনফারেন্স উৎরে গেলো। আমার হার্ট অ্যাটাক হতে পারতো। হয়নি।

উইসকনসিনে গিয়ে লেকের ধারে বসে বসে অনেক ভাবলাম। এবারে বোধহয় দেশে ফিরে যেতেই হবে। চলে যাবো? অনেক তো হলো।

সেই প্রথম আমেরিকায় আসার দুমাস তিনমাস পরে মনের যে অবস্থা হয়েছিল, অনেকটা সেই রকমই।
কিন্তু তখনও ফিরে যাইনি। লড়ে গেছি।

এবারেও লড়ে গেলাম। একমাস পরে বাকি প্রিলিমস নামিয়ে দিলাম।

ম্যাটেন ঘরে ডেকে দরজা বন্ধ করে হাসিমুখে কংগ্র্যাচুলেট করলেন হাত ঝাঁকিয়ে। বললেন, “সো, নাও ইউ আর ওয়ান অফ আস।”

পাশ করবার পরের দিন স্টটলার দম্পতি শহরের একটা বারে গিয়ে চীজ আর বীয়ার খাওয়ালেন একসঙ্গে বসে।

ড. বারবারা স্টটলার, বায়োলজির অসাধারণ অধ্যাপিকা ও ড. রেমন্ড স্টটলার, বিখ্যাত ব্রায়োফাইট বিশেষজ্ঞ

আমি এখন ফ্যাকাল্টিদের সঙ্গে প্রায় একাসনে। পিএইচডি এবারে আমার হবেই। স্বপ্নপূরণ তাহলে হতে চলেছে।

তা, এসব হলো একানব্বইয়ের মাঝামাঝি সময়ের কথা। এই হার্ডল রেসে উৎরে যাবার পরেই ঠিক করা হলো, মুক্তির বাবা-মা’কে একবার আমাদের কাছে নিয়ে আসতেই হবে।

বুঝতে পারছিলাম, আমরা যে কবে যেতে পারবো দেশে, তার কোনো ঠিক নেই। এর মধ্যে আমার বোনের বিয়ে উপলক্ষ্যে একবার আমরা চেষ্টা করেছিলাম ক্যানাডায় গিয়ে মুক্তির এইচ ওয়ান-বি ভিসা আগে থেকে রিনিউ করাতে, যাতে দেশে গিয়ে কোনো বিপদে ওকে না পড়তে হয়। নিরাপদে আমরা ফিরে আসতে পারি।

সত্যিকারের কোনো গাইডেন্স ছিলো না, আসল পরামর্শ দেবার কেউ ছিলো না। কার্বনডেলে নতুন কয়েকজন কমবয়সী বাঙালি ছাত্র এসেছিলো – আশীষ রায়, দেবাশীষ লাহিড়ী, দেবরাজ রায়। এরা সব আমাদের চেয়ে অন্ততঃ দশ, বারো কি পনেরো বছরের ছোটো। তারা নানা খবর রাখে। সম্প্রতি দেশ থেকে এসেছে। দেশের এখনকার হালচাল ওরা আমাদের থেকে ভালো জানে।

ওরাই বললো, “পার্থদা মুক্তিদি, আপনারা টরন্টো চলে যান। ওখানে শুনেছি ভিসা পাওয়া সহজ। একবার লাক ট্রাই করে দেখুন না কী হয়।”

একদিন বাচ্চা মেয়েকে পিছনের সীটে বেঁধেছেঁদে বসিয়ে, আর ট্রিপল-এ নামক সেসময়কার ট্র্যাভেল কোম্পানি থেকে বিরাট একটা ছাপানো রোড ম্যাপ সংগ্রহ করে আমরা রওনা দিলাম দক্ষিণ ইলিনয় থেকে ছশো পঞ্চাশ মাইল বা এক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিতে, অন্য এক দেশে। সেখানে গিয়ে শিকাগোতে পরিচয় হওয়া শুভা এবং কার্তিক দম্পতির ফ্ল্যাটে দু তিনদিন থেকে মার্কিন কনস্যুলেটে এক সকালে সেই লাক ট্রাই করা গেলো। অনেক বোঝালাম – বললাম মুক্তি পাঁচ বছর হয়ে গেলো বাবা-মা'কে দেখেনি, এবং সে একমাত্র সন্তান। আমাদের একটা ফেরবার ভিসার ব্যবস্থা করে দেবেন প্লিজ?

মিলিটারি ও পুলিশ ইমিগ্রেশন অফিসারের হৃদয় বিগলিত হলো না। আমাদের হৃদয় কিন্তু ভগ্ন হলো। সেই হৃদয় নিয়ে আবার এক হাজার কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে এক সপ্তাহ পরে আমরা আবার কার্বনডেলে ফিরে এলাম।

বিরানব্বইয়ের মার্চ এপ্রিল মাস। মুক্তির বাবা ও মা আসবেন। আনন্দে ওর আর ওর মেয়ের চোখে ঘুম নেই। যেদিন আসার কথা, সেদিন দুটো ঘটনা ঘটলো।

এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনে তাঁরা নিউ ইয়র্ক আসবেন, এবং সেখান থেকে এক রাত হোটেলে থেকে পরের দিন আর একটা প্লেনে এয়ার ইন্ডিয়া তাঁদের সেন্ট লুইসে পৌঁছে দেবে। কিন্তু আমাদের দেশের এয়ারলাইন তো! নিউ ইয়র্কের হোটেল থেকে পরের দিন তাঁদের জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্টে না পৌঁছে দিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার শাটল ট্যাক্সির ড্রাইভার তাঁদের লাগওয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলো। বরাতজোরে মুক্তির বাবা জানতে পারলেন, এই এয়ারপোর্ট থেকে তাঁদের প্লেন যাবে না, এবং এও জানতে পারলেন যে লাগওয়ার্ডিয়া থেকে জেএফকে বিমানবন্দরের দূরত্ব অনেক, এবং শহরের দুই প্রান্তে।

এক বৃদ্ধ তাঁর বৃদ্ধা স্ত্রীকে নিয়ে জীবনে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ট্র্যাভেল করছেন। ইংরিজি ভালো বলতে পারেন না। মার্কিন ইংরিজি একেবারেই না। 

শেষ পর্যন্ত একে ধরে, তাকে ধরে কোনোরকমে নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা জেএফকে গিয়ে পৌঁছালেন, এবং ঘণ্টা তিনেক পরে সেন্ট লুইসে এসে নামলেন।

আমরা তিনজন সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করে আছি। দুজন অতিবৃদ্ধ পুরুষ ও নারী আমাদের সামনে দিয়েই চলে গেলো। আমরা কেউ তাঁদের চিনতে পারিনি। মুক্তিও না।

পনেরো কুড়ি মিনিট পরে তাঁরা আবার আমাদের সামনে দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

আমি হঠাৎ বললাম, “আরে, এই তো বাবা আর মা।” মুক্তি চীৎকার করে ডাকলো, “বাবা, বাবা, মা!”

দুজনেই আমাদের দিকে ফিরে তাকালেন। এই পাঁচ বছরের তাঁদের বয়েস অন্ততঃ কুড়ি বছর বেড়ে গেছে।

(চলবে)

*আমেরিকা-জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রখ্যাত মানবধিকার কর্মী ডঃ পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলামে চলছে ‘মেরিকামায়া সাতকাহন’।

ধারাবাহিকভাবে প্রতি শুক্রবার সন্ধে ৬টায় প্রকাশিত হচ্ছে শুধুমাত্র বঙ্গদর্শন-এ।

‘মেরিকামায়া সাতকাহন’-এর সমস্ত পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Developed by DXDasia