অমিতের হাতেই অর্থ, পরিবহণে ফিরহাদ, শিক্ষায় ব্রাত্য – মন্ত্রী তালিকা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

একাধিক দফতর নিজের হাতেই রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রীর মন্ত্রীসভার শপথগ্রহণ শেষ হতে না হতেই সামনে এল মন্ত্রীত্ব বণ্টনের তালিকা। তৃতীয় বারের জন্য সরকার গড়ে নিজের হাতেই একাধিক দফতর রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নব নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীসভা রাজভবনে শপথ নেয়। সেখান থেকে সোজা নবান্নে চলে আসেন মমতা। তারপরেই ঘোষণা করে দেওয়া হয় মন্ত্রীসভার বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব।

মমতার হাতে নতুন সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক থাকছে। শেষ দুই বারের মতো এ বারেও তিনি নিজের হাতে রেখেছেন স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। এ ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতে থাকছে, প্রশাসন ও কর্মিবর্গ দফতর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর ও উদ্বাস্তু ও পুনর্বাসন দফতর। এ ছাড়াও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর এ বার থাকছে মমতার হাতে। গত মন্ত্রীসভায় এই মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। সেই দফতর নিজের হাতে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে, এ বার আর সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর নিজের হাতে রাখেননি মমতা। গোলাম রব্বানির পেলেন সেই দায়িত্ব। বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও ফের অমিত মিত্রর হাতেই থাকছে অর্থ দফতর। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারেও তিনি এই দায়িত্ব সামলেছেন।

এ বার উল্লেখযোগ্য বদল শিক্ষা দফতরে। অতীতে অল্প সময়ের জন্য শিক্ষা দফতরে থাকা ব্রাত্য বসু ফের সেই দায়িত্ব পেলেন। স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দুই দফতরই থাকছে ব্রাত্যর হাতে। শিক্ষা দফতর হাতছাড়া হলেও পার্থ ফিরে পেলেন শিল্প ও বাণিজ্য দফতর। সেই সঙ্গে তথ্য প্রযুক্তি এবং পরিষদীয় দফতর থাকছে পার্থর হাতে। আরও একটি বড় বদল খাদ্য দফতরে। হাবড়ার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের থেকে ওই দফতর গেল রথিন ঘোষের হাতে। জ্যোতিপ্রিয় পেলেন বন ও অচিরাচরিত শক্তি দফতর। পুর-নগরোন্নয়ন মন্ত্রক হারালেও ফিরহাদ হাকিম পেয়েছেন পরিবহণ ও আবাসন দফতর। পুর-নগরোন্নয়ন দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

নতুন মুখদের মধ্যে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী অখিল গিরি পেলেন মৎস্য দফতর। রত্না দে নাগকে দেওয়া হয়েছে পরিবেশ দফতর। হুমায়ুন কবীর কারিগরি শিক্ষা। কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা হচ্ছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী।

এক নজরেঃ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: স্বরাষ্ট্রদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, পুনর্বাসন, তথ্য সংস্কৃতি এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন।

সুব্রত মুখোপাধ্যায়: পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, পাবলিক এন্টারপ্রাইজ

পার্থ চট্টোপাধ্যায়: শিল্প ও বাণিজ্য, তথ্য প্রযুক্তি, সংসদ বিষয়ক

অমিত মিত্র: অর্থ, পরিকল্পনা এবং স্ট্যাটিসটিক

সাধন পাণ্ডে: ক্রেতা সুরক্ষা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক: বন দপ্তর, অপ্রচলিত এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি

বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা: সুন্দরবন উন্নয়ন

মানসরঞ্জন ভুঁইঞা: জলসম্পদ উন্ননয়

সৌমেন মহাপাত্র: সেচ

মলয় ঘটক: আইন, বিচার এবং পূর্ত

অরূপ বিশ্বাস: ক্রীড়া, যুব কল্যাণ এবং শক্তি

উজ্বল বিশ্বাস: কারা

অরূপ রায়: সমবায়

রথীন ঘোষ: খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ

ফিরহাদ হাকিম: পরিবহণ, আবাসন

চন্দ্রনাথ সিনহা: ক্ষুদ্র, কুটির এবং মাঝারি শিল্প

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়: কৃষি

ব্রাত্য বসু: স্কুল শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষা

পুলক রায়: জনস্বাস্থ্য কারিগরি

শশী পাঁজা: নারী ও শিশু কল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়ন

মহম্মদ গোলাম রব্বানি:  সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা

বিপ্লব মিত্র: কৃষি বিপনন

জাভেদ খান: বিপর্যয় মোকাবিলা

স্বপন দেবনাথ: পশুপালন

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী: জনশিক্ষা ও গ্রন্থাগার

 

স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা

বেচারাম মান্না: শ্রম

সুব্রত সাহা: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং উদ্যান পালন

হুমায়ন কবীর: প্রযুক্তি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন

অখিল গিরি: মৎস্য

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য:  পুর ও নগরোন্নয়ন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং পুনর্বাসন (প্রতিমন্ত্রী)

রত্না দে নাগ: পরিবেশ,  বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি

সন্ধ্যারাণী টুডু: পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন

বুলুচিক বরাইক: অনগ্রসর উন্নয়ন এবং আদিবাসী উন্নয়ন

সুজিত বসু: দমকল

ইন্দ্রনীল সেন: পর্যটন এবং তথ্য সংস্কৃতি (প্রতিমন্ত্রী)

 

প্রতিমন্ত্রী

দিলীপ মণ্ডল: পরিবহণ

আখরুজ্জমান: শক্তি

শিউলি সাহা: পঞায়েত ও গ্রামোন্নয়ন

শ্রীকান্ত মাহাতো: ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি এবং বস্ত্র শিল্প

ইয়াসমিন সাবিনা:  সেচ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন

বীরবাহা হাঁসদা: বন

জ্যোৎস্না মাণ্ডি: খাদ্য এবং খাদ্য সরবরাহ

পরেশচন্দ্র অধিকারী: স্কুল শিক্ষা

মনোজ তিওয়ারি: যুব কল্যাণ এবং ক্রীড়া

Developed by DXDasia