‘মান্নাদা’-কে নিয়ে লতা মঙ্গেশকরের স্মৃতিচারণা

‘শিল্পী নন, আমার কাছে ওঁর প্রথম পরিচয় দাদা’

এখন আর সব কথা মনে থাকে না। বয়সের ভারে স্মৃতিগুলো সব আবছা হয়ে আসছে। তা-ও মান্নাদাকে ভুলব কী করে!
খবরটা বিশ্বাস করতে পারিনি। খুব কষ্ট হচ্ছিল। আমার দাদা এ-ভাবে চলে গেলেন! জানি, খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। তা-ও কেন যেন বিশ্বাস হয়তে চায় না।

আমারও বয়স হচ্ছে, তাই গিয়ে আর দাদার খবর নিতে পারতাম না আজকাল। তবে সবসময় যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছি। তাই আজ সকালে খবরটা পেয়ে…।

উনি সব গানেই সমান ওস্তাদ ছিলেন। ‘এক চতুর নার’ হোক বা ‘প্যায়ার হুয়া ইকরার হুয়া’ হোক – সুরের সঙ্গে ওঁর আত্মীয়তা ফুটে উঠেছে সবখানেই। তবে ওঁর শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বা রাগপ্রধান গায়কি ছিল অনবদ্য। ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ ওঁর মতো এত প্রতিভাবান মানুষকে আর পায়নি। হয়তো বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন। সে নিয়ে ক্ষোভও ছিল তাঁর। তবে কখনও তার প্রকাশ পেতে দেখিনি।

শিল্পী নন, আমার কাছে ওঁর প্রথম পরিচয় দাদা। উনি আমাকে ছোট বোনের মতো ভালোবাসতেন। সব সময় ওঁর সাহায্য পেয়েছি। তাই সব সময় ঠোঁটে হাসি লেগে থাকা এই মানুষটার চলে যাওয়া বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করল। দাদা নেই, ওঁকে আর দেখতে পাব না। তবে গানের মধ্যে দিয়েই উনি বেঁচে থাকবেন।

আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি কতটা হল তা বোঝানো সম্ভব নয়। সঙ্গীতজীবনের প্রায় শুরু থেকেই এই মানুষটার সান্নিধ্য পেয়েছি। কোনও কঠিন গান গাইতে গিয়ে যদি কোথাও আটকে গিয়েছি, ধরিয়ে দিতে তিনি সময় নেননি। যদ্দূর মনে পড়ছে, অনিল বিশ্বাসের সুরে সেই প্রথম আমরা এক সঙ্গে গান গাই। সেটা একটা রাগপ্রধান গান। তারপর তো কত গান গেয়েছি। ১০০টার বেশি তো হবেই। ভিড় করে আসে কত স্মৃতি। কখনও মজা, কখনও বিষণ্ণতা, কখনও-বা শুধুই গল্প।

তবে প্রথম দিন আলাপটা সেভাবে হয়নি। সেটা হয়তে আরও কিছুটা সময় লেগেছিল। আলাপটা গাঢ় হওয়ার পর যেমন জমে উঠেছিল গান, তেমনই বন্ধুত্ব। আদ্যন্ত ভদ্রলোক ছিলেন। দাদার কাছে কোনওদিন কিছুতে সঙ্কোচ হয়নি। ছোট বোন কিছু শিখতে চাইলে কখনও না বলেননি। এটাই তো প্রাপ্তি। এ-রকম একটা মানুষের সঙ্গে গান গেয়েছি। ভালোবাসা পেয়েছি। আমার তো একটাই পরিচয়। আমি তাঁর ছোট বোন।

Developed by DXDasia