রাজপথে ‘গ্রিন বাফার’ তৈরিতে উদ্যোগী কলকাতা পুরসভা

কলকাতায় কমবে দূষণ, বাড়বে অক্সিজেনের পরিমাণ

মফান ঘূর্ণিঝড়ে কলকাতা শহরে বিপুল পরিমাণ সবুজ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। উপড়ে গিয়েছিল প্রচুর বড়ো গাছ। সরকারি হিসেবেই সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছিল ১৫ হাজারের বেশি। প্রশ্ন উঠেছিল, এই বিপুল ক্ষতির পূরণ করা যাবে তো? গত সাড়ে চার বছর ধরে সেই লড়াই চলেছে। সবুজের ক্ষতি পূরণ করতে নানা উদ্যোগও নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মহানগরীতে বড়ো গাছ লাগানোর জায়গা নেই! তাই, শহরের দূষণ কমাতে এবার বড়ো রাস্তার মাঝে ‘গ্রিন বাফার’ তৈরির পরিকল্পনা করছে কলকাতা পুরসভা। যেসব গাছ উচ্চতায় চার থেকে সাড়ে চার ফুট। ফলে কিছুটা হলেও দূষণ কমবে। অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়বে।

দূষণের নিরিখে রাজধানী দিল্লির খুব একটা পিছনে নেই কলকাতা। এজন্যই শহরের সবুজায়নে জোর দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। উদ্যান বিভাগের উদ্ভিদবিদদের পর্যবেক্ষণ, সেন্ট্রাল কলকাতার বেশ কিছু জায়গা কার্যত বৃক্ষশূন্য। কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়ার মতো গাছের সংখ্যাও দ্রুত কমছে শহরে। পুর উদ্যান বিভাগের আধিকারিকদের বক্তব্য, আয়লার পর বেশিরভাগ বড়ো গাছ উপড়ে যায়। সেই বছর ও তার পরের বছর গড়ে ৫০ হাজার করে গাছ লাগানো হয়। সেই সময়ে রাজ্য হর্টিকালচার বিভাগ সমীক্ষা চালিয়ে পুর উদ্যান বিভাগে রিপোর্ট জমা দেয়। যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছিল, কলকাতার বেশিরভাগ এলাকায় মাটি আলগা হয়ে গিয়েছে। তাই নতুন করে খাস কলকাতার বুকে বট, মেহগনি অথবা অশ্বত্থের মতো বৃক্ষ রোপণ করা হলেও ঝড়ে গোড়া থেকে উপড়ে যাবে। সে কারণেই কলকাতা পুরসভা বেশি করে ‘গ্রিন বাফার জোন’ তৈরির দিকে মন দিয়েছে।

কলকাতার বেশিরভাগ এলাকায় মাটি আলগা হয়ে গিয়েছে। তাই নতুন করে কলকাতার বুকে বট, মেহগনি অথবা অশ্বত্থের মতো বৃক্ষ রোপণ করা হলেও ঝড়ে গোড়া থেকে উপড়ে যাবে।

কেএমসি-র তরফে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ২৮ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে শহরের নানা প্রান্তে। এমনকি এর আগেও শহরের একাধিক পথে ‘গ্রিন বাফার জোন’ তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সঠিক রূপ পেলে পরিবেশ দূষণ রুখতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের অফিসাররা।

Post Tags
Developed by DXDasia