লোকটা একটা ঢ্যাঁড়শ বললে কী বোঝা যায়?

আমাদের কথায় শাক সবজি তরি তরকারির নাম

পটলা নাম কম হলেও বাঙালিদের মধ্যে একেবারে নেই তা নয়। আছে। কিন্তু খাবার হিসেবে বাঙালির খাদ্য তালিকায় পটল কোনও দিনই খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি। আবোল তাবোলে সুকুমার এক বার পটলের উল্লেখ করেছেন। হযবরল-তে নেই। শিবরামেও আছে বলে মনে পড়ছে না। রবীন্দ্রনাথেও যদ্দুর মনে পড়ে নেই। তবু পটল চেরা চোখ আছে। আছে পটল তোলাও।আমরা যে এই কথাগুলো আজকাল খুব বলি তেমন নয়, কিন্তু, কথাগুলো হারিয়েও যায়নি। শুধু পটল কেন? আমাদের কথায় আরো নানা ধরনের শাক সবজি, তরি তরকারির প্রসঙ্গ অজান্তেই এসে পড়ে। অনেক সময়েই তার পিছনে যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না।

লোকটা একটা ঢ্যাঁড়শ বললে আমাদের মোটেই লোকটাকে বুঝতে অসুবিধে হয় না। যদিও ঢ্যাঁড়শ যে কীসে খারাপ কে জানে! এবং এটাও ঠিক, লোকটা একটা ভিন্ডি বললে কিছুই বোঝা যেত না। ঢ্যাঁড়শ তো দেখতেও খারাপ নয়। লেডিস ফিংগার সাধে বলে। কোনও লোকের হাসি দেখে যখন বলা হয়, মনে হচ্ছে যেন ভালুক শাঁকালু খাচ্ছে। তা নিয়ে অপমানিত বোধ করার কোনও সুযোগ নেই, এর মধ্যে কোনও বর্ণ বিদ্বেষ নেই। কারণ, উলটোটা-ও তো বলা হয়। ওই যে রাঙামুলোটা ফের এল।

কেউ তার বান্ধবীকে কখনও বলেছে কি, তোকে একেবারে টাটকা লালশাকের মতো দেখতে লাগছে, বা তোমার ওই ঘেঁটুফুলের মতো ভালোবাসায় আমার দরকার নেই, তা জানা নেই। তবে আলুসেদ্ধর মতো মুখ করে বসে আছো কেন, এতো আমরা বলেই থাকি। কুমড়োর মতো গড়িয়ে পড়লে, যদি তেমন ব্যথা না লাগে, লোকে হাসবেই। তবে তাতে যদি লোকটার চোখ আলুবখরার মতো হয়ে ওঠে, হাসি শুকিয়ে যেতে বাধ্য। এবং সেই বিরক্ত লোকটাও তখন তাদের উদ্দেশে বলতেই পারে, মুলোর মতো দাঁত বার করে হ্যা হ্যা কচ্ছিস কেন! তিল-কে তাল যারা করে, তাদের অনেকেই পছন্দ করে না। কিন্তু হলঘরে তিল ধারণের স্থান না থাকলে, নেতার মুখের হাসি হয় কান এঁটো করা। আবার নেতার কথা পছন্দ না হলে, টমেটো ছুড়ে মারার ঘটনা কম হলেও কিন্তু ঘটে। কাঁচকলা খাও, কচু পোড়া খাও, আজকাল আর তেমন কাউকে বলতে শুনি না। তবে ‘সাধের লাউ’ যাদের বৈরাগী বানায়নি তাদেরও অনেকের প্রিয়। কিন্তু পাকা পেপে? সেখানে একটা মুসকিল আছে। পাখি পাকা পেপে খায়। খায় তো বটে! কিন্তু বলা যায় কি? মানে তাড়াতাড়ি!!

Developed by DXDasia