বিভিন্ন সম্প্রদায়কে এখনও নতুন তকমায় সংরক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব!
গুজরাটের ভোট আসতেই কপিল সিব্বল হঠাতই আইনের যাদুকর হয়ে উঠলেন। একেই বোধহয় বলে ঠেলার নাম বাবাজি।
কপিল সিব্বল পাতিদারদের বলেছেন, পাতিদার, জাঠ ও গুর্জর এই তিন জাতের জন্য বিশেষ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে কংগ্রেস। কীভাবে হবে? একথা তাঁর সুবিদিত যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সংরক্ষণ যা দেওয়ার তা ৫০ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সে জন্যই বহু রাজ্যে অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষের জনসংখ্যার শতাংশগত হার অনেক বেশি হলেও তাঁদের জন্য ২৭ শতাংশ সংরক্ষণ নির্ধারিত হয়েছিল। কারণ তফসিলি জাতি–উপজাতির সংরক্ষণ আগে থেকেই চলে আসছে। গুজরাটে ইতিমধ্যেই সংরক্ষণের সীমা ঠেকেছে ৪৯.৫ শতাংশে। কাজেই অনান্য শ্রেণীর কোটা না কমিয়ে কংগ্রেসের পক্ষে পাতিদার বা অন্য কোন সম্প্রদায়কে সংরক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। এনিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা সুস্পষ্ট। তা সত্বেও কপিল সিব্বল সংবিধানের বিভিন্ন ধারার উল্লেখ করে পাতিদার নেতাদের বুঝিয়েছেন, সংবিধানে বা সুপ্রিম কোর্ট যাই বলে থাকুক, বিভিন্ন সম্প্রদায়কে এখনও নতুন তকমায় সংরক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব! এবং তাঁর দাবি, পাতিদার ছাড়াও জাঠ ও গুর্জরদের নিয়ে এই নতুন ব্র্যািকেট তৈরি করবে কংগ্রেস।
এরপর অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই মানুষ অবাক হয়ে তাঁকে প্রশ্ন করতে পারেন, এতদিন কোথায় ছিলেন!
গত বেশ কিছু বছর ধরে হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাটে সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন চলছে। শুধু আন্দোলন নয়, তুলকালাম হয়ে গিয়েছে। মানুষ মারা গিয়েছে, মেয়েরা ধর্ষিত হয়েছে। হরিয়ানায় এমন তুলকালামের সময় কংগ্রেস দল ক্ষমতায় ছিল। সাড়ে তিন বছর আগে পর্যন্ত কেন্দ্রে কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। সিব্বল ছিলেন মন্ত্রী। তখন কোথাও একবারের জন্য সিব্বল মশাই এমন কথা বলেননি। কারণ কি এই যে তখন রাহুল গান্ধীর দলের সভাপতি হওয়ার মুহূর্ত আসেনি এবং তাঁর সামনে নিজের যোগ্যতা প্রমানের প্রয়োজন পড়েনি? হার্দিক পটেলের সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রবীন আইনজীবী ব্যাখ্যাও করেছেন, কীভাবে অনগ্রসর শ্রেণীর কোটায় হাত না দিয়েও এই পৃথক সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব। কংগ্রেসের এই নতুন প্রস্তাবে পাতিদারদের মনে যাতে কোন সংশয় না দেখা দেয় সেই কারণে ওই বৈঠকে হাজির করা হয়েছিল রাজস্থানের গুর্জর নেতা হিম্মত সিং গুর্জরকে।
এর আগে অর্থনৈতিক অনগ্রসর শ্রেণীর নাম করে তাঁদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব বাতিল করেছিল পাতিদারেরা। কারণ তাঁরাও জানতেন এমন কিছু হওয়া সম্ভব নয়। আবার অনগ্রসর শ্রেণীর মধ্যে পাতিদারদের ঢোকানোও সম্ভব নয়। তার প্রথম কারণ, তার জন্য যে সব নির্ণায়ক আছে তাতে পাতিদারেরা উত্তীর্ন হন না। দুই, তেমন কিছু করলে গুজরাটের ৪০ শতাংশ অনগ্রসর ভোটের পুরোটাই হারাতে হবে কংগ্রসেকে। তাই এবার নতুন মোড়ক দিয়ে অজানা পণ্য এনেছেন সিব্বল। তিনি যা বলছেন তার অর্থ হল, নতুন একটা শ্রেণী তৈরি করে তাতে এই তিন সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে নেবেন তিনি, আর সুপ্রিম কোর্ট নিজের ভুল স্বীকার করে বলবে সংরক্ষণের সীমা ৭০ শতাংশ ছুঁক, ৮০ শতাংশ ছুঁক, আমাদের কোনও আপত্তি নেই।
কংগ্রেসের সঙ্গে এই বৈঠকে পাতিদার অনামত সংঘর্ষ সমিতির (পাস) পক্ষ থেকে ১৩ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না হার্দিক প্যাটেল। বস্তুত গুজরাটের এক হোটেলে কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে গোপনে দেখা করার ভিডিও ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকেই হার্দিক কংগ্রেসিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলছেন। হার্দিকের বদলে ওই বৈঠকে নেতৃত্ব করেন পাসের আহ্বায়ক দীনেশ বামবানিয়া। বৈঠক শেষে বলেছেন, ‘কংগ্রেসের তরফে সংরক্ষণের বিষয়ে মোট যে তিনটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেগুলি নিয়ে পাস আলোচনা করে নিজেদের মতামত জানাবে।’ এখন দেখার, সিব্বলের এই যাদু–প্রস্তাব তাঁদের সম্মোহিত করে কি না।
ভোটের বাজারে অবশ্য সবই সম্ভব।