বাংলার মাটির পুতুলে ভারতীয় সামরিক ধারা

বাংলার মৃৎশিল্পীদের পুতুল-ভাবনা

স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীকে একাধিক যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। স্বল্প রসদ, অত্যাধুনিক সমর পরিকাঠামোর অভাব থাকা সত্ত্বেও রণাঙ্গে নিজেদের বীরত্ব ও দুর্ধর্ষ রণকৌশলের নজির রেখেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বাংলার মাটির পুতুলেও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেই অদম্য সাহসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। সমাজ জীবনের বাস্তবতা বাংলার মৃৎশিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে গিয়েছে। তারই ফলস্বরূপ প্রতিটা যুগে বাংলার পুতুল ভাবনা প্রসারিত হয়েছে। বাংলার মিলিটারি বা সৈন্য পুতুল সেই প্রসারিত ধারার অন্যতম বাহক হয়ে উঠেছে। আজও বঙ্গসমাজের প্রান্তিক শ্রেণীতে থাকা শিশু-কিশোরেরা মিলিটারি পুতুলের মধ্যেই বীরত্বের অনুপ্রেরণাকে খুঁজে পায়।

শ্রীরামপুরের রাজ্যধরপুরের বর্ষীয়ান মৃৎশিল্পী আরতি পাল মিলিটারি পুতুলে পক্ষ ও প্রতিপক্ষ অর্থাৎ দুই দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতিচ্ছবি নিজের পুতুল নির্মাণের মাধ্যমে তুলে ধরেন। শিল্পীর কথায় ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের পর থেকে শিশুদের মধ্যে সৈন্য পুতুলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

১৯৪৭-১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের হাত থেকে কাশ্মীরকে রক্ষা করার মধ্য দিয়ে হয়েছিল স্বাধীন ভারতীয় সেনাবাহিনীর জয়যাত্রার সূচনা। তারপর নিজামের হাত থেকে হায়দ্রাবাদকে মুক্ত করা, ১৯৬১-তে ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী শক্তি পর্তুগিজদের থেকে গোয়াকে ছিনিয়ে নেওয়া মধ্যে দিয়ে ভারতীয় সেনা সাধারণ জনগণের নয়নের মণি হয়ে উঠেছিল। ১৯৬২-র যুদ্ধে অত্যাধুনিক চিনের বিরুদ্ধে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে লড়াই করেও পরাজিত হতে হয়েছিল। আবার ১৯৬৫-র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদনপুষ্ট পাকিস্তানি আক্রমণকে সাফল্যের সঙ্গে রুখতে সক্ষম হয়েছিল ভারত। ১৯৭১-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানকে দু’টুকরো করার মধ্যে দিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী তার গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সৃষ্টি করেছিল। ১৯৯৯-এর কার্গিল যুদ্ধ থেকে সাম্প্রতিক সময়ের অপারেশন সিঁদুর বাংলার সামাজিক চেতনাকে প্রভাবিত করে গিয়েছে। আর সেই প্রভাব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে বাংলার দুই খোল ছাঁচের রঙিন মাটির পুতুলের মধ্যে দিয়ে। 

স্বাধীনতা ও দেশভাগ হাত ধরাধরি করে দক্ষিণ এশিয়ায় পদার্পণ করেছিল। দুই টুকরো হয়েছিল ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মি। এর থেকে জন্ম নিয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হিজ ম্যাজিস্টি’র প্রতি আনুগত্য ছেড়ে সাধারণ জনগণ ও সর্বোপরি ভারত রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের আনুগত্য নিশ্চিত করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মির খাকি উর্দি ছেড়ে olive green বা গাঢ় সবুজ স্বাধীন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিচয় হয়ে উঠেছিল। বাংলার পুতুল নির্মাণের ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনীর উর্দির রং সেই অনুসারে সবুজ হয়েছে। যুদ্ধরত অবস্থায় সৈনিকের শারীরিক অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে মাটির পুতুলে। শ্রীরামপুরের ঐতিহ্যশালী চাতরা কুমোর পাড়ার মৃৎশিল্পী রবি পাল একাধিক অভিব্যক্তি সম্পন্ন মিলিটারি বা সৈন্য পুতুল তৈরি করেন ঝুলন যাত্রার সময়। তার মধ্যে একটি পুতুলে লক্ষ্য করা যায় পাহাড়ি পাথুরে ভূমিতে বুকে ভর দিয়ে শত্রুদের অপেক্ষায় বসে রয়েছে। মাথার হেলমেট থেকে শুরু করে গোটা উর্দির রং সবুজ। হাতে বন্দুক। যদিও মুখের অভিব্যক্তিতে কোনো প্রকারের ক্ষিপ্রতা ও সতর্কভাব নেই। সেখানে বিরাজ করছে মরমী শান্ত অভিব্যক্তি। তাঁর তৈরি অপর একটি পুতুলে দেখা যায় পাথরের টিলার উপর দাঁড়িয়ে গাঢ় সবুজ উর্দি পরে অতন্দ্র প্রহরায় এক ভারতীয় সেনা জওয়ান। দু’টি পুতুলেরই মাথায় যে হেলমেটটি রয়েছে সেটি ব্রিটিশ যুগের Brodie বা ব্রোডি হেলমেট। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই ধরনের হেলমেট পরেই তৎকালীন ব্রিটিশ বাহিনী যুদ্ধ করতে যেত। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মি থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। স্বাধীনতার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিকাঠামোগত উন্নয়নে অনেক খামতি থেকে গিয়েছিল। তাই প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হেলমেট, এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়ে ১৯৬২-তে  চিনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় সেনা।

অন্যদিকে শ্রীরামপুরের রাজ্যধরপুরের বর্ষীয়ান মৃৎশিল্পী আরতি পাল মিলিটারি পুতুলে পক্ষ ও প্রতিপক্ষ অর্থাৎ দুই দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতিচ্ছবি নিজের পুতুল নির্মাণের মাধ্যমে তুলে ধরেন। শিল্পীর কথায় ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের পর থেকে শিশুদের মধ্যে সৈন্য পুতুলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। মাটির ছোট্ট বেদীর ওপর আধ শোয়া অবস্থায় বন্দুক হাতে সবুজ উর্দি পরা এক খোল ছাঁচের সৈন্য পুতুল। অনুরূপ একই ভঙ্গিতে ছাই রঙা উর্দি পরে অপর এক সৈন্য পুতুল। শিল্পীর কথায় এই সৈনিকটি হচ্ছে চিনা। এই চিনা সৈনিকের গায়ের রং গোলাপি। আর ভারতীয় সংস্করণের গাত্রবর্ণ হলুদ। শিল্পীর কথায় ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় হওয়া ঝুলনে এই সৈন্য পুতুলের চাহিদা সর্বাধিক পর্যায়ে ছিল। ভারি মোটা কাপড়কে কাদামাটিতে চুবিয়ে সেটিকে শুকিয়ে তার ওপর খড়িমাটির প্রলেপ দিয়ে সাদা পাহাড়ের মতো তৈরি করত সেই সময়ের কিশোর-কিশোরীরা। এমনকী পুরনো বাড়ির দেওয়াল থেকে হালকা করে সবুজ শ্যাওলা কেটে নিয়ে সেই পাহাড়ের উপর লেপে দেওয়া হতো। তারপর এই সৈন্য পুতুলগুলো একটার পর একটা সাজিয়ে ঝুলনের আয়োজন করা হতো। উল্লেখ করা যেতে পারে, রবি পাল এবং আরতি পাল দুজনেই জানিয়েছেন যে তাদের বাবারাও একই শৈলীতে এই সৈন্য পুতুল বানাতেন। 

উত্তরবঙ্গের মালদার অঞ্জন পন্ডিত ভারত ও পাকিস্তানের সমর দ্বন্দ্বকে অভিনব পন্থায় প্রকাশ করেছেন। একটি কামানের গায়ে হাঁটু মুড়িয়ে এলিয়ে বসে রয়েছে এক সৈন্য পুতুল। উর্দির রং হালকা সবুজ। পিঠের মধ্যে মাটির ওয়ারলেস রেডিওর এন্টেনা রয়েছে। পুতুলের শারীরিক গঠন স্বাস্থ্যবান জওয়ানের পরিচয় বহন করে চলে। কপালে লাল টিকা এবং মুখে গোঁফ। অনুরূপ একইভাবে খাঁকি উর্দি পরা এক পাকিস্তানি সৈন্যেরও পুতুল তৈরি করেছেন তিনি। তার এই ধরনের পুতুল দুই খোল ছাঁচের তৈরি। 

মুর্শিদাবাদ শহরের মোগলটুলির অজয় কুমার চৌধুরীর তৈরি মিলিটারি বা সৈন্য পুতুলের মধ্যে ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে বফোর্স কামানের ছোটো সংস্করণ দেখা যায়। পুতুলের বিন্যাসের মধ্যে একটি বিশালাকায় বফোর্স কামানের একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে একজন সৈন্য। লক্ষ্যবস্তু তাক করার জন্য সেই সৈন্য ব্যস্ত। তার তৈরি সৈন্য পুতুলের মধ্যে পক্ষ ও প্রতিপক্ষ অর্থাৎ ভারত ও পাকিস্তানের সৈন্যের ধারা রয়েছে। ভারতকে যথারীতি অলিভ গ্রিনে রাঙানো হয়েছে অন্যদিকে খাকি পোশাক রেখে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান সৈন্যদের ক্ষেত্রে। তার পুতুল নির্মাণে স্থান পেয়েছে শহীদ হয়ে যাওয়া রক্তাক্ত সৈনিকের দেহ। যা শিল্পীর চেতনা ও ভাবনার পরিচয় বহন করে চলে। 

নদিয়া জেলার নবদ্বীপের মৃৎশিল্পী সবিতা শীলের তৈরি সৈন্য পুতুলের অভিনবত্ব শৈল্পিক ভাবনাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। হাতির পিঠে হাতে বোমা নিয়ে সবুজ উর্দি ও মাথায় গোলাপী Beret বা বেরেট টুপি পরে বসে রয়েছে ভারতীয় সেনা জওয়ান। প্রতিবছর চড়কের মেলা উপলক্ষে এই পুতুল তৈরি করা হয়। কার্গিল যুদ্ধের সময় থেকে এই শৈলীর পুতুলটি তৈরি করা হচ্ছে। যে হাতির গায়ে সেনা জওয়ান বসে রয়েছে সেটিকে অনবদ্যভাবে অলংকরণ করা হয়েছে। শরীরজুড়ে লোকজ আলপনার ছোঁয়া হাতিটিকে শৈল্পিক বিভায় প্রস্ফুটিত করেছে। 

মাথায় পরিহিত টুপি গোর্খা রেজিমেন্টের Terai শৈলীর টুপির কথা মনে করিয়ে দেয়। আটের দশকে অলিভ গ্রিন ছেড়ে ব্রাশ স্ট্রোক ক্যামোফ্লেজ রঙের উর্দি ধারণ করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। তারই প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে সন্তু পালের সৈন্য পুতুলে।

কলকাতা-কুমোরটুলির অনিমা ও মায়া পাল কাঁচা মাটির রঙিন পুতুলের ধারাকে বাংলার এই ঐতিহ্যশালী পটুয়াপাড়ায় টিকিয়ে রেখেছেন। বাংলার মিলিটারি বা সৈন্য পুতুলের ধারা তাঁদের মৃৎশিল্পকেও অনুপ্রাণিত করে গিয়েছে। তাঁদের তৈরি সৈন্য পুতুলের হেলমেট এবং গোটা পোশাকের রং সবুজ। গোটা জামা জুড়ে বেল্টের স্ট্র্যাপ বসানো। বাম হাতে লম্বালম্বি করে ধরে থাকা রাইফেল থ্রি নট থ্রির পরিচয় বহন করে চলেছে। উর্দির কাঁধের দিকে chevrons বা রোমান হরফের জোড়া ভি আকৃতি বুঝিয়ে দিচ্ছে সেই সৈন্য পুতুলের পদমর্যাদা। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে উর্দির মধ্যে যদি জোড়া ভি থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে সেই সৈন্য “নায়েক” পদমর্যাদায় কর্মরত। মায়া ও অনিমা পালের তৈরি এই সৈন্য পুতুলের কপালের মধ্যে লাল টিকা রয়েছে। দাঁড়িয়ে থাকা ভঙ্গিমার পাশাপাশি বুকে ভর দিয়ে শত্রুর অপেক্ষায় থাকা সৈন্য তৈরি করে থাকেন তারা। সবুজ রঙের উর্দির পাশাপাশি বিভিন্ন রঙের উর্দি পরিহিত সৈন্য তাদের পুতুল নির্মাণে লক্ষ্য করা যায়। 

হুগলি-শ্রীরামপুরের মানিকতলা পটুয়া পাড়ার মৃৎশিল্পী শম্পা চিত্রকরের সৈন্য বা মিলিটারি পুতুলের উর্দিটি মেটে রঙে মাতিয়ে তোলা হয়েছে। উর্দির উপরি অংশে রোমান হরফের এক্স শৈলীর বেল্টের আকৃতি দেওয়া হয়েছে। কোমর বন্ধনীতে পিস্তল রাখার হোলস্টারও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শ্রীরামপুরের নগা মাঠপাড়ার মৃৎশিল্পী সন্তু পালের সৈন্য পুতুল বুকে ভর দিয়ে এগিয়ে চলেছে। পিঠেতে ব্যাগ। মাথায় পরিহিত টুপি গোর্খা রেজিমেন্টের Terai শৈলীর টুপির কথা মনে করিয়ে দেয়। আটের দশকে অলিভ গ্রিন ছেড়ে ব্রাশ স্ট্রোক ক্যামোফ্লেজ রঙের উর্দি ধারণ করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। তারই প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে সন্তু পালের সৈন্য পুতুলে। 

মিলিটারি পুতুল তৈরির উল্লেখযোগ্য স্থানগুলি হল শান্তিপুরের চৌগাছা পটুয়া পাড়া, কলকাতার উল্টোডাঙার দক্ষিণ দাড়ি কুমোর পাড়া, বর্ধমান, নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলা, উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘড়িয়া নিমতা, হাওড়া প্রশস্ত পাল পাড়া, পূর্ব বর্ধমানের ভাণ্ডারটিকুরি। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলার মৃৎপুতুল শিল্পীরা মিলিটারি পুতুলের পাশাপাশি মাটির তৈরি কালো রঙের খেলনা প্যাটেন ট্যাংকও তৈরি করে থাকেন। নবদ্বীপের গঙ্গা পুজোর মেলায় এই ট্যাংকের পসরা নিয়ে তারা বসেন। 

বাংলায় মিলিটারি পুতুলের পাশাপাশি পুলিশ পুতুলও তৈরি করেন মৃৎশিল্পীরা। কিন্তু সেই পুতুলের মধ্যে মূলত সর্বাধিক বেশি ট্রাফিক পুলিশ তৈরি হয়। গাড়ি থামানোর হাতের কৌশল এই পুতুলে সর্বাধিক বেশি দেখা যায়। শান্তিপুরের চৌগাছা পটুয়া পাড়ায় নকশাল পুতুলের দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু আজও সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি ভালোবাসা প্রমাণ বহন করে চলে বাংলার মিলিটারি বা সৈন্য পুতুল। হুগলি জেলার রামপাড়ার নন্দীদের রথযাত্রায় ব্যবহৃত রথের গায়ে চিত্রিত হয়েছে সবুজ উর্দি পরা সৈন্যদের চিত্র। একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে উদয়নারায়নপুরের রথযাত্রার রথ চিত্রে। ফলে এর থেকে প্রমাণিত হয় ভারতীয় সেনার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশেষ করে প্রান্তিক শ্রেণীতে থাকা মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

Developed by DXDasia