
উদ্বোধনের মঞ্চে ছিল চাঁদের হাট
বুধবার, ৪ ডিসেম্বর কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে শুভ উদ্বোধন হয়ে গেল ৩০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৪ (30th Kolkata International Film Festival)। উৎসবের উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিনেতা-সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার বিখ্যাত পরিচালক পাবলো সিজার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তারা, কিফ ২০২৪-এর চেয়ারপার্সেন তথা পরিচালক গৌতম ঘোষ, ফ্রান্সের প্রতিনিধি নিকোলা ফ্যাসিনো, অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, অভিনেতা দীপঙ্কর দে, অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়, অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়-সহ টলিউডের অন্যান্য শিল্পী, কলাকুশলীরা।
এদিন ভাষণে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, “বাংলার সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। এফটিআইআই-এ ঋত্বিক ঘটক আমার শিক্ষা জীবনের গুরু ছিলেন।”

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হল ভারতের তৃতীয় প্রাচীনতম চলচ্চিত্র উৎসব। প্রতিবারের মতো সিনেমা দেখানো হবে নন্দন ১-২-৩, রবীন্দ্র সদন, শিশির মঞ্চ, রাধা স্টুডিও, নজরুল তীর্থ ১-২, রবীন্দ্র ওকাকুরা ভবন-সহ সমস্ত সরকারি প্রেক্ষাগৃহ, সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্সে। ৩০তম KIFF শতবর্ষ শ্রদ্ধা জানাবে তপন সিনহা, হরিসাধন দাশগুপ্ত, অরুন্ধতীদেবী, বংশী চন্দ্রগুপ্ত, মোহাম্মদ রফি, তালাত মাহমুদ, মদন মোহন, মার্লন ব্র্যান্ডো, মার্সেলো মাস্ত্রোনি প্রমুখকে। বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে সদ্য প্রয়াত কুমার সাহানি, অনুপ মুখোপাধ্যায়, গৌতম হালদার, উৎপলেন্দু চক্রবর্তী, মনোজ মিত্রকে।
এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে নৃত্য পরিবেশনা করেন ডোনা গাঙ্গুলি, তাঁর উপস্থাপনায় পাওয়া যায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা। উদ্বোধনী ছবি হিসেবে দেখানো হল তপন সিনহা পরিচালিত ও রবি ঘোষ অভিনীত ‘গল্প হলেও সত্যি’। ২০২৪-এর এই উৎসবে ফোকাস কাট্রি ফ্রান্স। এবছর চলচ্চিত্র উৎসবে সারা বিশ্ব থেকে সর্বমোট ২৪৫৯টি ছবি জমা পড়েছিল। তার মধ্যে থেকে জুরিরা বেছে নিয়েছেন ১৭৫টি ছবি (পূর্ণদৈর্ঘ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য, তথ্যচিত্র মিলিয়ে)। ৪১টি দেশ যেমন ভারত, ফ্রান্স, রোমানিয়া, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ইউকে, ইউএসএ, ইতালি, জর্জিয়া, পেরু, জার্মানি, পর্তুগান, ডেনমার্ক, চিন, স্পেন, লিথুয়ানিয়া, ফিলিপিন্স, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, ইরান, অস্ট্রিয়া, কানাডা, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, জাপান, বুলগেরিয়া, মেক্সিকো-র ছবি দেখানো হবে কলকাতার ২০টি প্রেক্ষাগৃহে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে গত কয়েকবছর ধরে নন্দন চত্বর ছাড়াও ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলিতেও ছবি দেখানো হয়। এবছরও তার অন্যথা হয়নি। এই সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলির মধ্যে রয়েছে নবীনা, নিউ এম্পায়ার, অজন্তা, মেনকা, স্টার ও গ্লোব।
৫ ডিসেম্বর অর্থাৎ আজ থেকে তপন সিনহার ১০০ বছর-এর বিশেষ প্রদর্শনী দেখা যাবে নন্দনে। KIFF-এর ৩০ বছরের জার্নি উপলক্ষ্যে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালায়। সদ্য প্রয়াত পরিচালক উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর চোখ দেখানো হবে 35 mm ক্যামেরায়। ৬ ডিসেম্বর শিশির মঞ্চে সদ্য প্রয়াত পরিচালক গৌতম হালদার ও সাউন্ড ডিজাইনার অনুপ মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানাতে দেখানো হবে ‘ভালো থেকো’, সেই উপলক্ষ্যে শহরে আসছেন অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। ১১ ডিসেম্বর রবীন্দ্র সদনে তপন সিনহার ছবির জীবিত অভিনেতা ও কলাকুশলীদের সম্মানিত করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ আয়োজিত কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-এর ৩০তম সংস্করণে একতারা মঞ্চে প্রতিদিন থাকবে সিনে আড্ডা, শিশির মঞ্চ ও রবীন্দ্র সদনে থাকবে নানান বিষয়ের উপর সেমিনার ও মাস্টারক্লাস। এই সিনে-উৎসব ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফিল্ম প্রোডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (FIAPF) দ্বারা স্বীকৃত। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যিশু সেনগুপ্ত এবং জুন মালিয়া।
