মিউজ়িয়াম অফ অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্স : কলকাতায় মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ

দেশের প্রথম মহাকাশ সংগ্রহশালা

বিমান-রেল-নৌকা, মুদ্রা-ডাক, প্রত্নতত্ত্ব-পুরাতত্ত্ব—কলকাতায় এই সবকিছু নিয়েই সংগ্রহশালা আছে। আছে বিজ্ঞান নিয়ে একাধিক মিউজিয়াম, ছিল না শুধু মহাকাশ বিষয়ে সংগ্রহশালা। সে ঘাটতিও পূরণ হয়েছে, শুধু কলকাতা নয় সারা দেশের জন্য।

অ্যাপোলো-১১ মহাকাশযানের মডেল-এর সামনে রাকেশ শর্মা, দেশের প্রথম মহাকাশচারী

মূলত ছাত্র ও যুবসমাজকে মহাকাশ সম্পর্কে অবগত করতেই এই মিউজিয়াম নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করা বেশিরভাগ পড়ুয়াই জীবিকা সংক্রান্ত পড়াশোনার দিকে ঝুঁকছেন। এই জীবিকা সর্বস্ব মনোভাব শুধুমাত্র মহাকাশ-বিজ্ঞান নয় সুদূরপ্রসারী যাবতীয় বিজ্ঞানচর্চা বা গবেষণার অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে এই ধরনের ‘ওয়েল কিউরেটেড’ সংগ্রহশালা পড়ুয়াদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি মহাকাশ বিষয়ক অনেক কৌতূহলও নিবারণ করবে।

জীবিকা সর্বস্ব মনোভাব সুদূরপ্রসারী বিজ্ঞানচর্চা বা গবেষণার অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে এই ধরনের ‘ওয়েল কিউরেটেড’ সংগ্রহশালা পড়ুয়াদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি মহাকাশ বিষয়ক অনেক কৌতূহলও নিবারণ করবে।

১৯৮৪ সালে রুশ মহাকাশযানে চেপে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন বায়ুসেনার তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার রাকেশ শর্মা। ৭ দিন মহাশূন্যে কাটিয়ে ফিরে এসেছিলেন পৃথিবীতে। ২০২৩-এ এই মিউজিয়ামের উদ্বোধন করেছিলেন তিনিই – দেশের প্রথম মহাকাশচারী। এই মিউজিয়ামে রয়েছে মহাকাশ জগতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একাধিক দ্রষ্টব্য জিনিস। সবমিলিয়ে মোট ১২০০ জিনিস রয়েছে দর্শকদের জন্য। আছে মহাকাশযানের প্রতিরূপ বা ‘রেপ্লিকা’। বিভিন্ন মহাকাশচারীদের অটোগ্রাফ, প্রথম কোনও মহাকাশচারী চাঁদে পৌঁছে কী দেখেছিল, এমনকি সেখান থেকে সংগ্রহ করা নানা জিনিস রাখা হয়েছে এই মিউজিয়ামে।

সেখানে রয়েছে অ্যাপোলো-১১ মহাকাশযানের মডেল (এতে চেপেই চাঁদে গিয়েছিলেন নিল আর্মস্ট্রং-সহ তিন জন মার্কিন মহাকাশচারী)। তার ভিতরে তিন মহাকাশচারীর পুতুলও আছে। আছে অরভিল এবং উইলবার রাইটের তৈরি করা প্রথম প্লেনের মডেল। এ ছাড়াও, প্রথম ভারতীয় হিসাবে বেলুনে চেপে আকাশে পাড়ি দেওয়া রামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং কলকাতার বাসিন্দা অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান রকেট নির্মাতা স্টিফেন হেক্টর টেলর স্মিথের নানা স্মারক। আছে চাঁদের এবং মঙ্গলের মাটি, ৩৭০ কোটি বছর পুরোনো জীবাশ্ম, ছায়াপথের প্রদর্শনী এবং একটি ছোটো মাপের তারামণ্ডলও।

 

ভারতের প্রথম মহাকাশ বিষয়ক সংগ্রহশালা গড়ে উঠেছে পূর্ব কলকাতার ই এম বাইপাসে মুকুন্দপুরে, ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজ়িক্স (আইসিএসপি)-এর নবনির্মিত ভবনের প্রথম তলায়। প্রায় সাড়ে সাত হাজার স্কোয়ার ফিট জায়গা জুড়ে রয়েছে এই জ্যোতির্বিদ্যার জাদুঘরটি। নাম দেওয়া হয়েছে, মিউজ়িয়াম ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্স। প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা অধ্যাপক সন্দীপ চক্রবর্তী।  

উল্লেখ্য, মিউজিয়ামের টিকিট মূল্য- ১০০ টাকা। তবে একসঙ্গে ২৫টির বেশি টিকিট কাটলে বিশেষ ছাড় পাওয়া যাবে। স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য বাড়তি সুযোগ থাকছে সেই স্পেস মিউজিয়াম ভ্রমণের ক্ষেত্রে। অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবেই টিকিট কাটার ব্যবস্থা আছে। বুধবার মিউজিয়াম বন্ধ রাখা হয়।

_______________________ 

ঠিকানা: নিতাই নগর, মুকুন্দপুর, কলকাতা ৭০০০৯৯ | সময় সকাল ৯টা থেকে সন্ধে ৬টা (বুধবার বন্ধ) | দেখার জন্য খরচ জনপ্রতি ১০০ টাকা

Post Tags
Developed by DXDasia