সাব হেড- ঘোতন পটুয়ার মাটির পুতুল
ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা সেদিন ঘোড়ায় চড়ছেন। শুধু কী তাই! স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে গড়ের মাঠে মাথায় টুপি ও পায়ে জুতো পরে হাওয়া খেতেও যাচ্ছেন। সে এক বিরল দৃশ্য। এদেখে চিৎপুরের পাড়া-প্রতিবেশীনিরা জানালায় কপাট লাগাছেন ঝটাস ঝটাস করে। এমন দৃশ্য দেখলে নাকি স্বামী গঙ্গাজলি হন। কিন্ত ঘটনাতে কোন মিথ্যা ছিল না। স্বয়ং গগনেন্দ্রনাথও তাঁর কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে দার্জিলিংয়ে ঘোড়ায় চড়তেন। দুর্লভ আলোকচিত্র এই ঘটনার সাক্ষী দেয়। কিন্তু বাঙালী তখনও এই ঘোড়ায় চড়ার মর্ম বোঝেনি। তাদের কাছে অমন দৃশ্য দেখাও ছিল চোখের পাপ। আর মনের শক্রর।
সেদিনের সেই দাপটিনীরা বাঙালি অন্দরমহলায় নারী হৃদয়ে ঝড় তুলেছিল। সেই ঝড়ের বাতাস গিয়ে লাগল কলকত্তাইয়া কালীঘাটের পটুয়া পাড়ায়। ওদিকে পোটো পাড়ায় তখন খাস দক্ষিণ অঞ্চল থেকে ঢুকচ্ছে ঘোতন পটুয়ার মাটির পুতুল। সে পাড়ায় একটা পুতুল দেখে পুটে, তেলি, মেনকা কিংবা নরিসুন্দরীদের চক্ষু চড়কগাছ। কেউ বললে এ নিশ্চয় ইসলামিক কিতাব থেকে উঠে আসা কোন দেবী। আবার কেউ বললে না গো না ও তো ঠাকুর জমিদারদের ঘরের বউ ঘোড়ায় চড়ে মাঠের বাতাস খায়। সে যেমনই হোক না কেন আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ল এই পুতুলের খবর। কোনও রমণী আড় চোখে তাকে হিংসে দেখালে তো কোনও রমণী স্বামীর কাছে সোহাগ করে বায়না ধরলে অমন একটি পুতুল কিনে দিতে। কিন্তু চোরাস্রোতের মত যেটা সকলের চোখ এড়িয়ে গেল তা হল অন্দরবাসিনী বন্দিনীরা সে দিনেই ঘোড়সওয়ারি রমণীর অন্দরেই খুঁজে পেয়েছিল নারী মুক্তির ভাষা।
দুয়ার ভেঙে চারদেওয়ালের ছক ভেঙে সেদিন তাদের মন সওয়ার হয়েছিল ঘোড়ার পিঠে। তাই পোটো পাড়ার এই পুতুল সেদিন ছিল অন্দরবাসিনীর বাইরের আলো দেখার এক অচেনা দর্পণ।