
গত এক সপ্তাহে জালবন্দি হয়েছে প্রায় ৩,৫০০টন ইলিশ
বর্ষা পেরিয়ে এখন শরৎকাল চলে এসেছে। ইলিশ-প্রিয় বাঙালিদের বেশ মনখারাপের মধ্যেই কেটেছে গোটা বর্ষা। ইলিশের আমদানি হলেও তা চাহিদার থেকে অনেক কম ছিল। যোগান কম হওয়ার সঙ্গে ইলিশের ওজনও ছিল অনেক কম। ফলে মাত্রাছাড়া দাম হচ্ছিল এই রুপোলি ফসলের। মৎস্যজীবীদের মাথায় হাত৷ হলটা কী!
এবার হাসি ফুটেছে তাঁদের মুখেই। গত কয়েকদিনে ইলিশের যোগান বেশ ভালো হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে জালবন্দি হয়েছে প্রায় ৩,৫০০ টন ইলিশ। বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্রমাগত নিম্নচাপ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সমস্যা হচ্ছিল ইলিশ ধরার কাজে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে সমুদ্রে যত ইলিশ ধরা পড়েছে তাতে কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখবেন বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।
এই বিষয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারমেন অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সহ-সম্পাদক বিজন মাইতি প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত ২৮ অগাস্ট সমুদ্রে সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি ট্রলার গিয়েছে। মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর থেকে পাড়ি দিয়েছে এই ট্রলারগুলি। এখনও পর্যন্ত যা খবর তাতে গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩,৫০০ টন ইলিশ জালবন্দি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ফিরে এসেছে অনেক ট্রলার। বাকি ট্রলারগুলিও দু’একদিনের মধ্যেই ফিরে আসবে।
ব্যবসায়ীদের মতামত, গত কয়েক দিনে যা ইলিশ জালবন্দি হয়েছে তা বাজারে পৌঁছে গেলে ঘাটতি অনেকটাই কমবে। ফলে পাইকারি ও খুচরো বাজারে দাম কিছুটা কমবে। ইলিশের বিক্রিও বাড়বে। অতএব, ইলিশ-প্রাণ বাঙালিদের কাছে খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে সুখের দিন। একটু দেরি করেই না হয় পেলেন। কিন্তু পেলেন তো! শরতে এই হোক একটুকরো হাসি। সত্তরের বিশিষ্ট কবি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় লিখেছিলেন, দোদুল গঙ্গামধ্যে ইলিশের নাও/ খিচুড়ি চাপাও বঁধূ খিচুড়ি চাপাও।

