মেয়ের বিয়েতে সামাজিক রক্ষণশীলতাকে আঘাত করলেন গগনেন্দ্রনাথ

আজ গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী

গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মেছিলেন উনিশ শতকের কলকাতায়, বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে। হরিনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে জল রঙে ছবি আঁকা শিখেছিলেন। পরবর্তীকালে জাপানি চিত্রকলায় প্রভাবিত হন। পশ্চিমি নান্দনিকতাকেও আত্মস্থ করেছিলেন। 
    
ছবি আঁকার জগতে নতুন ধারা এনেছিলেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি থিয়েটার করতে ভালোবাসতেন, শিশুসাহিত্যেও রেখেছিলেন সাবলীলতার পরিচয়। যে কোনো সৃজনশীল মানুষেরই থাকে সমাজের ক্ষয়ে যাওয়া নিয়মগুলিকে পাল্টে ফেলার ঝোঁক, নিজের মতো করে রক্ষণশীল প্রথাগুলোয় আঘাত হানতে চাইতেন গগন ঠাকুরও। 

গগন ঠাকুরের বড়ো মেয়ের নাম সুনন্দিনী। ১৯০১ সালে সেই মেয়ের বিয়ের আসর বসল। পাত্র প্রভাতনাথ চট্টোপাধ্যায়। তখন বিয়ে, শ্রাদ্ধের মতো অনুষ্ঠানে সেলাই করা কাপড় পরা নিষিদ্ধ ছিল। ছুঁচে সুতো পরাতে গেলে জিভের লালা লাগাতে হয়। তাই ধর্মীয় উৎসবে সুঁচ-সুতোয় সেলাই করা কাপড় পরা যেত না। শাড়ি, চাদর ইত্যাদি পরতে হত। 

৯ বছরের মেয়ে সুনন্দিনীকে গগন ঠাকুর সাজিয়ে নিয়ে এলেন সম্প্রদান করবেন বলে। অপরূপ সেই সজ্জা, কিন্তু পাত্রপক্ষ অভিযোগ করল, পাত্রীকে সেলাই করা কাপড় পরানো হয়েছে। বরের জ্যাঠামশাই অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানালেন, সেলাই করা কাপড়ে মেয়েকে সম্প্রদান করা যাবে না। আসলে, সুনন্দিনীর সাজে এমনটাই মনে হচ্ছিল যেন সে ব্লাউজ পরে আছে।

গগন ঠাকুর অবশ্য নির্বিকার। তিনি প্রশান্ত স্বরে বললেন, মেয়ের গায়ে কোনো সেলাই করা কাপড় নেই। তারপর সত্যিই দেখা গেল, গগন ঠাকুর এমনভাবে মেয়েকে শাড়ি পরিয়েছেন, বোকা বনে গেছেন সবাই। কোনো সেলাই করা কাপড় নেই সুনন্দিনীর গায়ে। কিন্তু সেটা বোঝা যাচ্ছে না। সাজের নান্দনিকতাও মুদ্ধ করার মতো। খোদ গগনেন্দ্রনাথের কাজ যে।

মেয়ে শ্বশুরবাড়ি রওনা দেওয়ার আগে গগন ঠাকুর সুনন্দিনীর এক প্রমাণ সাইজের ছবি আঁকিয়ে নিলেন একজন আর্টিস্টকে দিয়ে। সেই ধাঁচে শাড়ি পরা, হাতে কাজললতা। পরে সেই ছবি সুনন্দিনীর ছেলে দ্বারকানাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে স্থান পায়। 

ঋণ – চিত্রা দেব, শামসাদ হুসাম।    
 

Developed by DXDasia