অগ্নিযুগের সৈনিক একেন্দ্রনারায়ণ

শোনাতে পারেন রবি ঠাকুরের শেষযাত্রার ধারাবিবরনী। তিনিও যে সেদিন ছিলেন কবির শেষ যাত্রার সঙ্গী

আরামবাগের গান্ধী’ প্রফুল্ল সেনের আহ্বানেই কংগ্রেসে যোগ দান করেন তিনি। তখন গান্ধীজীর ডাকে অসহযোগ আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি। আরামবাগ সহ আশপাশের বেশ কিছু গ্রামে চলছিল বৃটিশ পুলিশদের অত্যাচার। প্রতিবাদে সামিল হয়ে কারাবরণ করলেন একেন্দ্রনাথ বাগ। পরে অশ্রু সজল দৃষ্টিতে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে ভাতৃঘাতী দাঙ্গার প্রত্যক্ষদর্শী একেন্দ্র সঙ্গী হয়েছিলেন গান্ধীজীর। হরিপুরা কংগ্রেসের পর নেতাজী দলত্যাগ করলে তাঁর সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।

স্বাধীনতা আন্দোলনের সেই সব স্মৃতি আজও গড় গড় করে বলে যেতে পারেন এই শতায়ু অতিক্রমী মানুষটি। গান্ধী-নেতাজীর কথা এমন ভাবে বলেন যেন দেখা হয়েছিল গতকাল। কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামেই থেমে যায়নি একেন্দ্রনাথের লড়াই। পাঁচের দশকে আরামবাগের আঠারোটি গ্রাম নিয়ে গড়ে ওঠা সালেপুর ইউনিয়ন বোর্ডের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে তৈরি হয় বিভিন্ন রাস্তা এবং গ্রামীণ কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক। দুটি গ্রামে সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে তৈরি করেন একটি বালিকা বিদ্যালয় এবং একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আজকের প্রথিতযশা হোমিওপ্যাথিক প্রতিষ্ঠান ‘হ্যানিম্যান হোমিও ভবন’-এর।

শতায়ু অতিক্রম করেও মাঝে মধ্যেই নিজের হাতে তৈরি হোমিওপ্যাথিক প্রতিষ্ঠানে বসতেন তিনি। স্মৃতি হাতড়ে আজও সেই অগ্নিযুগের অভিজ্ঞতার কথা অবিরাম বলে যেতে পারেন একেন্দ্রনাথ। শোনাতে পারেন রবি ঠাকুরের শেষযাত্রার ধারাবিবরনী। তিনিও যে সেদিন ছিলেন কবির শেষ যাত্রার সঙ্গী।

Developed by DXDasia