“সেই মেয়েটির কাছে সন্ধ্যাতারা আছে”

ভেতরে জ্বালানো যায় সুগন্ধী এক মোমবাতি, কাগজ পোড়ে না… মোম খরচ হয় না… শুধু ঝিলমিল আলো

– যাঃ, আজকাল আবার এইসব হয় নাকি? যত্ত সব গুলতাপ্পি। রাজকন্যে, রাজপুত্তুর, নফর…এসব গল্পকথা। না কি আবার ত্রিকোণ প্রেমের কিসসা ফাঁদতে বসবে?

– এই তোমার মস্ত বড় দোষ! আগে থেকেই জল ঢেলে দেওয়া।
– আমি রূপকথার গল্প শুনব না। বড় হয়ে গেছি। 
– তাই বুঝি, খুকি?

"দুজনে নিবিড় হয়, সন্ধ্যা হয় ছাদে
আঙুল অলসভাবে আঙুলকে বাঁধে…"

এটা সেই গল্প। আমি শুনেছিলাম খুকির মুখে। খুকি অবশ্য তখন আর খুকি নয়। তার ত্বকে তখন পড়ন্ত বিকেলের ম্লান রোদ্দুর। শুধু চোখদুটি একই রকম উজ্জ্বল।

"সে কোন নতুন দেশ ভ্রমণ করেছে, আজ
হায়, তার চাকাগাড়ি ভাঙা
আমি চাঁদ খুলে এনে চাকায় লাগাই, দেখি
ঢেউ উঠে ভাসিয়েছে ডাঙা"

এক যে ছিল রাজকন্যে। সে থাকত কবুতরখানার মতো ফ্ল্যাটবাড়িতে। পড়ত দশ টাকা মাসমাইনের ইস্কুলে, পরত ছিটের ফ্রক আর ফটরফটর চটি, চড়ত বাসে ট্রামে রিকশয়, খেত ডাল ভাত মাছের ঝোল আর ফুরসত পেলেই টুক করে স্বপ্ন দেখে নিত। সে সব যত আজগুবী স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে সে অঙ্ক পরীক্ষায় একশ'তে একশ' পায়, ভূগোলের ম্যাপ পয়েন্টিং সব পারে, ইতিহাসের সন তারিখ ভুলে যায় না, ইংরিজি ট্রান্সলেশনে ফ্লিটার মাউসের বাংলা টপ করে লিখে দেয় চামচিকে আর দিদিমণি চমকে যান। সেই সব স্বপ্নে তার বুকের কাছে ধরে রাখা প্রাইজের বইগুলো কী ভীষণ ভারী ঠেকে, ড্রয়িং দিদিমণি তার আঁকা শাড়ির ডিজাইন সব্বাইকে ডেকে ডেকে দেখান আর… কেমন করে কে জানে… সে ইস্কুলের শেষ পরীক্ষায় এভারেস্ট জয় করে ফেলে। সব্বাইকে পেছনে ফেলে ফার্স্ট হয়ে যায়।

স্বপ্ন দেখতে তো আর পয়সা লাগে না। তাই রাজকন্যে খুব স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখতে দেখতে তার চোখের কোণ জ্বালা জ্বালা করে, বোঁচা নাকের পাটা উত্তেজনায় ফুলে ওঠে, গায়েও কেমন পদ্মকাঁটা শিরশির করে। সে এক অদ্ভুত অনুভব।

''এই মাত্র মেঘ ছিল, এই মাত্র বাইরে এল চাঁদ 
এই মাত্র শীত ছিল, এই মাত্র তীব্র দাবদাহ
এই চলল সুস্থ পথ, এক্ষুনি পায়ের নীচে খাদ"

রাজকন্যের নাম ঝুমঝুমি। বেশ নাম, তাই না? 

রাজকন্যে স্বপ্নে পোলাও কালিয়া এবং বাস্তবে আছাড় খেতে খেতে কলেজের চৌকাঠ পেরিয়ে যায়। সে বয়সে বড় হয়, কিন্তু স্বপ্ন দেখার লোভ তার যায় না। 

"সে বলে সমস্ত ভেঙে – আর পড়া ধ'রো না আমায় 
   আজ এই সকালবেলা, বাবুল, নৈহার ছুটে যায়…"

তাই নিয়মমাফিক তার বিয়েও হয়। তার বর রাজপুত্তুর নয় । সে খাজাঞ্চিখানার হর্তাকর্তা। দিনরাত্তির টাকা গোনে আর টাকা গোনে। গুনতে গুনতে আঙুল ব্যথা! মাস গেলে মোহরের বটুয়া আসে বেতন হিসেবে। কতবড় দায়িত্বের কাজ! রাজকন্যে কী করে? সে বরের লক্ষ্মী বউ। মোহর তুলে রাখে সিন্দুকে। সে বরের অবাধ্য বউ। তাই ওই লাল রেশমের বটুয়াটা… খালি বটুয়া… খালি তো খালিই সই… হাপিস করে দেয়। ওটা তার বড় শখের। একরাশ থলি। কোনটাতে কিছু আস্ত আর আধভাঙা ঝিনুক আর কড়ি, কোনটাতে ফুরিয়ে যাওয়া সুগন্ধির ছোট্ট শিশি, কোনটাতে আবার গোপন স্বপ্ন লেখাদলা পাকানো চিরকুট। কোনটায় দু:খ লেখা থাকে…

"কী চাও আমার কাছে?
ব্যর্থ স্বার্থপর প্রেম? দাম্পত্যের শবদেহ পাহারা?"

রাজকন্যে, মানে ঝুমঝুমি খায় দায়, ঘর গোছায়। স্বপ্নও দেখে বৈকি! তবে সে এখন জানে, স্বপ্নরা রঙিন হয় না। স্রেফ সাদা-কালো। সে তাই সাদা -কালো স্বপ্ন দেখে। এ বরং সহজ। হরেকরকম রং চড়ানোর ঝুটঝামেলা নেই। ঠিক কেমন সে জীবন?

"চাঁদের কপালে চাঁদ, ঘড়ি বয়ে চলেছে নদীতে 
  তারার পিছনে তারা, ঘড়ি বয়ে চলেছে নদীতে 
সূর্যের পিছনে সূর্য ঘুরে পড়ে গেল নদীখাতে 
আমরা নদীর তীরে বসে থাকি, কাদা-মাটি হাতে"

সবই চলছে ঠিকঠাক। শুধু ঝুমঝুমির কেমন যেন… শরীর চললেও মন থম মেরে পড়ে থাকে।
– ও মন, চল… বেড়াতে যাবি?
– দূর হ' পোড়ারমুখী! একা একা ঘুরতে যাব? 
– আগে তো একাই যেতিস! 
– তখন নিজের ওপর ভরসা ছিল। এখন কী সেই জোশ আছে আমার? যদি হারিয়ে যাই! 
– সঙ্গে কাউকে নে। এই ধর খাজাঞ্চিমশাই।
– হাসালি বাপু! তার কি সময় আছে?
– তাহলে একটা সাথীর যোগাড় কর! না বেরিয়ে বেরিয়ে তুই তো দম আটকে মরবি কোনদিন! 
– তুই তো হুজুগ তুলে দিয়েই খালাস। লোক পাই কই?
– নফর রাখবি? 
– সে তো ঢের টাকা লাগবে। আমি কি রোজগার করি?
– কিচ্ছু নেই তোর? একেবারে কিচ্ছু না?
– একটা অদ্ভুত কড়ি আছে। ধবধবে সাদা। তাতে দুটো কালো কুচকুচে ফুটকি। নুলিয়া দিল। বলল, কানাকড়ি।
– ঐটে নিয়েই চল! দেখি কাকে পাই।

"করো আনন্দ আয়োজন করে পড়ো
লিপি চিত্রিত আঁকাবাঁকা পাহাড়ের সানুতলে 
যে একা ঘুরছে, তাকে খুঁজে বার করো…"

তা নফর জুটল একটা। কী করে যে জুটল, ভগবানই জানে! এ ব্যাটার কেউ কোত্থাও নেই। দু'টি খাবে, যা দেবে পরবে, আর " ছিচরণের" দাস হয়ে থাকবে। 

মনের তো আজন্মের সন্দেহবাতিক। সে আজকাল স্বপ্নে থাকে কম, সন্দেহে বেশি। 

– এই, তুই ঠিক থাকবি তো? আমার কাছে?
– থাকব গো থাকব। আমাকে রেখেই দেখো! তোমার 'আশ্রয়' ছেড়ে যাব কোথা?
– না গেলেই মঙ্গল! তবে আমার কাছে থাকবে আর তলে তলে অন্য মালকিনের খোঁজ করবে, ওটি চলবেনি বাপু। তাহলে সেই দণ্ডে বিদেয় করে দেব।
– না না ছিঃ!

এই মস্ত একহাত লম্বা জিভ কাটল নফর। মনের ভেতরের ঘূণপোকা কুটকুট করে জানান দিল…

– রেখেই দাও!

নফর বহাল হল। ঝুমঝুমির মন খুশি। ঝুমঝুমি খুশি। খাজাঞ্চিবাবু খুশি নয়। সে এই ঝুমঝুমির সংসারে অন্য লোকের ঘুরঘুর করা দু'টি চক্ষে দেখতে পারে না। তা সে হোক না কেন নফর! রোজ ঠারেঠোরে কথা শোনায় রাজকন্যেকে। নফরকে দূর করে দিলেই তো হয়। কিন্তু রাজকন্যে পারে না। তার এই কদিনে একা থাকার অভ্যেসটি চলে গেছে।

নফর তার অভ্যেস খারাপ করে দিচ্ছে রোজ রোজ। রাজকন্যের চোখে এখন নতুন চশমা। কে জানে কোন দোকান থেকে নফর তাতে রামধনু কাচ লাগিয়ে এনেছে। ফলে রঙিন স্বপ্ন। ওই ঝিনুকের বটুয়া এখন খালি। সব ঝিনুকগুলোকে রং মিলিয়ে সাজিয়ে তাতে রেশমি ঝিলিমিলি ফাঁস পরিয়ে কী সুন্দর খুদে ঝালর বানিয়ে দিয়েছে নফর। ওই ঝালরের ফাঁকফোকরে চশমা পরা চোখ রাখলে ক্যালাইডোস্কোপ।

"এক পৃথিবীর একশোরকম 
স্বপ্ন দেখার 
সাধ্য থাকবে যে রূপকথার –
সে রূপকথা আমার একার।"

আতরের শিশিগুলো এতদিন তো খালিই পড়ে ছিল। সেগুলোতে কী আশ্চর্য উপায়ে নানা রকম ধূপের ধোঁয়া বন্দী করেছে নফর। কোনটা জুঁই, কোনটা বেল, কোনটা চন্দন..ছিপি না খুললেও চলে। দু'হাতের মুঠোয় ধরে চোখ বুজে শ্বাস নাও শুধু..ব্যস!

আর ওই দলাপাকানো চিরকুটগুলো? মেঝেতে থেবড়ে বসে খুব মায়া নিয়ে সাবধানে পাট পাট করে সাজিয়ে নেয় নফর। তারপর কোলাজ বানায় মাপে মাপে কোণ মিলিয়ে। চিবুকে আঙুল ঠেকিয়ে বসে বসে দেখে তার মালকিন। দেখতে দেখতে কেমন অন্যরকম ছবি হয়ে যায়… তারপর চীনে লন্ঠন! ভেতরে জ্বালানো যায় সুগন্ধী এক মোমবাতি, কাগজ পোড়ে না… মোম খরচ হয় না… শুধু ঝিলমিল আলো।

টনক নড়ে ঝুমঝুমির।

– এই যাঃ, আমার সব চিরকুট খরচ হয়ে গেল। সব ঝিনুক। সব শিশি। আমার লাল বটুয়াগুলো বেবাক খালি।

নফর হাসে। এত দিন হয়ে গেল… এতগুলো দিন… মালকিন আর নফরে এখন সখ্য হয়েছে বেশ। নফর আর আপনি আজ্ঞে করে না। মালকিন রাগ করে তাহলে। নফর বলে,

– এ কখনও খালি হয় গো? তুমি দু'হাতে কুড়োবে ঝিনুক কত, গোপন স্বপ্ন লিখবে একশ' হাজার চিরকুটে, কাটগ্লাসের শিশি থেকে খানদানী আতর মাখবে কানের লতিতে, বিনুনির নীচে যেখানে সেদিন উঁকি মারছিল একটা লাল টুকটুকে তিল… কী সুন্দর! ঝিনুক উপচে পড়লেই আমি বুনে দেব ঝালর, স্বপ্ন -চিরকুট দিয়ে একের পর এক চীনে লন্ঠন… কত আলো… কত আলো…

– আমি চাইলে আকাশের চাঁদ এনে দিবি?
– দেব! 
– কবে?
– ঠিক দেব। সময় হলে। তুমি চাও?
– হুঁ।

রাজকন্যের জন্মদিন। খাজাঞ্চিবাবু বড় ব্যস্ত। তার সময় নেই। সে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে ফুলের দোকানে, মিষ্টির দোকানে, গয়নার দোকানে। ঠিকঠাক সব এসে যায় না চাইতেই। নিয়মমাফিক দাম্পত্য। নিয়মমাফিক লেনদেন।

"হ্যাঁ, একে শেকল বললে শেকল, বেড়ি বললে বেড়ি 
 কিন্তু একে ভাঙা বা ছেঁড়া যায় না
 না, একে ঠেলে ফেলে দেওয়া যায় না নদীতে
না, একে রেখে আসা যায় না রাস্তায় 
বা অপরের ঘরে 
একে গুমখুন করা যায় না 
এর হাতে অন্ধকার বাগান, এর চোখে ভুলভুলাইয়া…

…….একে মাটি চাপা দেওয়া অসম্ভব, আড়মোড়া ভেঙে 
এ কবরের মধ্যে উঠে বসবে 
চিতা থেকে উঠে দেখা করতে আসবে সারা গায়ে আগুন দিয়ে…" 

রাজকন্যে বসেছিল পালঙ্কে। খোলা চুলে, শুকনো মুখে, ভিজে চোখে। এই ফুল, মিষ্টি, শাড়ি, গয়না…। তার যে দম বন্ধ হয়ে আসে! নফর… কোথায় গেলি তুই? সকাল থেকে নিখোঁজ! চলে গেল? অন্য কোথাও? উফ, দূর করে দেব ঠিক! 

এই তো! 

– এতক্ষণ ছিলি কোথায় হতভাগা? না বলে কয়ে কোথায় গিয়েছিলি? কোন চুলোয়? জানিস না, আমার চিন্তা হয়? 

নফর হাতের মুঠি খুলল। ঠিক বুড়ো আঙুলের নখের মাপে একটা ঝিকমিকে পাতলা রুপোর পাত। কী অদ্ভুত দেখতে! 

– কী এটা?
– আকাশের চাঁদ। তোমার জন্য। আমার মায়ের দেওয়া রুপোর তাবিজ ছিল একটা। সেইটা গলিয়ে যেটুকু রুপো হল..তাই দিয়ে। আজ যে জন্মদিন তোমার!

– ও… দেখি দেখি… বাঃ! কিন্তু… ও মা, দু'পিঠে দুটো খুদে ছবি আঁকা। এগুলো কীসের?

– নজর করে দেখো। দুটোই তুমি। এক পিঠে তুমি… দুঃখী মুখে… তোমার প্রভু খাজাঞ্চিমশাই। অন্য পিঠে তুমি ঝলমল করছ। তুমি তখন সত্যিকারের রাজকন্যে। আমি যার ক্রীতদাস! আর..এ বড় মজার চাঁদ। ম্যাজিক লন্ঠনের আলোয় ধরলে যেদিকে দুঃখী ঝুমঝুমি, সেদিকে সব সময় অন্ধকার থাকবে… দেখাই যাবে না… আর যেদিকে রাজকন্যে… সেদিকটা সাতরাজার ধন মাণিক… আলো পড়লেই… ঝিকমিক ঝিকমিক… তাই…

"আজ নয় অন্ধকার, আজ নয় দূরত্বপাথর
আজ নয় দগ্ধলেখা, নয় মাথা ঠোকার দেওয়াল 
নয় পাপ, স্বীকারোক্তি, কান্না, অনুশোচনার ঘর 
নয় বুকভাঙা কাম, শোকে তেতে ওঠা লৌহজল

আজ শুধু খোলা চাঁদ, আজ শুধু তারা চোখে পড়া 
একা উদযাপন আজ,
      একাকী দ্বিশত পূর্ণ করা!"

নফর ছিল না ঘরে আর।

রাজকন্যে ছটফট করছিল। রাজকন্যে সন্ধে হবার অপেক্ষায় ছিল। রাজকন্যে চীনে  লন্ঠনের ভেতরের ওই জাদু -আলোর  জন্য  মনে মনে অস্থির হয়ে উঠছিল। আর বাইরে ততক্ষণে…

''এখন থেমেছে বৃষ্টি। এখন এ-ঘর থেকে উঠে গেছে সেও।
শুধু, ফিরে আসছে হাওয়া। শুধু, এক অক্ষমের চোখের মতন 
মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে টেবিলের তলার লন্ঠন।"

কবিতা -ঋণ (ব্যবহারের ক্রমানুযায়ী )

১. "সেই মেয়েটির কাছে সন্ধ্যাতারা আছে" / শ্রাবণ 
২. "দুজনে নিবিড় হয়" / সন্ধ্যাফেরি
৩ . "সে কোন নতুন দেশ ভ্রমণ করেছে" / অঙ্গার দরোজা
৪ . "এই মাত্র মেঘ ছিল "/ শ্রীচরণকমলেষু (৭ )
৫. " সে বলে সমস্ত ভেঙে"/ প্রেমে পড়া মেয়ে 
৬. "কী চাও আমার কাছে "/ কী চাও আমার কাছে 
৭. "চাঁদের কপালে চাঁদ"/ আমরা এই তীর থেকে 
৮. " করো আনন্দ, আয়োজন ক'রে পড়ো "/ হৃদি ভেসে যায় 
৯. ''এক পৃথিবীর একশোরকম স্বপ্ন দেখার"/  মেঘবালিকার জন্য রূপকথা 
১০. "হ্যাঁ, একে শেকল বললে শেকল"/ সে 
১১. "আজ নয় অন্ধকার"/ শুভরাত্রি-লেখা মেঘ (১০ )
১২ . "এখন থেমেছে বৃষ্টি" / একটি বৃষ্টির সন্ধ্যা 

[আজ ১০ ই নভেম্বর। ঘাসফুলের কবি জয় গোস্বামীর জন্মদিন। তাই আজকের লেখা। এবং গঙ্গাজলে গঙ্গা পুজো । কারণ অংশ-কবিতার ঋণ : জয় গোস্বামী ]

Developed by DXDasia