কলকাতা চায়নাটাউনের ‘ডন’

ইন্দো-চীন যুদ্ধের সময় রাজস্থানের ক্যাম্পে বন্দিও থাকতে হয়েছিল তাঁকে

ডন। শব্দটি শুনতেই মনে হয় অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকা বা অনেক খুন করা অপারাধীকে। কিন্তু এই ডন অপরাধী বা খুন করেনি। জীবনে চলার পথে আগত প্রতিটি কঠিন থেকে কঠিন দিনের সঙ্গে নির্ভীকভাবে যুদ্ধ করেছেন। এই ডন হলেন কলকাতার চায়নাটাউনের গ্র্যান্ডমাদার মনিকা লিউ। তবে সকলের কাছে পরিচিত ‘ট্যাংরা ডন’ নামে।

মনিকা চায়নাটাউনের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। একটা ছোট হোটেল দিয়ে জীবনের যুদ্ধ শুরু করে আজ কলকাতার পাঁচটি হোটেলের মালিক তিনি। কিন্তু এই ঐশ্বর্য-এর মালকিন হওয়ার পথ কিন্তু সহজ ছিল না। দারিদ্র্য, ভাগ্যবিপর্যয় ও প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে তাঁকে অনবরত। আজ তিনি চায়নাটাউনের সুপারউওমেন। মনিকা তাঁর প্রথম রেস্টুরেস্ট ‘কিম লিং’ তৈরি করেন ১৯৯১ সালে। ট্যাংরার এই রেস্টুরেন্টে একদল অপরাধী উৎপাত শুরু করে। অপরাধীদের মনিকা ও পরিবারের লোককে হুমকি দিতে থাকে বিনাপয়সায় খাবার দিতে হবে। তা না হলে হোটেল বন্ধ করে দেবেন।

 

তবে এই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি মনিকার জীবনে প্রথম নয়। এই যুদ্ধ তাঁর শুরু হয়েছিল ১৯৬২ সালের ইন্দো-চীন যুদ্ধের সময় থেকে। ইন্দো-চীন যুদ্ধের সময় কলকাতার চায়নাটাউনের সব চাইনিজকে ধরপাকড় করে রাজস্থানের দেওলি ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এইভাবে পাঁচবছর বন্দিদশা কেটে যায়। অবশেষে লিউ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভারত সরকারের কাছে চিঠি পাঠান। শেষমেশ বন্দিদশা কাটিয়ে কলকাতার ফিরে আসেন লিউ ও তাঁর পরিবার।

 

কিন্তু কলকাতায় এসে নানা অসুবিধায় পড়েন তাঁরা। লিউ ও তাঁর পরিবার ঠিক করেন, মোমো করা শুরু করবেন। সবাই মিলে মোমো তৈরি করে রাস্তার ধারে বিক্রি করতেন। মোমো বিক্রি দিয়ে শুরু করে, ধীরে ধীরে হোটেলের ব্যবসায় প্রবেশ। আজ এই ব্যবসা অন্যমাত্রা পেয়েছে। রাস্তার মোমোর হোটেল থেকে শুরু করে আজ পাঁচটি হোটেলের মালিকিন তিনি। হোটেলগুলি হল- ট্যাংরা বেজিং, কিম লিং রেস্টুরেস্ট, পার্ক স্ট্রিটের টুং ফঙ্গ, শরৎ বোস রোডের ম্যানডারিন, লেক এভিনিউ-র ম্যানডারিন।

Post Tags
Developed by DXDasia